চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে মারামারি
চমেকের ঘটনায় ৯ জনকে আসামী করে ইন্টার্ন চিকিৎসকের মামলা

বাংলাদেশ মেইল ::  

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে সম্প্রতি সংগঠিত হওয়া মারামারির ঘটনায় ৯ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহ। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের আদালতে মামলা দায়ের তিনি তিনি৷

জানা গেছে এ মামলার বাদি চমেকে মেয়র নাসিরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এর আগে ১৪ জুলাই শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান নওফেলের অনুসারীরা পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেছিলেন। এখন কোর্টে পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

১৩ জুলাই  সকালে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম বিতরণের জন্য যান স্থানীয় সাংসদ শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। কর্মসূচি শেষে তিনি হাসপাতাল ত্যাগের পর নাছির ও নওফেলের অনুসারী চমেক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারি হয়। এতে দুই পুলিশসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনায় এর আগে সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় ১১ চিকিৎসকসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়। এই মামলায় অভিযুক্তরা নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার একই ঘটনায় আরেকটি মামলা দায়ের করা হলো। ইন্টার্ন চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহ দায়ের করা মামলায় ৯ জনের নাম আসামির তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ৯ জন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্র ।

মামলার এজাহারে বাদি ইন্টার্ন চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহ তাদের ওপর হামলার অভিযোগ এনেছেন আসামিদের বিরুদ্ধে। এরপর চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানে আবার মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায় এজাহারে ।

এদিকে, মারামারির ঘটনার পর থেকে নওফেল ও মেয়র নাসিরের অনুসারীরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে।

১৮ জুলাই সন্ধ্যায় জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্যে ফিল্মী কায়দায় ৭-৮ টি মোটর সাইকেল যোগে ২০-২২ জন যুবক  ডা.ফয়সাল ইকবাল চৌধুরীর মেহেদীবাগস্থ বাসার সম্মুখে গিয়ে তার খোঁজ করেন এবং তাকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ করতে থাকেন। এসময় তারা বাসার নিচে কর্তব্যরত দারোয়ানের কাছে গিয়ে ফয়সল ইকবাল কোথায় জানতে চান। ঘটনার দিনই
বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ ফয়সাল ইকবাল চৌধুরীকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে দাবী করে চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন তিনি।
এ ঘটনায় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক,চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন এক যুক্ত বিবৃতিতে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ও বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা.ফয়সাল ইকবাল চৌধুরীকে দুস্কৃতিকারী কর্তৃক প্রান নাশের হুমকির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। প্রতিবাদ জানিয়ে চমেক ইন্টার্ন ডক্টরস এসোসিয়েশনসহ বেশ কয়েকটিি সংগঠন মানববন্ধন করেছে মেডিকেল এলাকায়।

নানা নাটকীয়তার পর কোর্টে মেয়র নাসির অনুসারীদের পক্ষ থেকে পাল্টা মামলা দায়ের করা হলো।