ক্যাম্পে ঈদ উদযাপন কষ্টের স্মৃতি কাতর রোহিঙ্গারা

বাংলাদেশ মেইল ::

সারাদেশের মতো কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পালিত হয়েছে ঈদুল আজহা। সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পের কয়েকশ’ মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এনজিওর এবং ব্যক্তিগত পশু কোরবানি দেওয়া হয়। এরআগে, সরকারিভাবেও রোহিঙ্গা পরিবারের জন্য পশু কোরবানির ব্যবস্থা করা হয়।

মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর থেকে চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশে ঈদুল আজহা উদযাপন করেছে রোহিঙ্গারা। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতিত এসব অধিকাংশ রোহিঙ্গারা ভুলতে বসেছেন স্বদেশের ঈদ স্মৃতি। বিশেষ করে ঈদ আসলেই স্বদেশে ফেলে আসা ভিটে-বাড়ি, সহায় সম্পদ ও নানা নির্যাতনে স্মৃতির কথা মনে করে তারা চমকে উঠতো। কিন্তু, আজ অনেকটাই বদলেছে রোহিঙ্গাদের মানসিকতা। কোনও ধরনের মানসিক চাপ ছাড়াই বাংলাদেশের মাটিতে এবারের ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন তারা। এমনকি করোনার এই দুঃসময়েও রোহিঙ্গাদের মধ্যে কোনও ধরনের পরিবর্তন হয়নি।

উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইয়াকুব  জানান, ‘ঈদুল আজহার নামাজ ক্যাম্পে সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজ শেষে এনজিওদের দেওয়া কোরবানির পশু জবাইয়ের পর আমার আওতাধীন সব রোহিঙ্গা পরিবারের মধ্যে তা বণ্টন করেছি। আল্লাহর রহমতে আজ খুব খুশি।’

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং টিভি টাওয়ার সংলগ্ন বটতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের  মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘এক ব্যক্তি আমাদের দুই মাঝির জন্য একটি ছোট কোরবানির পশু দান করেছেন। এই পশু জবাইয়ের পর আনুমানিক ৮০ কেজি গোশত পাওয়া যায়। এসব গোশত প্রায় চারশ’ পরিবারের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয়। এতে প্রতি পরিবার আড়াইশ’ গ্রাম করে পেয়েছেন।’ক্যাম্পে

রোহিঙ্গাদের ঈদকে প্রানবন্ত করতে কাজ করছে বেশকিছু এনজিও । বেশকিছু বিদেশী সংস্থা ঈদ আয়োজনের ব্যবস্থা নেয় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে । কিন্তু স্বাভাবিক নিয়মেই ঈদের আনন্দে মেতেছে শিশুকিশোররা । করোনা পরিস্থিতিতে ঝুঁকি এড়াতে কোন সুরক্ষা ব্যবস্থা চোখে পড়েনি ক্যাম্পগুলোতে । কোন ধরনের মাস্ক , হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহারও চোখে পড়েনি ।

টেকনাফের বিভিন্ন শিবির ঘুরে দেখা গেছে, শিশুরা সকাল থেকেই নিজের পরিস্কার জামা-কাপড় পরে সেজেগুজে শিবিরের রাস্তায় হৈহুল্লোড় আর আনন্দে মেতে উঠেছে। কিশোরীরাও নিজেদের সাজানোর চেষ্টা করেছেন মনের মতো করে। আবার অনেক শিশুকে খালি গায়ে দেখা গেছে।

তবে বড়দের ঈদ উৎসবের আমেজ নেই। তাদের মনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিষ্ঠুর নির্যাতনে প্রাণ হারানো স্বজনদের দুঃসহ স্মৃতি!

কক্সবাজারের ৩০টি রোহিঙ্গা শিবিরে এক হাজার ২০০টি মসজিদ ও ৬৪২টি নুরানী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ টেকনাফের নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৭টি, অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২৬২টি ও ২৮টি নুরানী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এসব মসজিদ ও নুরানী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঈদের জামায়াত আদায় করেছেন মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীরা। কিছু কিছু জায়গায় খোলা আকাশের নিচে নামাজ পড়তে দেখা গেছে।