রাঙ্গুনিয়ায় বৌদ্ধ ভিক্ষু শরণাংকরকে গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম

বাংলাদেশ মেইল :: 

রাঙ্গুনিয়ায় ধর্মীয় ও দেশ বিরোধী নানা উষ্কানিমূলক বিবৃতি দেওয়ার অভিযোগে বিতর্কিত বৌদ্ধ ভিক্ষু শরণাংকর থেরকে গ্রেপ্তার করার জন্য ৪৮ ঘন্টার সময় বেঁধে (আল্টিমেটাম) দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কোদালা ইউনিয়নের সন্ধীপ পাড়া এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। অন্যথায় সারা রাঙ্গুনিয়া ব্যাপী আরও কঠোর কর্মসূচী দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
উপজেলার পূর্ব কোদালা সন্দীপ পাড়ার সর্বস্তরের তৌহিদী জনতার উদ্যোগে ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর কটুক্তির প্রতিবাদে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়।
বান্দরবান সড়কের সন্ধীপ পাড়া এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সন্দীপ পাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো. সুলাইমান। রাঙ্গুনিয়া ওলামা পরিষদ নেতা মাওলানা আব্দুল আজিজের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সন্দ্বীপ পাড়া শাহী জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফখরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মোস্তফা, মাওলানা নুরুল আজিম, মাওলানা নাজমুল হক চৌধুরী, মাওলানা মো. রফিক, মাওলানা মো. জাহাঙ্গীর, মাস্টার ফখরুল ইসলাম, মো. মাইনুদ্দিন, মো. কলিমুল্লাহ, আল্লামা গাজী শেরে বাংলা (রহঃ) স্মৃতি সংসদ এর সভাপতি নুরন্নবী রাজু প্রমুখ ।
মানববন্ধনে বক্তারা বৌদ্ধ ভিক্ষু শরণাংকর থের রাঙ্গুনিয়ায় প্রবেশের চেষ্টা করলে এবং তা নিয়ে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার সম্পূর্ণ দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে বলে হুশিয়ারি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য শরণাংকর থের নামে এক বৌদ্ধ ভিক্ষুর নানা সাম্প্রদায়িক বিতর্কিত কর্মকান্ড ও তার অনুসারী কর্তৃক ইসলাম ধর্ম নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে রাঙ্গুনিয়া উত্তাল হয়ে উঠেছে। রাঙ্গুনিয়া জুড়ে চলছে দফায় দফায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী।

 

প্রসঙ্গত , পদুয়া ফলাহারিয়া এলাকায় শরনাংক থের নামে এক বৌদ্ধ ভিক্ষু সরকারি জায়গা দখল, ৭৫ হাজার সরকারি বনায়নের চারা কেটে ফেলার অভিযোগে বন বিভাগ মামলা দায়ের করে। এই বিষয়ে পুলিশ তদন্তে গেলে তাদের সাথেও তিনি খারাপ আচরণ করেন। পরবর্তীতে তিনি ফেসবুকে লাইভ দিয়ে সাম্প্রদায়িক নানা আপত্তিকর বিবৃতি দেন। তিনি অভিযোগ করেন, পদুয়ায় বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের স্বাভাবিক চলাফেরা, ধর্মীয় কাজে বাঁধা দেওয়া হয়। তার এই ধরণের বক্তব্যের পর ফেসবুকে এর প্রতিবাদ জানায় বিভিন্ন স্তরের জন সাধারণের পাশাপাশি স্বয়ং বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারাই। এরপর ১১ জুন সকালে ফেসবুকে লাইভ দিয়ে তিনি এলাকা ত্যাগ করেন।

এরমধ্যে রুমন হিমু নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে নানা আপত্তিকর কটুক্তি করা হয় এবং রানা সাধু নামে অন্য একটি আইডি থেকে সাম্প্রদায়িক উষ্কানি ছড়ানো হয়। পরবর্তীতে এই দুই ফেসবুক আইডি ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রাঙ্গুনিয়া থানায় মামলা দায়ের হয়। ছাত্রলীগ নেতা রাসেল রাসু বাদী হয়ে মামলাটি করেন।