অনলাইন ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি
আগে করোনা মহামারি সামাল, পরে দুর্নীতি দমন

বাংলাদেশ মেইল ::

সবার আগে করোনার মহামারি সামাল দেয়ার কাজটি করবেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম। দায়িত্ব নেয়ার পর গতকাল প্রথম অনলাইনে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নতুন মহাপরিচালক বলেন, আমার প্রথম কাজ হবে মহামারি সামাল দেয়া। কারণ আগে তো বাঁচি, তারপর অন্যকিছু। বাঁচলে দুর্নীতি দূর করতে কাজ করা যাবে। আমি সবে মাত্র দায়িত্ব নিয়েছি। এখানকার বিষয়ে বলতে পারবো না। তবে আমরা চিকিৎসকরা করোনার মধ্যে মানুষের সেবা দেয়ার শতভাগ চেষ্টা করেছি। করোনার শুরুতে সবার এ ভাইরাস সম্পর্কে সুষ্ঠু ধারণা ছিল না, তাই সবারই ভয় ছিল।

কিন্তু এখন অনেকটা কেটে গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরানোর বিষয়ে নতুন ডিজি বলেন, এক্ষেত্রে আমি সবার সহযোগিতা চাই।
তিনি আশা করেন, আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে দৃশ্যমান কিছু পরিবর্তন দেখা যাবে।
বক্তব্যের শুরুতে ডা. খুরশীদ আলম জানান, মহাপরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেননি এ জন্য যে, অধিদপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কে তার সম্যক ধারণা ছিল না। ধারণা না থাকায় অনুমানভিত্তিক কথা বললে তা নিয়ে সমালোচনা হতো। নতুন স্বাস্থ্য মহাপরিচালক বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে এ কাজের ভার দিয়েছেন। মন্ত্রণালয়, আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য সচিবসহ সবাই সহযোগিতা করছেন। আমি যেন প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বস্ততার জায়গাটা অটুট রাখতে পারি, সেজন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবো।
‘দুর্নীতির দায় দেশের প্রতিটি মানুষের’ বলে নিজের মন্তব্যের ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. খুরশীদ আলম বলেন, প্রতিটি ব্যক্তি দেশের দুর্নীতির মাপকাঠি। আপনি ব্যক্তি যদি সৎ না হন, তাহলে মন্ত্রণালয়ের বা দেশের যে অবস্থায় থাকেন না কেন, এটা শুধু আইনকানুন দিয়ে নির্মূল করা যাবে না। ব্যক্তি সৎ হলে দুর্নীতি হ্রাস পাবে।
তিনি আরো জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তার বাবা গত ৬ই জুন মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মা ও ভাই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বৈশ্বিক এ মহামারি মোকাবিলায় সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তিনি এ ভাইরাস মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবেন।

নতুন মহাপরিচালক বলেন, করোনা ও বন্যা এ দুটি দুর্যোগ মোকাবিলা করে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে প্রচেষ্টা চালাবো। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবসহ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত সহযোগিতা ও প্রচেষ্টায় এ দুটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। শতভাগ না হলেও ৯৯ বা ৯০ ভাগ এ দুটি সমস্যার সমাধান করতে পারবো। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে দৃশ্যমান কিছু পরিবর্তন দেখা যাবে বলে আমি আশাবাদী।
স্বাস্থ্যখাতের সব বিষয় সমাধানের ব্যাপারে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নবনিযুক্ত এ মহাপরিচালক।