আপাতত হচ্ছে না রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন

বাংলাদেশ মেইল ::

নির্বাচন কমিশন উদ্যোগ নিলেও রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনে নতুন করে পৃথক আইন আপাতত হচ্ছে না। ফলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশটিও নাম পরিবর্তিত হয়ে নতুন আইন আকারে আসছে না। এক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে কেবল অতি প্রয়োজনীয় অংশ সংশোধন হতে পারে। হতে পারে বিদ্যমান ইংরেজি ভার্সনের পাশাপাশি এ আইনের বাংলা ভার্সনও। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে প্রণীত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ পরিবর্তন করে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আইন ২০২০‘ নাম দিয়ে নতুন আইন এবং এই আইন থেকে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন অংশটুকু বাদ দিয়ে আলাদা রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন  প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এরমধ্যে গণপ্রতিনিধিত্ব আইনটি কমিশনের অনুমোদনের পর  ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ‘রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন ২০২০’ এর খসড়া প্রণয়ন করে রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্টদের থেকে মতামত গ্রহণ করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দল নিবন্ধন আইনের বিপক্ষে মত দিয়েছে। আওয়ামী লীগ তার প্রস্তাবে নতুন আইনটির বিরোধিতা করে বিদ্যমান ব্যবস্থার মতো গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ এর অংশ হিসেবে রাখার পক্ষে মত দিয়েছে। তবে, দলটি রাজনৈতিক দলের সব স্তরে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব রাখার বাধ্যবাকতার ক্ষেত্রে বেধে দেওয়া ২০২০ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সাল করার প্রস্তাব করেছে। এদিকে আওয়ামী লীগ নিবন্ধন আইনের বিরোধিতার পাশাপাশি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ে পাঠানো গণপ্রতিনিধি আদেশ পরিবর্তন করে গণপ্রতিনিধত্ব আইন করারও ঘোর বিরোধিতা করেছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ একটি পূর্ণাঙ্গ আইন উল্লেখ করে দলটি বলেছে— এটা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান করে গেছেন। এখানে কোনও অসঙ্গতি নেই। কাজেই এ আইন পরিবর্তনের কোনও দরকার নেই। আইনটি যেভাবে আছে সেভাবেই থাকুক। এই আইন পৃথক করে করা হলে মানুষ বিভ্রান্ত হবে।  আর  এই আইনটি বাংলায় রূপান্তর করার সুযোগ বিদ্যমান আইনেই আছে। প্রজ্ঞাপন আকারে চাইলে এটা করা যাবে।

বিএনপি তাদের লিখিত প্রস্তাবে খসড়া নিবন্ধন আইনকে উদ্দেশ্যমূলক বলে আখ্যায়িত করেছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, সারাবিশ্ব যখন কোভিড-১৯ মহামারিতে বিপন্ন, সরকারি নির্দেশে সব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রিত, সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ, তখন একটি রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ অস্বাভাবিক, অনভিপ্রেত, অগ্রহণযোগ্য এবং মহলবিশেষের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের অপকৌশল। এই আইন পরিবর্তনের বা স্বতন্ত্র আইন প্রণয়নে এই মুহূর্তে জনগণের কোনও দাবি নেই বলেও মন্তব্য করেছে বিএনপি। কমিশনের উদ্যোগ অসময়োচিত, সামর্থ্যের অপব্যয় ও সন্দেহজনক বলে অভিযোগ করে তারা পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত আইন প্রণয়নের কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবি করেন।

এদিকে করোনাভাইরাস ও বন্যা আক্রান্ত সময়ে নিবন্ধন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ স্থগিত করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে  বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। মহামারি দুর্যোগে স্বাভাবিক রাজনৈতিক তৎপরতা যখন বন্ধ ও সংকুচিত, তখন নির্বাচন কমিশন কর্তৃক এই ধরনের নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে।