জিয়াউর রহমান প্রথম সেক্টর কমান্ডার হিসেবে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন : নজরুল ইসলাম খান

বাংলাদেশমেইল:  বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ওবায়দুল কাদের একটি রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক, তার বিষয়ে আমি কি মন্তব্য করব বুঝতে পারছি না। তবে তার বক্তব্য মানুষের কাছে এখন হাসির পাত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যার কণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা শুনেছেন তিনি হলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী থেকে বিদ্রোহ করে তার কমান্ডারকে হত্যা করে চট্টগ্রাম দখল করার মাধ্যমে প্রথম সেক্টর কমান্ডার হিসেবে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন। তিনি যদি অপশনাল হন তবে মূল কে? আর তখন জনাব ওবায়দুল কাদেরের অবস্থান কোথায় ছিল সেটাও হয়তো তার পরিষ্কার করা দরকার।

বুধবার জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা জানি মরহুম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের হত্যার বিচার আদালতে হয়েছে। সেখানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে কেউ অভিযুক্ত করেনি এবং মামলার কোথাও তার নাম আসেনি। এখন সাজাপ্রাপ্ত আসামির ফাঁসির আগে জোরপূর্বক তার বক্তব্য নিয়ে তা অনৈতিকভাবে ভাইরালের মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শুধুমাত্র জাতিকে বিভক্ত করার জন্য এসব বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। আমরা চাই দেশের সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য এসব নোংরা কাঁদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করুন।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সফর সম্পর্কে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, পররাষ্ট্রনীতির সকলের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়াটাই উত্তম বলে আমরা বিএনপি মনে করি। জোর করে হোক আর যেভাবেই হোক বর্তমানে যারা সরকারে আছেন তারাই দেশের দায়িত্বে পালন করছেন। তাদের উচিত দেশের স্বার্থে কাজ করা। কোন দেশের সাথে কোন বিষয়ে বৈঠক হলো সে সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু এমন অনেক চুক্তি হয়েছে যা এখনো পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। আমরা আশা করব সরকার দেশের স্বার্থ রক্ষা করে পররাষ্ট্রনীতির পরিচালনা করবে এবং জনগণকে সকল বিষয় অবহিত করবে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সদ্য মরহুম সভাপতি শফিউল বারী বাবুকে স্মরণ করে বিএনপি’র এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, আমরা জানি মাত্র কয়েকদিন আগে স্বেচ্ছাসেবক দল তাদের প্রিয় নেতা শফিউল বারী বাবুকে হারিয়েছে। সেই শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে তারা আজকে তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে এসেছে। আজকের তারা এখানে এসে জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত করার শপথ নিয়েছে।

তিনি বলেন, আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে সেচ্ছাসেবক দলকে অভিনন্দন জানাই। মরহুম শফিউল বারী বাবুর আত্মার মাগফেরাত কামনা করি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সম্পূর্ণ সাফল্য কামনা করছি। আশা করছি একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারব।

তিনি বলেন, আমরা জানি জনগণের সমর্থন নেই দেখেই এই সরকার সুষ্ঠু ভোট দিতে ভয় পায়। তারা জনগণকে ভোট থেকে দূরে রেখেছে। বিরোধীদলের লাখ লাখ নেতাকর্মীকে হামলা-মামলায় জর্জরিত করেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়েছে এবং দেশনায়ক তারেক রহমানকে অন্যায়ভাবে দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য করছে।