জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
বাঁশখালীতে জামায়তের ষড়যন্ত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভক্ত না হবার আহবান জানালেন মোস্তাফিজুর রহমান এমপি

বাংলাদেশ মেইল ::  

চট্টগ্রামের বাঁশখালি উপজেলা আওয়ামীর লীগের নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা আলী আশরাফের মরদেহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও গার্ড অব অনার ছাড়াই দাফন করার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,  গত ২৬ জুলাই বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা আলী আশরাফের মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও গার্ড অব অনার পাওয়ার কথা।  কিন্তু দুর্গম এ এলাকায়  উপজেলা প্রশাসন কিছুটা দেরিতে উপস্থিত হওয়ায় তার আগেই দাফন সম্পন্ন হয়।

তিনি বলেন,‘অনাকাঙ্খিত ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে প্রচার করে সরকারের ভাবমূর্তি নস্ট করার ষড়যন্ত্র লিপ্ত জামায়াতের মদদপুষ্ট একটি সংঘবদ্ধ চক্র । ওই ঘটনার সময় আমি করোনা ভাইরাসে
আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় ছিলাম। তারপরও যদি এ ঘটনায় কোনো মুক্তিযোদ্ধা কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি’।

তিনি আরো বলেন,ঘটনার পর আমি জানতে পারি প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাকে যথাযথ মর্যাদায় দাফন ও গার্ড অব অনার দেবার সব রকম প্রস্তুতি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন জানাযার স্থানে গিয়েছিল। কিন্তু একটি পক্ষ গার্ড অব অনার দেয়া না জায়েজ এমন ধর্মীয় ব্যাখা দিয়ে তড়িগড়ি করে তার দাফন সম্পন্ন করে ফেলে।

এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাঁশখালী স্বাধীনতার আগ থেকেই স্বাধীনতা বিরোধীদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ৯১ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে এই এলাকায় আওয়ামী লীগ সংগঠিত হতে থাকে। ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াত উপজেলা চেয়ারম্যানসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ  পদে জয়লাভ করেছিল। কিন্তু পরবর্তিতে আওয়ামী নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এ উপজেলার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পৌর মেয়রসহ অধিকাংশ পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন।

বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধা ইস্যুকে সামনে এনে পরিকল্পিতভাবে দলের মধ্যে কোন্দল তৈরি করে জামায়াত তাদের ঘাঁটি পুনরুদ্ধারের ষড়যন্ত্র করছে দাবি করে তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহবান জানান।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে  তিনি বলেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সাম্প্রতিক যে ঘটনাকে সামনে আনা হয়েছে, সেটিও ছিল পরিকল্পিত। মুক্তিযোদ্ধাদের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে সংঘবদ্ধ চক্রের হাতে হামলার শিকার হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ও বাঁশখালীর পৌর মেয়র সলিমুল হক। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি কখনো আরেকজন মুক্তিযোদ্ধাকে পিটিয়ে আহত করতে পারে না। কিন্তু জামায়াতের  ষড়যন্ত্রের কাছে নত শিকার করে  কিভাবে এমন হীন কাজে লিপ্ত হলেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পরিচয়দানকারীরা।

প্রসঙ্গত,  গত ২৬ জুলাই মুক্তিযোদ্ধা আলী
আশরাফ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১২নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।