বিএসআরএম কারখানা থেকে তাজা গ্রেনেড উদ্ধার

প্রতিনিধি: মিরসরাইয়ের বিএসআরএম লিমিটেডের কারখানায় রড তৈরির কাচামালের মধ্যে একটি তাজা গ্রেনেড পাওয়া গেছে এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে কারখানা শ্রমিক কর্মচারিরা। গ্রেনেডটি উদ্ধার করে নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
বুধবার ৮ জুলাই বিকালে উপজেলার সোনাপাহাড় এলাকায় বিএসআরএম কারখানা থেকে এই গ্রেনেড উদ্ধার পরবর্তী নিষ্ক্রিয় করা হয় এতে কেউ হতাহত হয়নি।
বিএসআরএম কারখানার জিএম দেলোয়ার হোসেন (মোল্লা) বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কারখানার শ্রমিকরা কাজ করার সময় রড তৈরির কাচামালের মধ্যে গ্রেনেডের মতো একটি বস্তু দেখতে পেলে কারখানায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আমরা বিষয়টি স্থানিয় জোরারগঞ্জ থানাকে অবহিত করি। জোরাগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে গ্রেনেড সনাক্ত করে এবং কাউন্টারটেরোরিজমের সহায়তায় গ্রেনেডটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

জোরারগঞ্জ থানার এসআই সিরাজ জানান, বিএসআরএম এর অফিস থেকে খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রেনেডটি সনাক্ত করে এবং সঙ্গে সঙ্গে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজমকে অবহিত করে। রাতে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা সেটি উদ্ধার করে শ্রমিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে সেটির বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করে।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কমকতা (ওসি) মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বিকেল তিনটার দিকে বিএসআরএম কারখানা থেকে থানায় একটি বোমা পাবার খবর জানানো হয়। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি লোহার রড তৈরির কাঁচামালের মধ্যে একটি গ্রেনেড সদৃশ্য বস্তু বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে আছে। তখন সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউরিটের বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিটকে খবর দিই তারা এসে গ্রেনেডটি উদ্ধার করে রাতে নিষ্কিয় করে।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) পলাশ কান্থি নাথ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জোরারগঞ্জ থানা থেকে খবর পেয়ে বোম ডিসপোজাল ইউনিটিকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হলে তারা সেটি শনাক্ত করে পাশের একটি খালি জায়গায় নিয়ে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গ্রেনেডটি নিষ্ক্রিয় করেছেন। এছাড়া কারখানার ভেতরে আর কোনো গ্রেনেড আছে কিনা তাও দেখা হয়। তবে আর কোনো গ্রেনেড সেখানে পাওয়া যায়নি। পুরো অভিযানটিতে নেতৃত্ব দেন বোম ডিসপোজাল ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া।

তবে এই গ্রেনেড কোথা থেকে এলো এর কোন সঠিক উত্তর কেউ দিতে পারেন নি। বিএসআরএম কর্তৃপক্ষ বলছে জাহাজের স্ক্রাপের সাথে এসেছে এই গ্রেনেড। কিন্তু যে জাহাজ থেকে স্ক্রাপ এসেছে সেই জাহাজে গ্রেনেড থাকার ও কোন যুক্তিকতা নেই।