ভ্যাটিক্যানকে বিপুল অর্থ দেয় চীন

বাংলাদেশ মেইল:: সরকারের পাশবিকতার বিরুদ্ধে মুখ বন্ধ রাখতে চীনের ক্ষমতাসীন চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে ভ্যাটিকানকে বছরে প্রায় দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেয়া হয়। এমন অভিযোগ করেছেন চীনের নির্বাসিত রাজনীতিক এবং ব্যবসায়ী গুও ওয়েঙ্গেই। সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি এমন অভিযোগ করেন।

গুও বলেন, চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি বিদেশীদের অভিযোগ থেকে বাঁচতে ভ্যাটিকান, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, অস্ট্রেলিয়াকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেয়।

চীনের নির্বাসিত রাজনৈতিক কর্মী এবং ব্যবসায়ী গুও ওয়েঙ্গেই’র বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্রেইটবার্ট নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভ্যাটিকানকে প্রতি বছর ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ প্রদান করে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি। যাতে চীন সরকারের নির্যাতন এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের বিষয় নিয়ে মুখ বন্ধ রাখা হয়।

ভ্যাটিকান ইতালির রোম শহরের ভেতরে অবস্থিত স্বাধীন রাষ্ট্র রোমান ক্যাথলিক গির্জার বিশ্ব সদর দফতর হিসেবে কাজ করে।গুও এর আগেও অভিযোগ করেছিলেন যে ‘বিজিওয়াই’ নীতি দিয়ে বিশ্বে প্রভাব বিস্তার করতে চায় চীন। ওই নীতি দ্বারা মূলত চীন ইন্টারনেট, অর্থ এবং যৌনতা দিয়ে বিশ্বে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন গুও।

ব্রেইটবার্টের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে চীনের সরকার ‘বিজিওয়াই’ নীতি প্রয়োগের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আর ওই নীতির আওতাতেই বিশ্বের অনেক দেশকে চীন বিপুল অর্থ প্রদান করছে।

গুও জানান,বিজিওয়াই নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ রাখে চীন। অস্ট্রেলিয়ার জন্য এমন বরাদ্দ রাখা হয় বলেও জানান চীনের নির্বাসিত রাজনীতিক। এ বিষয়ে গুও বলেন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য রয়েছে।

আগে বিজিওয়াই নীতির জন্য ১ শতাংশ বরাদ্দ ছিলো অস্ট্রেলিয়ার জন্য যা এখন বেড়ে পাঁচ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে চীনের একজন ক্যাথলিক বিশপের নিয়োগের জন্য ভ্যাটিকানকে গোপনে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ দিয়েছিল চীন।

এ বিষয়ে ভ্যাটিকানের সাংবাদিক জন এল অ্যালেন জুনিয়র বলেন, কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য চীনকে আকৃষ্ট করতে কোনো চেষ্টাই বাদ রাখেনি ভ্যাটিকান। চীনের সঙ্গে সম্পর্কের লোভ রয়েছে ভ্যাটিকানের। প্রায়ই ভ্যাটিকান চীনের দোষ এড়িয়ে যায় সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য।