কর্ণফুলীতে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের হামলার শিকার প্রকৌশল অফিসের হিসাবরক্ষক

বাংলাদেশ মেইল ::  

কর্ণফুলীতে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের হামলার শিকার প্রকৌশল অফিসের হিসাবরক্ষক

চট্টগ্রাম কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী বানাজা বেগমের হামলার শিকার হয়েছেন উপজেলা প্রকৌশল অফিসের হিসাবরক্ষক মো. রফিক।

মারধরের শিকার এলজিইডি অফিসের হিসাবরক্ষক মো. রফিক জানান, উপজেলা অফিসে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও তার স্বামী আমার রুমে এসে আমাকে মারধর করে রুমের কম্পিউটার ও জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন।

রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদ অস্থায়ী কার্যালয় রিভারভিউ কমিউনিটি সেন্টারের অফিস রুমে (২য় তলা) উপজেলা চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানান।

ঘটনার বিষয়ে খবর নিয়ে জানা যায়, মেম্বারদের করা কাজের দুটি পিআইসি ফাইলে স্বাক্ষর হওয়া নিয়ে উপজেলা প্রকৌশল অফিসে তাদের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে।এক বছর পর পিআইসি প্রকল্পের জামানতের অর্থ ছাড় নিতে গেলে ওয়ার্ক এ্যাসিসটেন্ট মাঠের কাজ দেখে নোট দিলে পরে বিল হবে। এমন কথায় হিসাবরক্ষক ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে হাতাহাতি হয়।

হামলার শিকার এলজিইডি অফিসের মো. রফিক বলেন, ‘ দুপুরে আমি অফিসে বসে কম্পিউটারে কাজ করছিলাম। এমন সময় উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বানাজা বেগম রুমে এসে গত বছরের দুটি পিআইসি ফাইলের বিল পাসে স্বাক্ষর হয়েছে কিনা জানতে চান। আমি তখন বললাম ফাইলে স্বাক্ষর হয়নি। সব ফাইল প্রকৌশলী ম্যাডামের টেবিলে। উনি আজ অফিসে আসেননি। কাল আসলে হয়ত হবে।

এরপর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রুম থেকে চলে যায়। তার ২০ মিনিট পরপরই হঠাৎ দেখি আবার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উনার স্বামী রুমে ডুকে জানতে চান ফাইলে স্বাক্ষর হবে না কেন, কেন স্বাক্ষর হয়নি। এসব বলতে বলতে আমি কিছু বলার আগেই হঠাৎ দেখি মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আমার উপর হামলা চালিয়ে মারধর করে এবং অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে। এভাবে উপর্যুপরি কয়েকবার আমাকে মারধর করে রুমের জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তবে তিনি কিছু বলেননি। পরে আমি বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের উন্নয়ন কাজ তথা সাইট ভিজিট করে বিলের বিষয়ে মন্তব্য লিখে উপজেলা প্রকৌশলী ম্যাডামের কাছে পাঠানো ওয়ার্ক এ্যাসিসটেন্ট এর দায়িত্ব। সে কাজটি করতে গিয়ে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কর্তৃক আমি হামলার শিকার হলাম।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বানাজা বেগম সাংবাদিককে জানান, আমার নিশাম এন্টারপ্রাইজের করা কাজের ফাইল প্রসেসিং করে প্রকৌশল অফিসে পাঠালেও বিলে স্বাক্ষর হয়নি। অথচ ইউএনও অফিসের সিও’র অফিসে দেখলাম জাইমা এন্টারপ্রাইজের ৩টি ও থ্রি স্টার এন্টারপ্রাইজের ১টি ফাইলে স্বাক্ষর হয়েছে। এটা দেখে পরে রুমে গিয়ে আমার প্রসেসিং করা ফাইলে কেন স্বাক্ষর হয়নি জানতে চাইলে প্রকৌশলী অফিসের রফিক অনেক্ষণ চুপ থাকে তাই মারধর করেছি।’

কর্ণফুলী উপজেলা প্রকৌশলী জয়শ্রী দে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা মনে হয় এখানকার এলজিইডি অফিসে আর চাকরি করতে পারব না। এ বিষয়ে খুবই সন্ধিহান আমি। প্রায় সময় আমার অফিসে এসে আমার একাউন্টসকে মারধর, গালিগালাজ ও তুই তুকারি করছেন। রিপিটেটলি এইসমস্ত ঘটনাগুলো এরা প্রায় ঘটাচ্ছেন। জুন মাসে কাজের চাপ বেশি। তারপরেও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অফিসে ডুকে হিসাবরক্ষককে মারধর করেছেন বলে শুনেছি। ঘটনার সময় তার সঙ্গে আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। আমি সাথে সাথে ইউএনও স্যারকে বিষয়টি জানাতে মোবাইলে কল দিলাম কিন্তু উনি ফোন রিসিভ করেননি কিংবা পরে কল ব্যাক করেননি।

উপজেলা প্রকৌশলী আরো বলেন, আমরা এ বিষয়ে উপরের প্রশাসনকে একাধিকবার অভিযোগ দিয়েছি। তারপরেও প্রায় সময় এধরনের ঘটনা বারবার ঘটতেছে। আমরা থানায় যেতে যাচ্ছিলাম না। তবে আজকে যে ঘটনা ঘটলো আমি খুব মর্মাহত। আমি আসলে আমার অফিসের কর্মচারীদের প্রটেকশন দিতে পারিনি। যা দুঃখজনক।’

প্রসঙ্গত, এরপূর্বেও কর্ণফুলী থানার পুলিশের এক এসআইকে গালিগালাজ করার অপরাধে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কর্ণফুলী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
২০১৯ সালের ২৩ জুলাই আবারও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের সাথে ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মোস্তাফিজের হাতাহাতি ঘটনা ঘটেছিল। যা সে সময় বিভিন্ন স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিলো।

ঘটনার বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেন বলেন, ‘মারধরের ঘটনাটি শুনেছি। তবে ঘটনার সময় আমি ডিসি অফিসে ছিলাম। এখনো কেউ আমাকে বিষয়টি লিখিত বা মৌখিক ভাবে জানায়নি।’