চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ অস্থির
প্রতিপক্ষের হামলায় চমেকের দুই ছাত্র আহত, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

বাংলাদেশ মেইল :: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুটি পক্ষের কাটাকাটির জের ধরে ফরহাদ ও প্রান্তিক নামের দুই ছাত্রের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে তারা আশংকাজনক অবস্থায় চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আহত দুজনই সাবেক মেয়র আ জ ম নাসিরের অনুসারী বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটায়  চকবাজার থানাধীন জয়নগর সংলগ্ন মেইন রোডে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ৫৭তম ব্যাচের ইন্টার্ন ডা.ওসমান গনি ফরহাদ ও ৫৮তম ব্যাচের ছাত্র সানি হাসনাইন প্রান্তিক প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হন।  আহত হাসনাইন চমেকসু ‘১৯-‘২০ এর সাহিত্য সম্পাদক।

ডা.ওসমান গনি ফরহাদ জানান, রাতে জয়নগর থেকে বের হয়ে চকবাজার থানায় যান তারা। ফেরার সময়  চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ৫৮তম ব্যাচের খোরশেদ বিন মেহেদী,ইমন শিকদার,তৌফিক,ইশতি,কে.এম তানভীর,বুলবুল,ওবায়েদ,শাহরিয়ার ইমন,  ৫৯ তম ব্যাচের জয়,আরাফ, ৬০ তম ব্যাচের অভিজিৎ,ফাহাদ,জামশেদ,শাওন দত্ত,বোখারী,হোজাইফা ও ৬১তম ব্যাচের হৃদয়,ইমতিয়াজ,সাইফ,হাবিব,নিবরাজ,কনক আমাদের উপর হামলা চালায়। বহিরাগতদের নিয়ে  হত্যার উদ্দেশ্যে আমাদের উপর  দা,হকিস্টিক ও কাচের বোতল দিয়ে মাথায় এলোপাতাড়িভাবে আঘাত করে।

ইন্টার্ন ডক্টরস এসোসিয়েশনের সদস্য সচিব ডা.তাজোয়ার রহমান অয়ন বলেন, দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য চমেক হাসপাতালে কর্মরত সকল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে।

বিএমএ’র সাধারন সম্পাদক ডাঃ ফয়সল ইকবাল চৌধুরী জানান,  রাত ১০ টার দিকে চমেক আইডিএ সভাপতি ডাঃ ওসমান ফরহাদ এবং ডাঃ প্রান্তিক কে চকবাজার থানা থেকে এক এস আই ফোন দিয়ে বলে একটা স্বাক্ষর বাকি আছে, করতে হবে।  যখন থানা খেকে এই দুইজন স্বাক্ষর করে জয়নগর ১ নং গলির মুখে আসে সেখানে আগে থেকে অন্ধকারে ওঁত পেতে থাকা  নওফেল গ্রুপের ছেলেরা ১০/১৫ জন মিলে দুই জনকে কাঁচের বোতল,  হকিস্টিক দিয়ে মারাত্নকভাবে মাটিতে ফেলে আঘাত করে।  ওরা দুই জন বর্তমানে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। প্রান্তিকের মাথায় কাঁচের বোতল দিয়ে আঘাত করেছে অনেক সেলাই পড়েছে। ওসমানের নাক মাথা সব ফাটাই দিয়েছে বমি ও হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন  তৌফিক নামের এ গ্রুপের এক ছেলে জযনগর ১ নং গলির মুখে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে। সবাই ঐ বাসা থেকে বের হয়ে হামলা করে।

বৃহস্পতিবার  রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের   অধ্যক্ষ ডাঃ শামীম আহসান ও বিএমএ’র সভাপতি ডাঃ মুজিবুর রহমান আহত দুজনকে দেখতে যান।  আহতদের সিটি স্ক্যান ব্রেইন করার ব্যবস্হা করেন তারা।

এ ঘটনায় দশজনকে চকবাজার থানায় নিয়ে জিজ্ঞেসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিউটি অফিসার নাসির।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের প্রধান ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ছাত্রাবাসে আধিপত্য নিয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারীদের মধ্যে এই মারামারি হয়েছে বলে জানা গেছে।

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, ‘কলেজ বন্ধ। কিন্তু ছাত্রাবাস অফিসিয়ালি বন্ধ করা হয়নি। সেখানে ইন্টার্নি ডাক্তাররা থাকেন। মারামারির খবর পেয়ে পুলিশের সঙ্গে প্রভোস্ট ও হোস্টেল সুপার ছাত্রাবাসে যান। ইন্টার্নি ডাক্তার ছাড়া বাকি ছাত্রদের হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার ইন্টার্নি ডাক্তারদেরও বের করে ছাত্রাবাস পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে চমেক কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ছাত্রাবাসে অবস্থানরত ইন্টার্নি ডাক্তাররা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত এবং আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী। আর বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থী যারা হলে উঠতে গিয়েছিলেন তারা উপমন্ত্রী নওফেলের অনুসারী। মূলত বন্ধের মধ্যেও ইন্টার্নি ডাক্তাররা হলে অবস্থান করছেন জানতে পেরেই তারা ছাত্রাবাসে যান। মারামারির পর উভয়পক্ষ হলে অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন।

এর আগে গত ১২ জুলাই চমেক ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে মারামারিতে কমপক্ষে ১৩ জন আহত হন। এরপর নওফেলের অনুসারী চমেক ছাত্রলীগের নেতা খোরশেদুল আলম বাদি হয়ে ১১ চিকিৎসকসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।