চট্টগ্রামে সম্পাদকের বাড়ি ঘেরাওয়ের ঘটনায় নোয়াবের উদ্বেগ

বাংলাদেশ মেইল ::

একজন সম্পাদকের বাড়ি ঘেরাও, সেখানে মাইকে স্লোগান ও বক্তৃতা দেয়া এবং এসব ঘটনার জের ধরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের স্থানীয় পত্রিকাগুলো বন্ধ রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (নোয়াব)। সোমবার গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে নোয়াব এই উদ্বেগ প্রকাশ করে।

নোয়াব সভাপতি একে আজাদের পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, পবিত্র ঈদুল আজহার দুদিন আগে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) কিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে দেশের অন্যতম প্রাচীন সংবাদপত্র দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেকের ঘাট ফরহাদবেগের বাড়ি ঘেরাও করে। এর প্রতিবাদে চট্টগ্রামের পাঁচটি দৈনিকের প্রকাশনা ওই দিন থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়। ঈদের পরও পত্রিকাগুলোর প্রকাশনা চালু হয়নি।

নোয়াব মনে করে, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব অথবা পত্রিকার কার্যালয় বাদ রেখে সম্পাদকের বাড়ি ঘেরাও করার বিষয়টি নজিরবিহীন। একটি বাড়িতে পত্রিকার মালিক বা সম্পাদক ছাড়াও মহিলা, শিশু, ক্ষেত্রবিশেষে রোগীও থাকতে পারেন। এ ছাড়া আবাসিক এলাকায় দাবি-দাওয়া নিয়ে সাংবাদিকদের মতো পরিশীলিত একটি গোষ্ঠীর বাড়ি ঘেরাও করতে যাওয়ার ঘটনা অনভিপ্রেত, দুঃখজনক।

সংবাদপত্রের মালিকদের এই সংগঠনটি বলেছে, কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতিতে শুধু চট্টগ্রাম নয়, ঢাকাসহ সারা দেশের সংবাদপত্র শিল্প নজিরবিহীন আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছে। সরকারের বিভিন্ন বিভাগ, সংস্থা, করপোরেশন ও অধিদপ্তরের কাছে বিজ্ঞাপনের বিল বাবদ পত্রিকাগুলোর কোটি কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। পত্রিকার আয় ও প্রচারসংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেকটাই কমেছে।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পত্রিকার পাতা কমিয়ে এবং শুধু অনলাইন সংস্করণ প্রকাশ করে অনেকেই অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন খাত প্রণোদনা পেলেও নিউজপ্রিন্টের ওপর আরোপিত অযৌক্তিক ভ্যাট কমানোসহ নোয়াবের পাঁচ দফা দাবির একটিও জাতীয় বাজেটে পূরণ করা হয়নি।

পত্রিকা প্রকাশ মালিক ও সাংবাদিকদের একটা যৌথ প্রয়াস, এ কথা উল্লেখ করে নোয়াব বলেছে, এখানে দুই পক্ষের সহমর্মিতা ও সহযোগিতা অবশ্যম্ভাবী। দেশের এই সংকটকালে সংবাদপত্রের প্রকাশনা অব্যাহত রাখতে সবার সহযোগিতা ও সমবেদনা প্রয়োজন।  নোয়াব আশা করে, সব পক্ষের সুবিবেচনা ও সহযোগিতায় চট্টগ্রামের পত্রিকাগুলোতে চলমান অচলাবস্থা দ্রুত কেটে যাবে।