বিশ্ব বাঘ দিবস আজ

বাংলাদেশ মেইল :: 

আজ বিশ্ব বাঘ দিবস। এবারের বাঘ দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘বাঘ বাড়াতে করি পণ, রক্ষা করি সুন্দরবন’। বর্তমানে বাংলাদেশসহ মাত্র ১৩টি দেশে বাঘের অস্তিত্ব রয়েছে। সারা বিশ্বে বন উজাড়, শিকারি ও পাচারকারীদের কারণে বাঘ মহাবিপন্ন প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।বৈশ্বিক মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে এ বছর বাঘ দিবসের অনুষ্ঠান হচ্ছে না। তবে ভার্চুয়ালি আয়োজন করা হচ্ছে দিবসটির।

২০২০ সালের মধ্যে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে ২০১০ সালে প্রথম চালু হয় বিশ্ব বাঘ দিবস। আজ ২৯ জুলাই (বুধবার) ২০২০ সালের সেই দিনটি এসেছে। পৃথিবীর অন্য অঞ্চলে বিপন্ন বাঘ সংরক্ষণে যেমন উদ্যোগই থাকুক না কেন, সুন্দরবনে এজন্য অনেক প্রকল্প হাতে নিয়ে এবং এক দশক ধরে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হলেও বাঘের সংখ্যার উন্নয়ন ঘটেনি। ১৯৭৫ সালে আনুমানিক ধারণা ছিল সুন্দরবনে বাঘ রয়েছে ৩৭৫টি, ১৯৮৪ সালে গবেষণালব্ধ এই ধারণা ছিল ৪৫০টির মতো। আর ১৯৯২-৯৩ সালের জরিপে এই সংখ্যা ছিল ৩৬২টি। তবে এখন সর্বশেষ গবেষণায় ১১৪টির বেশি বাঘের তথ্য নেই বন বিভাগের হাতে। এ অবস্থায় এক দশকের বাঘ দ্বিগুণের লক্ষ্যে নেওয়া বিশ্ব বাঘ দিবসের অনুষ্ঠানে বড় করুণ মুখে আগের সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ থাকার তথ্য দিয়ে নতুন কী কর্মসূচি নেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, সেটাই এখন দেখার।

দেশে বাঘের একমাত্র আবাসস্থল সুন্দরবনে চোরা শিকারি চক্র এবং জলদস্যু-বনদস্যুদের তৎপরতার কারণে কয়েক বছর আগেও অনেকটা হুমকির মুখে ছিল বাঘ। বাঘকে নিরাপত্তা দিতে বন বিভাগ নানা পরিকল্পনা নিয়ে ‘বাঘ সংরক্ষণ’ নামে একটি প্রকল্প তৈরি করেছে। এটি আগামী আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।বন বিভাগ বলছে, গত ১০০ বছরে বিশ্বের নানা বনাঞ্চল থেকে বাঘের সংখ্যা এক লাখ থেকে কমে চার হাজারেরও নিচে দাঁড়িয়েছে। বাঘের আট উপপ্রজাতির মধ্যে এরই মধ্যে তিনটি বিশ্ব থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।