করোনাকালে তদবিরের ঝড়
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে দৌড়ঝাঁপ

বাংলাদেশ মেইল ::

দীর্ঘদিন কমিটি না থাকার কারনে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির। স্থবিরতা কাটাতে ঈদের আগেই চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে যাচ্ছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ।

গতকাল শনিবার (১১ জুলাই) চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের বর্তমান কমিটি নতুন কমিটির বিভিন্ন পদের জন্য ফরম দেয়া শুরু করেছে। গেল দুই দিন ফরম সংগ্রহ করেছেন পদপ্রত্যাশীদের অনেকেই।

দীর্ঘদিন পর হতে যাওয়া আহবায়ক কমিটিতে স্থান পেতে শুরু হয়েছে তুমোল লবিং। কমিটিকে কেন্দ্র করে বিএনপির পুরোনো গ্রুপিংও তুঙ্গে। একসময়ে মহানগরীতে ছাত্রদলের শক্তিশালী অবস্থান থাকলেও এখন ছাত্রদলের কোনো দূশ্যমান কার্যক্রম নেই। একসময় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম আইন কলেজ, পাহাড়তলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, গভর্নমেন্ট কমার্শিয়াল কলেজ, বাকলিয়া শহীদ এন এম জে কলেজ (নোমান কলেজ) ও ব্যারিস্টার সুলতান আহমেদ কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বেশ তৎপরতা ছিল। কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফলও ছিল উল্লেখ করার মতো। কিন্তু সাংগঠনিক স্থবিরতায় এখন কলেজগুলোতে ছাত্রদলে অস্তিত্ব নেই।

সর্বশেষ  ২০১৩ সালের ২১ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের ১১ সদস্যদের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। সে কমিটিতে গাজী সিরাজ উল্লাহকে সভাপতি ও বেলায়েত হোসেন বুলু’কে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে কেন্দ্রে জমা দেবার সময় বেঁধে দেয়া হলেও প্রায় ৭ বছরে পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি। বরং নগর ছাত্রদলের কমিটির ১১ সদস্যদের মধ্যে ৯ জনই মূল দলসহ সহযোগী সংগঠনের পদ নিয়ে চলে গেছেন এবং মারা গেছেন একজন।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে চট্টগ্রামের ঝিমিয়ে পড়া ছাত্রদলকে টেনে তুলতে উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। কার্যকর নগর কমিটি গঠন করতে  কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিমও চট্টগ্রাম সফর করে গেছে।

নগর ছাত্রদলের একটি সুত্র জানায়  চট্টগ্রাম মহানগর নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের কাছে জীবনবৃত্তান্তও চাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সাথে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তে ইতোমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা। তারা দলের সিনিয়র নেতাদের কাছে হাজিরা দিচ্ছেন। লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নেতাদের কাছেও যাচ্ছেন তারা।

এছাড়া ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নেতাদের কাছেও যাচ্ছেন পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা।

এদিকে নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে নগর বিএনপির সভাপতি  ডাঃ শাহাদাত  হোসেনের অনুসারী সৌরভ প্রিয় পাল, আসিফ নেওয়াজ বাবু’র নাম আলোচনায় রয়েছে। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অনুসারী রিফাত হোসেন শাকিলও আহবায়ক প্রার্থী হিসেবে ফর্ম সংগ্রহ করবেন। নোমান গ্রুপের মহসিন কবির আপেল, হুম্মাম কাদের চৌধুরীর অনুসারী ইফতেখার উদ্দিন নিবলু নগর ছাত্রদলের আহবায়ক হতে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

সদস্য সচিব হতে চান ডাঃ ব্লকের সামিয়াত আমিন জিসান, তারেকুল ইসলাম তানভীর, জাফরুল ইসলাম রানা, গাজী শওকত। একই পদের প্রার্থী  আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অনুসারী  সাইফুল আলম, আবদুল্লাহ আল নোমান গ্রুপের আরিফুর রহমান মিঠু, আসিফ চৌধুরী লিমন, মীর হেলালের অনুসারী হিসেবে পরিচিত শরিফুল ইসলাম তুহিন।

নতুন কমিটির আহবায়ক হওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে লবিং এবং কাজ করে যাচ্ছেন বর্তমান কমিটির সি:সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন চৌধুরী, সৌরভ প্রিয় পাল, মহসিন কবির আপেল, আলিফ উদ্দিন রুবেল, সাইফুল আলম, জাফরুল হাসান রানা, রিফাত হোসেন শাকিল, সামিরাত আমিন জিসান।

তবে  ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের  সভাপতি, সাধারন সম্পাদক ও সিনিয়র সভাপতির সাথে কথা বলে জানা যায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতাদের সাথে সমন্বয় করেই নতুন কমিটি গঠন করা হবে। নতুন আহবায়ক কমিটিতে ছাত্রত্ব, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতাকে প্রাধান্য দেয়া হবে।

ছাত্রদলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ সাব্বির জানান, আমাদের কমিটিতে নিয়মিত ছাত্রদের রাখা হবে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী  ৩১ সদস্য বিশিষ্টি আহ্বায়ক কমিটি করা হবে। কিন্তু নগরীতে দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়াতে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বৃদ্ধি করা হবে।

কেন্দ্রীয়  বিএনপির একটি সুত্র জানিয়েছে ছাত্রদলের কমিটিতে কারা স্থান পাবেন সেটা নিয়ে কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে। চট্টগ্রাম মহানগরে যেহেতু দীর্ঘদিন কার্যকর  কমিটি ছিল না সেকারনে এই ইউনিটের কমিটি গঠনের বিষয়ে সতর্কভাবে পদপ্রত্যাশীদের তথ্য যাচাই করা হবে। মুলত সব পক্ষকে ম্যানেজ করে কাজ করতে পারবেন এমন ছাত্রদের হাতে দেয়া হচ্ছে নগর ছাত্রদলের দায়িত্ব।