অন্যরাও যেন আমিরাতকে অনুসরণ করে: প্রত্যাশা যুক্তরাষ্ট্রের

ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্র চাইছে অন্য মুসলিম ও আরব দেশগুলোও যেন আমিরাতকে অনুসরণ করে। হোয়াইট হাউসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, এমন চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আরও অনেক দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্পের সিনিয়র উপদেষ্টা ও তার ইহুদি ধর্মাবলম্বী জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত আভি বেরকোউইটজ আরব দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন।
এখন পর্যন্ত আমিরাত ছাড়া উপসাগরীয় আর কোনও আরব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের প্রকাশ্য কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে আমিরাতের মিত্র সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠতার খবর গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়ে আসছে। সম্পর্কোন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার করে ইসরায়েল-ভারতের সরাসরি বিমান চলাচলের অনুমতি দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েলে ফ্লাইট পরিচালনায় নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারে কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় রিয়াদ।
এমবিএস হিসেবে পরিচিত সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রকাশ্যেই মন্তব্য করেছেন, ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকার রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কার্যত একটি ইহুদিবাদী রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলকে মেনে নিয়েছে রিয়াদ। এখন মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবও কী শিগগিরই ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে কিনা সেটাই দেখার বিষয়।
সৌদি-আমিরাত বলয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত মিসর, বাহরাইন ও ওমান ইতোমধ্যে এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে রিয়াদের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে প্রকাশ্য কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিবিসি জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধি দল নিয়মিত মিলিত হবে নানা বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করতে। এর মধ্যে বিনিয়োগ, পর্যটন, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট, নিরাপত্তা, টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, পরিবেশ, দুই দেশে পরস্পরের দূতাবাস স্থাপন থেকে কিছুই বাদ থাকছে না। দুটি বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে যত রকমের সম্পর্ক থাকার কথা, তেমনই এক সম্পর্কের দিকেই যাচ্ছে দুই দেশ। আর ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাশা অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের আরও কোনও দেশ একই পথে হাঁটার ঘোষণা দিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।