হাসান মাহমুদ চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক জানানো নিয়ে ভিন্নমত নওফেলের

বাংলাদেশ মেইল :: 

চট্টগ্রামের কাশেম নুর ফাউন্ডেশনের প্রধান ও বিশিষ্ট   ব্যবসায়ী  হাসান মাহমুদ চৌধুরীর মৃত্যুর খবরে শোক ও সমবেদনা জানানোর পর তার রাজনৈতিক অতীতের  কারনে শোক জানানো নিয়ে নিজের অবস্থান  পরিষ্কার করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান নওফেল। নওফেল মঙ্গলবার সকালে নিজের ফেসবুক স্টাটাসে সাবেক শিবির নেতার মৃত্যুতে শোক জানানোর  বিষয়ে নিজের ভিন্ন মতের কথা উল্লেখ করেন।

প্রয়াত হাসান মাহমুদ চৌধুরী সাবেক মন্ত্রী জিয়াউদ্দিন বাবলুর সহোদর। তিনি ছাত্র জীবনে শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান নওফেল লিখেছেন,

চট্টগ্রামের “কাশেম-নুর ফাউন্ডেশন” এর প্রধান, জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলুর ভাই, জনাব হাসান মাহমুদ চৌধুরীর মৃত্যুতে অনেকের মতো আমিও শোক প্রকাশ করেছি। তার সাথে আমার বিশেষ পরিচয় ছিলোনা। অস্ট্রেলিয়ায় চট্টগ্রাম সমিতির একটি অনুষ্ঠানে আমার সাথে প্রথম পরিচয়। যতদুর জানি এই ফাউন্ডেশন করোনাকালীন সময়ে দান অনুদান সহযোগিতা করেছে চট্টগ্রামে। তাই দানশীল ব্যক্তির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করাই স্বাভাবিক। তবে অতীতে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিবিরের রাজনীতি করেছেন বলে আমাকে জানানো হয়েছে, এবং এই অভিযোগও তোলা হয়েছে যে তিনি ছাত্রলীগ নেতা হত্যার মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। আমি সেই সময়ের রাজনীতির প্রত্যক্ষদর্শী ছিলাম না, তবে যারা ছিলেন তারা এই কথা বলেছেন, এবং যারা বলেছেন তারা ত্যাগী রাজনৈতিক কর্মীই ছিলেন। সুতরাং, ছাত্র শিবিরের খুনের আর বাংলাদেশ বিরোধী রাজনীতির সাথে জড়িত ব্যক্তির অপরাধ শুধুই কিছু টাকা দান করলেই মোচন হয়ে যাবেনা। অতীত রাজনৈতিক ও ফৌজদারি অপরাধের (যদি করে থাকে) অনুশোচনা তার ছিলো কিনা জানিনা, তবে সেই রাজনীতির প্রতি এবং এর ধারককে অবশ্যই ধিক্কার জানাই। বাংলাদেশ বিরোধী রাজনীতি, খুন-হত্যা-রাহাজানির রাজনীতি, স্বাধীনতার স্বপক্ষের রাজনৈতিক শক্তিকে হত্যার করার রাজনীতি, কখনোই আর্থিক অনুদান দিলেই মোচন হয়ে যাবেনা, যেতে পারেনা। শিবিরের খুনের রাজনীতি এবং এই রাজনীতিকে যেই ব্যক্তিই ধারণ করেছে, যদি তা সত্য হয়ে থাকে এবং, যদি অনুশোচনা না করে থাকেন তাহলে তার প্রতি সহানুভুতি এবং শোক প্রকাশের কোনো অবকাশ নাই।