মুষ্টি চালে পুষ্টি খাবার ক্যাম্পেইন
চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের চাঁদায়, অসহায়রা খেয়ে ঘুমায়

মোঃ তাইফুল খানঃ ‘ছাত্রলীগ চাঁদা চেয়েছে, চাঁদা না পেয়ে মারধর করেছে’- এমন শিরোনাম হরহামেশায় আসে পেপার পত্রিকায়। এবারও চাঁদা তুলছে ছাত্রলীগ। চাঁদা হিসেবে কেউ দিচ্ছে ২ কেজি চাল, কেউ ১ কেজি ডাল, কেউবা আধা কেজি পিঁয়াজ। চাঁদা তুলে দেয়া হচ্ছে প্রাপ্তির রশিদও। নিশ্চয়ই ভাবছেন এ কোন কলির কাল। এমন দূর্যোগেও এতটা অমানবিক! তবে ভুল ভাঙালো চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ। করোনা ভাইরাসের থাবায় উঁপোষ থাকা ছিন্নমুল অসহায় মানুষেদের একবেলা খাবার জোগাতে তারা শুরু করেছে ‘ মুষ্টি চাল, পুষ্টি খাবার’ ক্যাম্পেইন। এই ক্যম্পেইনে সংগঠনটির কর্মীরা নিজেদের দৈনন্দিন

ছাত্রলীগের এ কার্যক্রমে এগিয়ে এসেছে সাবেক ছাত্রলীগ নেতারাও

খরচ থেকে খানিকটা বাঁচিয়ে, টিউশনির বেতনের সঞ্চিত অর্থে সাধ্যমত শুকনো খাদ্য সামগ্রী ক্রয় করে জমা দিচ্ছে সংগঠনটির কোষাগারে। স্বচ্ছতার জন্য খাদ্য সামগ্রী গ্রহন করেই দেয়া হচ্ছে

এক ছাত্রলীগ নেতার পাঠানো খাদ্য সামগ্রীর রশিদ

প্রাপ্তি রশিদ। প্রতিদিন বিকেল পেরোনোর পরপরই শুরু হয় নেতাকর্মীদের দেয়া খাদ্য সামগ্রী রান্না প্রক্রিয়া। রান্না শেষে করা হয় প্যাকেট। সন্ধ্যার

বিতরনের জন্য খাবার প্যাকেট করছে স্বেচ্ছাসেবীরা

পরপরই নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবী হয়ে এসব রান্না করা খাবারের প্যাকেট পৌছে দেয় ফুটপাত/পার্কে ক্ষুধায় কাঁতরানো ছিন্নমুল মানুষদের কাছে।

বিতরণের জন্য খাবার নিয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের যাত্রার চিত্র

এভাবেই ছাত্রলীগের কর্মীদের পৌছানো খাবারে হাঁসি ফুটছে চট্টগ্রামের হাজারো অসহায়ের মুখে।

‘এই বাঙ্গালী জাতির জন্মলগ্ন থেকে যে কোনো দূর্যোগ মহামারীতে ছাত্ররাই অগ্রগন্য ভূমিকা পালন করেছে’- ছাত্রদের নিয়ে অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধুর লেখা এমন মন্তব্যই এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের মূল সঞ্জীবনী শক্তি বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহাম্মেদ ইমু।

ইমু বলেন- করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে সংক্রমনের পর থেকে সরকারের ভূমিকা প্রশংসনীয়। সরকারী দলের সহযোগী ছাত্র সংগঠন হিসেবে আমরা ছাত্রলীগ শুরু থেকে দেশের মানুষের পাশে ছিলাম। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের প্রত্যেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমরা অনুরোধ বার্তা পাঠিয়েছি, যেন তারা শিক্ষার্থীদের উপর টিউশন ফি’র জন্য অমানবিক আচরণ না করে৷ এছাড়াও যেসব শিক্ষার্থীরা ব্যাচেলর/মেসে থাকে তাদের মেস ভাড়া দিতে অসুবিধা হলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করার আহবান জানিয়েছি। মূলত, এসব প্রোগ্রামের ধারাবাহিকতায় ক্ষুধায় ধুঁকতে

স্বেচ্ছাসেবী হয়ে নিজেই খাবার প্যাকেট করতে সহায়তা করছেন নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমু

থাকা শহরের অসহায় মানুষদের মুখে আহার তুলে দেয়ার মহৎ উদ্দেশ্যে ‘মুষ্টি চাল, পুষ্টি খাবার’ নামে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন শুরু করা হয়। গত ১৪ ই মে থেকে এ কার্যক্রম চলছে। প্রতিদিন আমাদের নেতাকর্মীদের দেওয়া খাদ্য সামগ্রী রান্না করে আজ

স্বেচ্ছাসেবী হয়ে খাবার রান্নায় সহায়তা করছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা

(২৩ মে) পর্যন্ত ৯ হাজার অসহায়ের মুখে খাবার তুলে দিতে সক্ষম হয়েছি।

আরো ৬-৭ দিনের শুকনা খাদ্য সামগ্রী মজুদ রয়েছে এমন তথ্য দিয়ে শহর ছাত্রলীগের এই শীর্ষ নেতা আরো বলেন- কোষাগারে নেতাকর্মীরা প্রতিদিন রান্নার প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠাচ্ছে।তারাই এ মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। একদিকে যেমন খাদ্য সামগ্রী দিচ্ছে অন্যদিকে রাঁধুনিকে রান্নায় সহায়তা করছে আবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বেচ্ছাসেবী হয়ে রান্না করা খাবার নিয়ে যথাসময়ে ছুটে চলছে শহরের অলিতে গলিতে

অসহায় মানুষের ঘরের দরজায় ছাত্রলীগের খাবার

অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে। এই খাদ্য বিতরণ কর্মসূচী কতদিন চলবে এমন প্রশ্নের জবাবে, নেতাকর্মীরা যতদিন চাইবে এ কর্মসূচী ততদিন চলবে- যোগ করেন ইমু।

একই সাথে এ মানবিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রাখা নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) জাকারিয়া দস্তগীর বলেন- এই কর্মসূচীতে আমি আর আমার সভাপতি শুধু উদ্যোগটা নিয়েছি আর তদারকি করছি বাকীটুকু আমাদের নেতাকর্মীদের

রাতের আঁধারে ঘুরে ঘুরে অসহায়দের মাঝে খাদ্য বিতরণ করছেন জাকারিয়া দস্তগীর

ডেডিকেশন। তাই আমি নেতাকর্মীদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাদের সহযোগীতায় এ

স্বচ্ছতার জন্য প্রতিদিন প্রকাশ করা হয় গ্রহনকৃত খাদ্য সামগ্রীর পরিমাণ

কর্মসূচি হাজারো ক্ষুধার্ত ক্লিষ্ট বদনে হাঁসি ফুটাবে, এসময় এমন আশাবাদও তিনি ব্যক্ত করেন।

এছাড়াও চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের এ মানবিক কার্যক্রমকে প্রশংসার জোয়ারে ভাসিয়েছেন মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম আর আজিম। তিনি বলেন- করোনা সংক্রমণে সারা বিশ্ব এখন কঠিন সময় পার করছে। আমরা যারা জনগনের সেবার উদ্দেশ্যে রাজনীতি করি তাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ সামর্থ্যে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাড়ানো। সেই জায়গায় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ নিজেরা উদ্যোগী হয়ে প্রতিদিন শত শত অসহায়ের মাঝে খাবার বিতরণ করছে যা অবশ্যই প্রশংসার দাবীদার। তাদের প্রতি আমার পরামর্শ থাকবে খাবার বিতরণে তারা যেন সতর্ক থাকে, যাতে প্রকৃত অসহায়ের কাছে এ খাবার পৌছায়।

ব্যতিক্রমী এ কার্যক্রমের মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ তার অতীত গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের পথে হাঁটছে এমন মন্তব্য করে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ সালাউদ্দীন বলেন, তারা মেধাভিত্তিক মানবিক ছাত্ররাজনীতির চর্চা করছে এটা আমাদের জন্য গৌরবের। প্রতিদিন নগরজুড়ে অসহায় মানুষের আহারের ব্যবস্থা করে একদিকে তারা যেমন ইতিবাচক ছাত্র রাজনীতির বার্তা দিচ্ছে একইসাথে দলের সুনাম বৃদ্ধি করেছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুকরণে গণমানুষের পাশে থাকায় ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি মহানগর ছাত্রলীগকে সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে থাকার আহবান জানান।

বিএম