সারাদেশে করোনায় ৪২ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩১১৪

বাংলাদেশ মেইল :: 

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। ৮ মার্চ প্রথম করোনা শনাক্তের পর শুক্রবার  ১১৮ তম দিনে এ সংখ্যা ছাড়াল দেড় লাখ।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৩ হাজার ১১৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। দেশে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৯১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। গত একদিনে করোনায় ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৯৬৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৬০৬ সহ সুস্থ হয়েছেন ৬৮ হাজার ৪৮ জন। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে শুক্রবার  অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান।

বুলেটিনে জানানো হয়, দেশে ৬৩ টি পরীক্ষাগারে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৭৮১ টি। আগের নমুনাসহ পরীক্ষা হয়েছে ১৪ হাজার ৬৫০ জনের। এখন পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৮ লাখ ১৭ হাজার ৩৪৭টি নমুনা। পরীক্ষার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ২৬ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৩ দশমিক ৫১ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৬ শতাংশ।

নাসিমা সুলতানা জানান, যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ এবং ১০ জন নারী। হাসপাতালে মারা গেছেন ৩১জন এবং বাসায় ১১ জন। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৮ জন, চট্টগ্রামে ১০ জন, বরিশালে এক’জন, রাজশাহী ৩ জন ও খুলনায় ৩ জন , রংপুরে চারজন, সিলেটে তিনজন  রয়েছেন।

নাসিমা সুলতানা বলেন, যে স্থানে নমুনা সংগ্রহ করা হবে, সেখানে রসিদের মাধ্যমে ফি নেয়া হবে। এরপর তা সরকারি কোষাগারে জমা হবে। তবে স্বাস্থ্য অধিদফতর একটি অ্যাপ তৈরি করছে। সেটা হলে অ্যাপের মাধ্যমে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে। তবে দরিদ্র রোগীদের ক্ষেত্রে ফি মওকুফ থাকবে। তিনি আরও বলেন, অনেকে সুস্থ হওয়ার পরে কাজে যোগ দিতে অসুবিধা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তির করোনাভাইরাসের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলে ১৪ দিন আইসোলেশনে থাকতে হবে। করোনার উপসর্গ চলে গেলে আরও ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকার পর কাজে যোগ দিতে পারবেন। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ সময়টিকে ১০ দিন বলেছে। তবুও অতিরিক্ত সতর্কতা বিবেচনায় আমরা লক্ষণ, উপসর্গমুক্ত হওয়ার পরও ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য বলছি। তাই যারা নিয়োগকারী আছেন, তারা এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা আছেন, তাদের কাজে ফিরতে সহায়তা করবেন। এক্ষেত্রে আর কোনো পরীক্ষার দরকার হবে না।
প্রতি মাসে নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে নাসিমা বলেন, মার্চে নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ৩ হাজার ৬৫টি। এপ্রিলে তা বেড়ে হয় ৬২ হাজার ৮২৬টি, মে মাসে আরও বেড়ে হয় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৯টি। জুনে সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পায়। ওই মাসে পরীক্ষা হয়েছে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ৫৩০টি।