মিরসরাইয়ে কৃষি জমি অধিগ্রহণ না করার দাবিতে কৃষক শ্রমিকদের মানববন্ধন

বাংলাদেশ মেইল::

কামরুল হাসান: মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবশিল্প নগরে ) তিন ফসলি কৃষি জমি অধিগ্রহণ না করার দাবিতে মানববন্ধন কৃষক শ্রমিক সহ সর্বস্তরের জনগণ।

উপজেলার ১১নং মঘাদিয়া, ১৩নং মায়ানী ও১৬নং সাহেরখালী ইউনিয়নে প্রায় শতাধিক মানুষ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় কাজিতালুক এলাকায় (সিপির দক্ষিণ পাশে) এক মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনশেষে জানানো হয় আগামীকাল বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধ্যমেপ্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবেন।

স্থানীয় মাইনুল হোসেন রোকনের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে মঘাদিয়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুর হোসেন বলেন, ৩০ হাজার একর জমি নিয়েবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।যেখানে প্রাথমিক কাজ চলমান রয়েছে।

২০১৮ সালের ২৪ জানুয়ারী মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষি জমিতে শিল্পকারখানা না করার জন্য নির্দেশনা দেন। তাঁর নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে ২০১৮সালের ৭ মার্চ দক্ষিণ মঘাদিয়া মৌজার ৭০০ একর আবাদী তিন ফসলী জমিবেড়িবাঁধের ভিতরে এল.এ কেস নং ১৩/২০১৭-২০১৮ ও ৯/২০১৮-২০১৯ অধিগ্রহণেরনিমিত্তে ৪ (১) ধারার নোটিশ জারি করা হয়।

পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ২০ মার্চউক্ত নোটিশের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে আমরা আপত্তি জানালে ২০১৯ সালের৬ মার্চ শুনানী হয়। ২০১৯ সালের ৩ এপ্রিল ,মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলেরএকটি অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী কৃষিজমিতে কোন স্থাপনা না করার জন্য পুনরায় নির্দেশনা দেন।উক্ত মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন ভোক্তাভোগী কৃষক , রহিম উল্লাহ, আবুছালেক মাষ্টার, হুদা মিয়া, মাইনুল আহসান রোকন, রবিউল হোসেন, আকলিমাআক্তার, মরিয়ম আক্তার সহ প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ শিল্পাঞ্চল বঙ্গবন্ধু শেখমুজিব শিল্পনগর স্থাপনের উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের দক্ষিণ মঘাদিয়া মৌজাএলাকার প্রায় ৩০ হাজার একর অকৃষি জমি এই অঞ্চলের মানুষ দিয়ে থাকে। তখনপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন কোন প্রকার আবাদী জমি বা কৃষি জমিঅধিগ্রহণ করা হবে না। কিন্তু গত কিছুদিন আগে দক্ষিণ মঘাদিয়া মৌজার৭০০ একর তিন ফসলী জমি অধিগ্রহণের নোটিস জারি করা হয়।

বক্তারা আরো বলেন, কৃষিনির্ভর এলাকার এসব জমি কৃষকদের একমাত্র উপার্জনেরউৎস। উপজেলার অন্যান্য এলাকার চেয়ে এই তিন ইউনিয়নের কৃষি জমিতেধানসহ অন্যান্য ফসল বেশি উৎপাদন হয়ে থাকে। প্রতি বছর এই কৃষি জমিতেদুই থেকে তিন বার ফসল আবাদ করে এলাকার কৃষকরা জীবিকা নির্বাহ করেথাকে। এই জমি অধিগ্রহণ করা হলে কৃষকরা না খেয়ে মরবে। তাই কৃষকদের জমি অধিগ্রহণ না করার জোর দাবি জানানবক্তারা। এক জমির মালিক আমিনুল হক (৭০) অশ্রু মুখে বলেন বাব-দাদার সম্পত্তি রক্ষাকরার জন্য প্রয়োজনে জীবন দিয়ে দিব তবুও এক ইঞ্চি জমিও দিবোনা ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রহুল আমিন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘কৃষকদের মানববন্ধনের বিষয়ে আমি জেনেছি। তাই বিষয়টি যথাযথ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে সেই অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহন করবো’।