করোনা পরিস্থিতির উন্নতি নাকি অবনতি !
নমুনা সংকট চট্টগ্রামে , শনাক্তের হারও কম

বাংলাদেশ মেইল ::

চট্টগ্রামে এক সময় নমুন জট সৃস্টি হলেও বর্তমানে বিভিন্ন চিত্র ল্যাবগুলোতে । এখন করোনা পরীক্ষায় আগ্রহী রোগীদের নমুনাই মিলছে না ল্যাবগুলোতে । সে হিসাবে শনাক্তও কম। ফলে হেরফের হয়েছে শনাক্তের হারও। মে-জুন মাসে শনাক্তের হার যেখানে ৩২ শতাংশ ছিল। সেখানে বৃহস্পতিবার রাতে সর্বশেষ প্রকাশিত ফলাফলে তা ১৭ শতাংশে নেমে এসেছে। যাকে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি বলছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে এতে সন্তুষ্টি নেই স্বাস্থ্য বিভাগে।

বরং কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের। তাদের অনেকেই বলছেন, চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণের বড় দুশ্চিন্তা এখন কোরবানির পশুর হাট। যেখান থেকে করোনা পরিস্থিতি আবারো মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।

এমন কথা চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক হাসান শাহরিয়ার কবির, চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বীসহ অনেকের মুখে। তারা বলছেন, কোরবানির পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে কোনোমতেই আশ্বস্ত হওয়া যাচ্ছে না। যদিও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক হাসান শাহরিয়ার কবির এ বিষয়ে বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরে দুটি স্থায়ীসহ ৭টি পশুর হাট বসার কার্যক্রম চলছে। ইতিমধ্যে উত্তরবঙ্গ থেকে চট্টগ্রামে কোরবানির পশু আসতে শুরু করেছে। কিন্তু সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, আগামী ৩১শে জুলাই অথবা ১লা আগস্ট পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানি অনুষ্ঠিত হবে। ইসলাম ধর্মের একটি অন্যতম ইবাদত হওয়ায় এটিকে বাদ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কোরবানির দিন শুধু নামাজ নয়, এর সঙ্গে আরো অনেক আনুষ্ঠানিকতা জড়িয়ে আছে। পশুর হাট, পশু জবাই এবং প্রক্রিয়াজাতকরণসহ অনেক কিছু জড়িত। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে করোনা পরিস্থিতির অনেক কিছু নির্ভর করছে। তিনি আরো বলেন, করোনার এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাজার বসানোর জন্য বলা হলেও পশুর বাজারে তা কতটুকু নিশ্চিত করা যাবে এ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কোরবানির পশুর বাজার থেকে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কিংবা ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের আনাগোনাসহ সার্বিক পরিস্থিতিতে করোনা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে ঠেকে তা নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য বিভাগ। শুধু পশুর বাজারই নয়, ঈদের জামাত থেকে পশু জবাই, মাংস ও চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে মানুষকে কতটুকু স্বাস্থ্যবিধি মানানো সম্ভব হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

গত মে মাসে নমুনা পরীক্ষা করে সর্বোচ্চ ৩২ শতাংশ পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। কিছুদিন ধরে তা কমতে শুরু করেছে। জুন মাসে দ্বিতীয় সপ্তাহে রোগী শনাক্ত হচ্ছিল ২২ শতাংশ পর্যন্ত। গত দু’দিনে রোগী শনাক্তের পরিমাণ ১৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এটি অত্যন্ত ভালো লক্ষণ। কিন্তু কোরবানির পরিস্থিতিতে যদি স্বাস্থ্যবিধি মানা না হয় সেই ভালো লক্ষণ দ্রুত খারাপের দিকে ধাবিত হবে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামে স্বাস্থ্যখাতে করোনা চিকিৎসা নিয়ে এখন সংকট নেই। রোগীরা চিকিৎসা পাচ্ছেন। সরকারিভাবে চট্টগ্রামে ৭০০ বেড ও ২৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার রয়েছে। অথচ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সর্বসাকুল্যে রোগী ছিল ৩০৯ জন। বেড ও আইসিইউ মিলে ৪০ শতাংশের বেশি ফাঁকা রয়েছে।