সারাদেশের ২৬ জেলায় বন্যার থাবা

বাংলাদেশ মেইল ::

টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে নদনদীর পানি। বাঁধ ভেঙে প্রতিদিনই ডুবছে নতুন নতুন এলাকা। ইতিমধ্যে দেশের ২৬ জেলা বন্যা আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বন্যার্তরা। বন্যা আক্রান্ত
জেলাগুলো হলো- সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, ঢাকা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, শেরপুর, গাইবান্ধা, নাটোর, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নওগাঁ, লক্ষ্মীপুর। শুক্রবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নেত্রকোনা জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর ও ঢাকা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। অপরদিকে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নাটোর, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও নওগাঁ জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির ফের অবনতি হয়েছে। বন্যায় এখন পর্যন্ত জেলার দশ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পরেছে। গত ২৪ ঘন্টায় যমুনা নদীর পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১০৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানিতে এ পর্যন্ত ৭টি উপজেলার ৬৭৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে বুড়িরহাট ও গাবুর হেলান স্পার ভাঙন রোধে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। গতকাল সকালে ভাঙন কবলিত গাবুর হেলান স্পারে ঘণ্টাখানিক মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে, ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষদের রক্ষার জন্য এই এলাকায় নদী খনন ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
এ এলাকাবাসী জানান, ১৯৯৮ সালে ৩৫০ মিটার দীর্ঘ স্পারটি তিস্তার ভাঙন রোধে নির্মাণ করা হয়। গত ৮ দিন ধরে এখানে ভাঙন চলছে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করলেও তারা গাফিলতি করছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে বালু সংগ্রহ করে বস্তায় ভরালেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন দুর্ভোগ কবলিত এলাকায় এসে খোঁজখবর নিচ্ছেন না। তারা বস্তাগুলো শেলাই করে স্পারের মাথায় ফেলার ব্যবস্থা করছে না। ভাঙন রোধে স্থায়ী কাজের দাবিতে মানববন্ধন আয়োজন করে এলাকাবাসী।

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের নাদাগাড়ী গ্রামের বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের পানির চাপে ভেঙে গেছে বাঁধটি। শুক্রবার সকালের দিকে বাঁধটি ভেঙে যায়। এর ফলে নতুন করে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। হঠাৎ করে বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন শত শত মানুষ। কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই ১৮টি পরিবারের কাঁচা-পাকা ৫০টি ঘর পানির তোড়ে ভেসে যায়। অপরদিকে দেখা দিয়েছে ব্যাপকহারে ভাঙন। ভাঙন প্রতিরোধে স্থানীয়রা শত চেষ্টা করেও তাদের থাকার বসতভিটার শেষটা রক্ষা করতে পারছেন না। তবে যমুনার পানি গতকাল দুপুরে বিপদসীমার ১০৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান পানিমাপক আব্দুল মান্নান।
স্থানীয়রা জানান, তৃতীয় দফা বন্যায় যমুনা নদীর পানি হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেয়ে গতকাল সকালে বিকট শব্দে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৫০ মিটার ধসে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই প্রবল পানির স্রোতে ঐ এলাকার ৫০টিরও বেশি কাঁচা-পাকা বাড়িঘর ভেঙে নিয়ে যায় রাক্ষুসী যমুনা। এ দৃশ্য তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না অসহায় মানুষদের। আশপাশের শ্রায় ১০ থেকে ১৫টি গ্রাম আবারো নতুন করে প্লাবিত হয়। এতে করে পানিবন্দি হয়ে পড়েন প্রায় বিশ হাজার মানুষ।
ফকির আলী বলেন, শুক্রবার ভোরবেলা ঘুম থেকেই একটা বিকট শব্দ পাই। কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই পানি ঢুকে বাড়ি-ঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায়। আমরা কেউ ঘর থেকে একটি সুতাও বের করে নিতে পারি নাই। আমাদের কষ্টের কথা কি আর বলবো। পানিতেই জীবন-যাপন করতে হবে মনে হয়।