মাদ্রাসা থেকে অব্যাহতি
ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে হাটহাজারী মাদ্রাসা ছাড়তে বাধ্য হলেন আনাস মাদানী

বাংলাদেশ মেইল :: 

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০) দুপুর থেকে চট্টগ্রাম দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার হাজার হাজার শিক্ষার্থী মাদ্রাসার ভেতরে অবস্থান নিয়ে আনাস মাদানীর বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বুধবার রাতেই অনুষ্ঠিত হয় মজলিশে সূরার বৈঠক। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা আহমদ শফী। পিতার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পুত্র আনাস মাদানীকে মাদ্রাসা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

বুধবার দুপুর থেকে আনাস মাদানীকে স্বীয় পদ থেকে বহিস্কারসহ ছাত্রদের ৫ দফা আন্দোলনে মাদ্রাসার আশপাশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে র‌্যাব, পুলিশ সহ বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাদ্রাসার গেইটের বাহিরে অবস্থান নেন। আন্দোলনরত  ছাত্ররা জানান , মাদ্রাসার মাঠে বসে সুরা কমিটি তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।

আন্দোলনরত ছাত্র আব্দুর রহমান জানান,  আমাদের পাঁচটি দাবি রয়েছে। মাওলানা আনাস মাদানী কে অনতিবিলম্বে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করতে হবে। ছাত্র দের প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বাস্তবায়নে সকল প্রকার হয়রানি মূলক কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। আল্লামা আহমদ শফী সাহেব মাযূর এবং অক্ষম হওয়ার কারণে পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে উপদেষ্টা বানাতে হবে।
ওস্তাদদেরকে মাদ্রাসা থেকে বিয়োগ নিয়োগ পরিপূর্ণভাবে সূরার নিকট হস্তান্তর করতে হবে।
বিগত শূরার হক্কানী আলেমদেরকে পুনরায় নিয়োগ এবং সূরার মধ্যে দালালদেরকে বহিষ্কার করতে হবে। ‘

আন্দোলনের  মুখে রাতে মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরী সভায় আনাস মাদানীকে অব্যাহতি দেবার   সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০ টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের এ ঘোষণা পাঠ করে শোনান মাদ্রাসার শুরা সদস্য ও মেখল মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা নোমান ফয়জী।

মাওলানা নোমান ফয়জী বলেন, হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রবীণ শিক্ষক মাওলানা আনাস মাদানীকে অব্যাহতিসহ মোট তিনটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুরা কমিটি।