কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিএমএ'র
ডাঃ ফয়সল ইকবালকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে মানব বন্ধন

বাংলাদেশ মেইল :: 

বিএমএ, চট্টগ্রাম শাখার সাধারন সম্পাদক ডাঃ ফয়সাল ইকবাল চৌধুরীকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবীতে মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ১৮ই জুলাই সন্ধ্যা ৭ টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন,চট্টগ্রাম শাখার সংগ্রামী সাধারন সম্পাদক ডাঃ মো ফয়সল ইকবাল চৌধুরীর মেহেদীবাগের বাসভবনে গিয়ে হত্যার হুমকির প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবীতে আজ দুপুর ১২ টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর প্রধান ফটকে, বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি ও স্বাচিপ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা মুজিবুল হক খানের সভাপতিত্বে এ মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত শনিবার আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ৮ টি মোটর সাইকেল চড়ে ২০/২২ জন সন্ত্রাসী বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম শাখার সংগ্রামী সাধারন সম্পাদক, ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ মো. ফয়সল ইকবাল চৌধুরীর মেহেদীবাগস্থ বাসভবনের সামনে গিয়ে গুলি করে হত্যার হুমকী প্রদানের মত ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঘটান ।পুরো ঘটনাটি উক্ত ভবন ও আশপাশের কয়েকটি ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজে স্পষ্ট ধরা পড়ে। এ ব্যাপারে তিনি ১৮ জুলাই রাতেই চকবাজার থানায় জিডি করেন।

কিন্তু অদ্যবধি কোন সন্ত্রাসীকে আইনশৃংখলারক্ষাকারী বাহিনী গ্রেফতার করতে না পারায় ক্ষোভ নেতৃবৃন্দ প্রকাশ করেন। নেতৃবৃন্দ আরও জানান বেশ কিছুদিন যাবত বিপথগামী, দল থেকে পদচ্যুত গুটিকয়েক ছাত্রনামধারী সন্ত্রসী, বহিরাগত সন্ত্রসীদের সাথে নিয়ে চমেক ক্যাম্পাসের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ কে নস্ট ও অস্হিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে, যার ফলশ্রুতিতে গত ১২ ই জুলাই বিপথগামী ঐসব ছাত্র ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা নিয়ে চমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও ছাত্র নেতৃবৃন্দের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালায়। সেই একই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বিগত বিএমএ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের প্ররোচনায় গতকাল ডা মো ফয়সল ইকবাল চৌধুরীকে হত্যার হুমকির ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে মনে করেন।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে যারা এধরনের ঘৃন্য, ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে এবং যারা নির্দেশ দিয়েছে, বিএমএ, চট্টগ্রাম শাখা তাদের দ্ব্যথহীন ভাবে জানাতে চায় যে, ডাঃ মো ফয়সল ইকবাল চৌধুরী দীর্ঘ ও বর্নাঢ্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় রাজপথ থেকে সৃস্ট একজন পোড় খাওয়া মুজিবাদর্শের সৈনিক ও চট্টগ্রামের আপাময় চিকিৎসক সমাজের জনপ্রিয নেতা। জোট সরকারের আমলে জামাত- বিএনপির হুমকি ধমকিও যাকে টলাতে পারেনি।এধরণের কাপুরুষোচিত হত্যার হুমকি তে তার ভয় পাওয়া দূরের কথা উপরোন্ত তিনি তার কর্তব্য পালনে পিছপা হবেনা বলে জানান।

সমাবেশে বিএমএ সাধারন সম্পাদক ডাঃ মো ফয়সল ইকবাল চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে করোনা রোগীর প্রাদুর্ভাব শুরু থেকেই চিকিৎসকদের নিম্নমানের সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহের বিরুদ্ধে ও চট্টগ্রামের আপামর জনসাধারণের চিকিৎসা সেবার অপ্রতুলতা ও অব্যবস্হাপনার বিরুদ্ধে যখন আমি সোচ্চার ছিলাম তখনই সরকারের দায়িত্বশীল পদে থাকা জনৈক ব্যক্তি আমি কিভাবে দলের পদে থেকে অব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষা সামগ্রীর অপ্রতুলতার কথা বলি এবং কিভাবে এখনও দলের পদে বহাল আছি বলে, দলের পদ থেকে বহিষ্কারের হুমকি প্রদান করেন।

তিনি আরও বলেন দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে আমার রাজনৈতিক আজকের এই অবস্হান,উত্তরাধিকার সুত্রে আমি এই পদে আসি নাই, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার কাজের মুল্যায়নে এই পদ উপহার দিয়েছেন। চট্টগ্রামের আপামর চিকিৎসক সমাজের ভালবাসার উপহার স্বরুপ প্রায় ১৪০০ ভোটের ব্যবধানে আমাকে সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত করেছিলেন গত বিএমএ নির্বাচনে। সেই নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী এবং তাদের সমর্থনকারী প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কিছু বিপদগামী, অনিয়মিত, সংগঠন থেকে পদচ্যুত ছাত্র, বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সহায়তায় আজকে চমেক ক্যাম্পাসের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নস্ট করার অপচেষ্টা করছেন এবং সেই একই সন্ত্রাসী চক্র গত ১৮ ই জুলাই কাপুরুষের মত আমার বাসস্হানের সামনে গিয়ে আমাকে হত্যার হুমকি প্রদান করেছেন। আমরা বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন করোনা মহামারির কারনে এবং আইনশৃংখলা বাহিনীর তদন্ত করে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার পূর্বক শাস্তিমুলক ব্যবস্হা গ্রহনের জন্য সময় প্রদান করে কোন প্রকার কঠোর কর্মসুচী প্রদান করি নাই। আশাকরি চট্টগ্রামের পুলিশ প্রশাসন, ও গোয়েন্দা সংস্হা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আমাকে হত্যার হুমকি দাতা ও চমেক ক্যাম্পাস কে অস্থিতিশীল করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত সন্ত্রাসীগোষ্ঠীকে খুঁজে বের করে গ্রেফতার পূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্হা গ্রহন করবেন।


বিএমএ সভাপতি অধ্যাপক ডা মুজিবুল হক খান বলেন,  অবিলম্বে চিকিৎসক সমাজের প্রানপ্রিয় নেতা বিএমএ সাধারন সম্পাদক ডাঃ মো ফয়সল ইকবাল চৌধুরীর বাসভবনে গিয়ে ন্যাক্কারজনক ভাবে হত্যার যে হুমকি প্রদান করেছেন তা শুধু ব্যক্তি ফয়সলকে হুমকি নয় এই হুমকি চট্টগ্রামের সমগ্র চিকিৎসক সমাজের প্রতি সন্ত্রাসীদের হুমকি। তাই তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন অনতিবিলম্বে উক্ত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্হা গ্রহন করতে হবে।অন্যথায় কোরবানির ঈদের পরে চট্টগ্রামের আপামর চিকিৎসক সমাজ কে সাথে নিয়ে চট্টগ্রাম বিএমএ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।

প্রতিবাদ  সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন চমেক শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি ডাঃ মনোয়ার উল হক শামীম, চমেক পোস্ট গ্রাজুয়েট ডক্টরস এসোসিয়েশন সাধারন সম্পাদক ডাঃ সাইফুল ইসলাম, সাউদার্ন মেডিকেল কলেজ স্বাচিপ এর আহবায়ক ডাঃ আতিকুর রহমান বাপ্পী, বিজিসি ট্রাস্ট স্বাচিপ নেতা ডাঃ বাবর চৌধুরী, চমেক, আইডিএ সভাপতি ডাঃ ওসমান ফরহাদ, চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ আইডিএ সভাপতি ডাঃ শহিদ, ইউএসটিসি, আইডিএ সভাপতি ডাঃ মোস্তফা আশিক,বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ, আইডিএর পক্ষে ডাঃ বাবলু ধর, সাউদার্ন মেডিকেল কলেজ, আইডিএ সভাপতি ডাঃ ফাহাদ বিন তৈয়ব, চমেকসু ভিপি ডাঃ এম এ আওয়াল রাফী, চমেক ছাত্রলীগ সভাপতি ডাঃ হাবিবুর রহমান। প্রতিবাদ সমাবেশটি সঞ্চালন করেন পোস্ট গ্রাজুয়েট ডক্টরস এসোসিয়েশন সভাপতি ডাঃ সাইফ উদ্দিন আহমেদ।