বাঁশখালীর পাহাড়ি এলাকায় অস্ত্রধারী ডাকাত দল ফের সক্রিয় !

জোবাইর চৌধুরী, বাংলাদেশ মেইল ::

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ও চাম্বল ইউনিয়নের পাহাড়ী এলাকায় অস্ত্রধারী ডাকাতদল ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ডাকাতদল পাহাড়ী এলাকায় বিভিন্ন এলাকা হতে চিহ্নিত ডাকাতদের সংঘবদ্ধ করে আস্তানা গড়ে তুলেছে। ডাকাতদলের প্রকাশ্য অস্ত্রের মহড়ায় ওই এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে আতংক।

এ ঘটনায় পূর্বের ন্যায় র‌্যাব-৭ এর অভিযান পরিচালনার দাবী জানিয়েছে সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার প্রতিও এইসব অস্ত্রধারী ডাকাতদের বিরুদ্ধে অভিযানের জোর দাবী জানিয়েছেন তারা। এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পুঁইছড়ি ইউপির নাপোড়া গ্রামের সামশিয়া ঘোনা পাহাড়ী এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সংঘবদ্ধ অস্ত্রধারী ডাকাতদল পাহাড়ের গাছ কর্তন ও মাটি কাটা অব্যাহত রেখেছে। এই সময় ডাকাত দলের অস্ত্রের মুখে জীম্মি হয়ে পড়া এলাকাবাসীরা জানান চাম্বল ইউপির ৬নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আবদুল মাবুদের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল পাহাড়ের গাছ ও মাটি কাটা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৯ সালের জুলাই মাসের শেষ দিক হতে র‌্যাব-৭ এর উপর্যুপরি অভিযানে ৩ ডাকাত বন্ধুকযুদ্ধে নিহত ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করার পর কিছুদিন গাঁ ডাকা দেয় সংঘবদ্ধ ডাকাত দল। তবে চলতি বছরের আগস্ট মাসের শুরুর দিকে সংঘবদ্ধ ওই ডাকাত দল ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ডাকাত দল পাহাড়ের সরকারি বনায়ন ও সাধারণ মানুষের নিজস্ব বাগান হতে মূল্যবান গর্জন গাছ সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কর্তন করে নিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া গাছ কর্তন করে বাগান পরিস্কার করে মাটি কেটে নতুন নতুন স্থাপনাও তৈরি করছে তারা। এদিকে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের অবৈধ অস্ত্রের ফাঁকা গুলির শব্দে এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। ওই এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। এই ডাকাত দলের এহেন কর্মকান্ডে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না কেউ। এ ঘটনায় এলাকার শিক্ষিত যুব সমাজ বন বিভাগ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছে।
এই বিষয়ে জানতে চাম্বল ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য আবদুল মাবুদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পাহাড়ী এলাকায় তার নিজস্ব জায়গা হতে গাছ কর্তন করা হচ্ছে। সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তার কোন হাত নেই বলে জানান।
এ ব্যাপারে জলদী অভয়ারণ্য রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, পাহাড়ী এলাকায় ফের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে শুনেছি। এই বিষয়ে আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। অস্ত্রধারী এই ডাকাতদলের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিবেন বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে জানতে বাঁশখালী থানার ওসি মোঃ রেজাউল করিম মজুমদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অস্ত্রধারী ডাকাতদলের বিষয়ে সঠিক তথ্য এলাকাবাসী থেকে পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।