রিখটার স্কেলে ৭.৩ মাত্রায় কাঁপল সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, জারি সুনামি সতর্কতা

বাংলাদেশ মেইল ::

শুধু ভারতেই নয়, প্রতিনিয়ত মাটি কাঁপছে গোটা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। শুক্রবার সকাল ৮.২০ মিনিটে ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পাপুয়া নিউ গিনি দ্বীপ। রিখটার স্কেলে এদিন কম্পনের তীব্রতা ছিল ৭.৩। তীব্র কম্পনের জেরে জারি করা হয়েছে সুনামি সতর্কতা।

আমেরিকার জিওলজিক্যাল সার্ভে থেকে জানানো হয়েছে, পাপুয়া নিউ গিনির পূর্ব ও পূর্ব-পশ্চিম দিক থেকে ১৮ কিমি দূরে ওয়াউ এলাকায় ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল। মাটি থেকে ৮৫.২ কিমি গভীরে ছিল কম্পনের কেন্দ্রস্থল। তবে এই ব্যপক ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর মেলেনি। কিন্তু কম্পনের যা তীব্রতা ছিল, তাতে ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে।

তীব্র মাত্রার কম্পনের জেরে উপকূলবর্তী এলাকায় সুনামির সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। পাপুয়া নিউ গিনি দ্বীপপুঞ্জের ওয়াউ দ্বীপের উপকূল থেকে প্রায় ৩০০ কিমি পর্যন্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এদিন মত্‍স্যজীবিদের সমুদ্রে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এক সপ্তাহের মধ্যেই দু দুবার তীব্র কম্পনে কেঁপে উঠল এই দ্বীপপুঞ্জ। ওই দিন রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৫.৪। ওই দিনের মাঝারি কম্পনের কারণে কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। পর পর কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে।

ভয়াবহ ভূমিকম্প চিনে, ফিরল ১৯৭৬-এর দুঃস্বপ্ন!

প্রসঙ্গত, আগ্নেয়গিরির লাভাস্রোতের কারণে এর মধ্যে কয়েকটি দেশ ‘রেড জোন’ অর্থাত্‍,‌ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার মধ্যেই পড়ে। ভূমিকম্প সেখানে নতুন কিছু নয়। পৃথিবীর অভ্যন্তরে সাতটি প্লেট বা শিলা অনবরত ঘুরে চলেছে। যেখানে এই প্লেটগুলির সংঘর্ষ বেশি হয়, তাকে বলে ‘জোন ফল্ট লাইন’। প্লেটগুলির কোণে কোণে বারবার আঘাতের ফলে, একটা চাপ সৃষ্টি হয়। তখন প্লেটগুলি ভাঙতে শুরু করে। যার জেরে ভূ-গর্ভে এনার্জি বা শক্তি তৈরি হয়। সেটা ঢেউয়ের মতো ছড়িয়ে পড়ে। মাটি কেঁপে ওঠে। সবকিছু দুলতে থাকে।

এ ভাবে মাটির নীচে যখন দু’টি ব্লক অথবা দু’টি শিলার মধ্যে সংঘর্ষ হয়, তখন সেগুলো নিজেদের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে যায়। তবে, এটি খুব ধীরে হয়। ভেঙে যাওয়া এই শিলাগুলো একে অপরের সঙ্গে গায়ে গায়ে লেগে থাকে। একে অপরের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। যখন শিলাগুলো ভাঙে, তখনই ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। যে স্থানে শিলাগুলো ভেঙে যায়, সেটাই হল ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল।