কিট সংকট কাটলো চট্টগ্রামে কমেনি নমুনা জট

বাংলাদেশ মেইল ::  

আপাতত অবসান হলো কিট সঙ্কটের। নয় হাজার কিট পেল চট্টগ্রামের চার ল্যাব- বিআইটিআইডি, ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে একই কিট দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে দুটি নমুনা। নতুন পাওয়া কিট দিয়ে আগামী দুই সপ্তাহ নমুনা পরীক্ষা করা যাবে৷

চট্টগ্রামে কিটের অভাবে নমুনা পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম হয়। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান  চৌধুরী নওফেল এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৃস্টি আকর্ষণ করেন। রবিবারের মধ্যে কিট চট্টগ্রামে পৌছে দিতে অনুরোধ জানান তিনি। রবিবারের মধ্যে কিট না পেলে সোমবার থেকে বন্ধ হয়ে যেতো চট্টগ্রামের করোনা পরীক্ষা। কিট সঙ্কটের কারণে গত কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রামে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কমে গিয়েছিল। গত শনিবার মাত্র ৫৯০ নমুনা পরীক্ষা হয়েছে । এর আগে গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার পরীক্ষা হয়েছিল ১০৯৩টি নমুনা, এর আগে বুধবার হয়েছিল ৯৭১টি, মঙ্গলবারে ৯৯৯টি, সোমবারে ৯২৬টি এবং রোববারে ১০৪৯টি নমুনার। কিন্তু কিট কমে যাওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কমে আসে। তবে সোমবার থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

জানতে চাইলে বিআইটিআইডি ল্যাব প্রধান ডা. শাকিল আহমেদ বলেন, ‘আমরা তিন হাজার কিট পেয়েছি। যেহেতু একটি কিট দিয়ে দুটো নমুনার পরীক্ষা করছি সেই হিসেবে ছয় হাজার নমুনার পরীক্ষা করা যাবে। আমরা প্রতিদিন গড়ে ৩০০ নমুনা পরীক্ষা করে থাকি।’
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব ইনচার্জ প্রফেসর ড. জুনাদে সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা দুই হাজার কিট পেয়েছি। এতে চার হাজার নমুনার পরীক্ষা করা সম্ভব।‘
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবের ইনচার্জ প্রফেসর মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দুই হাজার কিট পাওয়ার কথা রয়েছে। যেহেতু এখনো ল্যাবে এসে পৌঁছেনি তাই বলতে পারছি না।’
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবের ইনচার্জ ডা. আবুল কালাম বলেন, আমাদের ল্যাবে এখনো কিট পৌঁছেনি। তবে দুই হাজারের মতো কিট পাওয়া গেছে বলে শুনেছি।’

কিট সংকট আপাতত কাটলেও  চট্টগ্রামে করোনভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় জটের কোন সুরাহা হয়নি।   ১৫ থেকে ২০ দিন পরও মিলছে না নমুনা পরীক্ষার ফল। অথচ সংক্রমণ প্রতিরোধে বেশি বেশি নমুনা পরীক্ষা ও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল দেওয়ার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। চট্টগ্রামে পরীক্ষা ছাড়াই প্রতিদিন পড়ে থাকছে ৬০০ থেকে ৮০০ নমুনা। বর্তমানে বেশ কয়েকদিন আগে সংগ্রহ করা প্রায় পাঁচ হাজার নমুনা পড়ে আছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ল্যাবে। অগত্যা করোনা পজিটিভ রোগীদের দ্বিতীয় পরীক্ষাও বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। অনেক নমুনা আবার হারিয়েও যাচ্ছে। এভাবে কভিড-১৯-এ দেশের দ্বিতীয় ভয়ংকর হটস্পট চট্টগ্রামে নমুনা পরীক্ষা নিয়ে চলছে একপ্রকার তামাশা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেরিতে নমুনা পরীক্ষা হলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

জট কমাতে গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম থেকে তিন হাজার নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এসব নমুনার বেশকিছু হারিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে কয়েক দফায় আরও কয়েক হাজার নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে এতকিছু করেও নমুনা জট কমাতে ব্যর্থ হচ্ছে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য প্রশাসন।

চট্টগ্রামে সরকারি চার ল্যাবের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে সাড়ে তিন হাজার টাকা ফি এর বিনিময়ে দুটি ল্যাব করোনা পরীক্ষা করছে। ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ও শেভরন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করোনা পরীক্ষা হচ্ছে।