‘২০২২ সালের মধ্যে ৭০০ কিলোমিটার নতুন পাইপ লাইনে যুক্ত হচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসা’

‘২০২২ সালের মধ্যে ৭০০ কিলোমিটার নতুন পাইপ লাইনে যুক্ত হচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। পরবর্তী ধাপে ১২০০ কিলোমিটার পাইপ লাইন সংযোজনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নতুন লাইনে যুক্ত হবে পুরো নগরী। তখন ২৪ ঘণ্টাই নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যাবে’। বৃহস্পতিবার দুপুরে শেরশাহ চট্টগ্রাম সাংবাদিক কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি এলাকায় পাইপ লাইন সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে রাঙ্গুনিয়ার শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার-২ চালু হলে চট্টগ্রাম ওয়াসায় পানির উৎপাদন আরও ১৪ কোটি লিটার বাড়বে। তখন দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পানির সরবরাহ হলে পানির চাহিদা শতভাগ পূরণ হবে’।
চট্টগ্রাম সাংবাদিক কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির সভাপতি স্বপন কুমার মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ওয়াসার বোর্ড সদস্য মহসীন কাজী, উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) তাহেরা ফেরদৌস বেগম, প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, সচিব শারমিন আলম, প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, এনটিভির চট্টগ্রাম ব্যুরোচিফ শামসুল হক হায়দরী ও সোসাইটির সদস্য সুখময় চক্রবর্তী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সোসাইটির সম্পাদক হাসান ফেরদৌস।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ উন্নয়ন ও স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় সাংবাদিক হাউজিং সোসাইটিতে পানি সরবরাহের জন্য পাইপ লাইন ও রিজার্ভার স্থাপন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহ আরও বলেন, ‘২০০৯ সালে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি সরবরাহ ছিল মাত্র ১৩ কোটি লিটার। নগরবাসী পানি পেত সপ্তায় মাত্র দু’দিন। পানির দাবিতে আন্দোলন করত নগরবাসী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব নেওয়ার পর রাঙ্গুনিয়ায় শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার ও মদুনাঘাটে শেখ রাসেল পানি শোধনার বাস্তবায়নের পর এখন সরবরাহের পরিমাণ ৩৬ কোটি লিটারে পৌঁছে। যা শিগগিরই ৫০ কোটি লিটারে উন্নীত হবে’।
তিনি বলেন, ‘১৯৬৩ সালে ওয়াসা প্রতিষ্ঠা হলেও চট্টগ্রামে স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা ছিল না। দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রামবাসীর এ দাবিও পূরণ হওয়ার পথে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে স্যুয়ারেজ প্রকল্পের জন্য দরপত্র আহবান করা হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম নগরী পুরোপুরি পরিকল্পিত স্যানিটেশনের আওতায় আসবে। নিরাপদ পানির উৎস হালদা ও কর্ণফুলী নদী দূষণমুক্ত থাকবে’।
ওয়াসা ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘বিদ্যমান পাইপ লাইন অনেক পুরনো হওয়ায় পানি সরবরাহ অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। নতুন পাইপ লাইন স্থাপন শেষে সরবরাহ স্থানান্তর হলে পানি সরবরাহ এবং ব্যবহারে নতুন মাত্রা যোগ হবে। তখন পূর্ণমাত্রায় যেমন পানি যাবে’।
অনুষ্ঠান শেষে তিনি ভিত্তি ফলক উন্মোচন করেন। এ সময় মুনাজাত পরিচালনা করেন সোসাইটি মসজিদের খতিব মাওলানা নজরুল ইসলাম আশরাফী।

 

বাংলাদেশমেইলডটিউজ/এসএস