সাহেদের জালিয়াতি চট্টগ্রামেও
সাহেদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে ৯১ লাখ টাকা আত্নসাতের মামলা করেছে মেগা মটরস

বাংলাদেশ মেইল ::  

রিজেন্টে ও রিজেন্ট গ্রুপের মালিক শাহেদ করিম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ৯১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে ডবলমুরিং থানায় মামলা করছে চট্টগ্রামের মেসার্স মেগা মোটরস নামের একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। সোমবার সন্ধ্যায় মেগা মটরস এর মালিক মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ।

মামলার এজাহারে বলা হয় বিআরটিএ থেকে মেগা ব্রান্ডের আমদানিকৃত  ২০০ থ্রি হুইলার ঢাকা সিটিতে চালানোর অনুমোদনের কথা বলে বিভিন্ন সময়ে ৯১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন সাহেদ। টাকা নেবার পর বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত জাল পরিপত্র প্রদর্শন করেন সাহেদ। পরে মেগা মোটরস জানতে পারে পরিপত্রটি জাল।

মামলার বাদী সাইফুদ্দিন বাংলাদেশ মেইলকে জানান,  জনৈক শহিদুল্লাহ নামক এক ব্যাক্তির মাধ্যমে সাহেদ করিমের সাথে পরিচয়। শহিদুল্লাহর প্ররোচনায় সাহেদকে টাকা দেয়া হয়। ২০১৭ সালের বিভিন্ন সময়ে রিজেন্ট কেসিএস লিঃ এর ব্যাংক হিসাবে আমদানীকৃত থ্রি হুইলার চালাতে বিআরটিএ’র অনুমোদনের কথা বলে মেগা মটরস থেকে টাকা নেয় রিজেন্টের মালিক সাহেদ করিম।

তিনি জানান,  রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম প্রতারণার অভিনব সব কৌশল রপ্ত করেছিলেন। তার প্রতারণার লক্ষ্য শুধু ‘টাকা কামানো’ ছিল না; যশ ও খ্যাতির জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও কর্মকাণ্ডে তিনি নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন। এসব পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে গণমাধ্যমেও তার সরব উপস্থিতি ছিল। এ কারনে ব্যবসার খাতিরে তাকে টাকা দিয়ে প্রতারনার শিকার হয়েছেন তিনি।

সুত্র বলছে,  তার অন্যতম লক্ষ্য ছিল এমপি (সংসদ সদস্য) হওয়া। এ জন্য ঢাকা থেকে মনোনয়ন ‘ম্যানেজ’ করে এলাকায় (সাতক্ষীরা) তিনি নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। প্রকাশ্যে প্রচারে না গেলেও সুকৌশলে তিনি কাজ করছিলেন।

এদিকে, রিজেন্ট হাসপাতালে র‌্যাবের অভিযানের সপ্তাহ পরও সাহেদ অধরা রয়ে গেছেন। রোববার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, রিজেন্টের সাহেদ করিমের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।তাকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। না হলে গ্রেফতার হতে হবে।

রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদ করিমের পৈতৃক বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়। স্কুলজীবনের পর তিনি সাতক্ষীরা ছাড়ায় এলাকার অধিকাংশ মানুষই তার সম্পর্কে জানতেন না। পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে তিনি সপরিবারে ঢাকা চলে যান।