মারুফ ‘আত্মহত্যা’ : ওসি সদীপকে শোকজের সুপারিশ

বাংলাদেশমেইল: নগরীর ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদে তরুণ মারুফের আত্মহত্যার ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কমিটি। এতে মারুফের আত্মহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এসআই হেলাল খানের বিরুদ্ধে উঠা সব অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে কমিটি। সেকারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরসহ সাময়িক বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে নিজের অধীনস্ত অফিসারকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ দাশকে শোকজ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সোমবার বিকেল ৫ টার পর সিএমপি কমিশনার মো. মাহবুবর রহমানকে ১৬ পৃষ্টার এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। কমিটির প্রধান নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) মোহাম্মদ মনজুর

মোর্শেদের সাথে এসময় উপস্থিত ছিলেন কমিটির অন্য দুই সদস্য  ডবলমুরিং জোনের সহকারি কমিশনার (এসি) শ্রীমা চাকমা ও নগর পুলিশের সিএসবি শাখার সহকারী কমিশনার (এসি) নুরুল আফসার ভূইয়া।

তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ডিসি (ডিবি-পশ্চিম) মনজুর মোরশেদ বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

তবে সিএমপির একটি সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তসহ মোট ৩২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এতে ঘটনার দিন এসআই হেলাল খান থানার ওসিকে অবগত না করে সেখানে বেআইনিভাবে অভিযানে যাওয়ার সত্যতা মিলেছে। এছাড়া তিনি পুলিশি পোশাকেও ছিলেন নাহ। সেকারণে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছে। অভিযানের সময় অন্য দুইজন রাজীব ও সবুজের নাম শুনা গেলেও তদন্ত কমিটি তাদের বিরুদ্ধে কোনও সাক্ষ্য প্রমাণ পায়নি।

এছাড়া নিজের অধীনস্ত অফিসারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় এর লিখিত জবাব দিতে শোকজ করা হচ্ছে ডবলমুরিংয়ের ওসি সদীপ দাশকে। জবাবের ওপর ভিত্তি করে তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ১৬ পৃষ্টার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। এছাড়াও ভবিষ্যতে এধরণের ঘটনা যাতে না ঘটে পুলিশের যত আইন কানুন মেনে দায়িত্ব পালন করার কথা তা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

গত ১৬ জুলাই রাতে করা ডবলমুরিং জোনের এসি শ্রীমা চাকমা ও ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহির হোসেনের নেতৃত্ব তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখান করেছিলেন সিএমপি কমিশনার। এরপর ডিসি (ডিবি-পশ্চিম) মনজুর মোরশেদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় ১৮ জুলাই।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই সন্ধা ৭ টায় নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন আগ্রাবাদের বাদামতলি মসজিদ এলাকায় ডবলমুরিং থানার এসআই হেলাল খানের হাতে নিজ   মা বোনের লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় অপমানিতবোধ করে রাগে ক্ষোভে আত্মহত্যা করেছেন দশম শ্রেণি পড়ুয়া ১৬ বছরের তরুণ সাদমান ইসলাম মারুফ। এ ঘটনায় ১৬ জুলাই ও পরদিন ১৭ জুলাই বাদামতলি মসজিদ এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি করেছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী বলছেন, প্রথমে হেলাল খানের দুজন পোষ্য সোর্সের হাতে  কোনোরকম কারণ ছাড়াই মারধরের শিকার হয় তরুণ মারুফ। এর কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে আসেন হেলাল খান। সোর্সদের সাথে হেলাল খানও মারুফসহ তার মা বোনকে বেদম পিটিয়ে নাজেহাল করেন। একপর্যায়ে মারুফ সটকে পড়লে তার মা বোনকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় এসআই হেলাল খান। বিষয়টি মানতে পারেননি মারুফ। রাগে ক্ষোভে পাশের করিম চাচার ঘরে গিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

ঘটনার পরপর ডবলমুরিং থানার এসআই হেলাল খানকে সাময়িকভাবে ক্লোজড করেছিল নগর পুলিশ।