শুরা বৈঠকে সিদ্ধান্ত
নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার মুহতামিম জটিলতার অবসান

বাংলাদেশ মেইল ::

নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার মজলিশে শুরার বৈঠক শেষ হয়েছে। বুধবার ( ২৮ অক্টোবর)  সকাল দশটা থেকে বিকেলে তিনটা পর্যন্ত শুরা বৈঠকে অংশ নেন শুরা সদস্যরা।

শুরা বৈঠক নিয়ে কোন ধরনের উত্তেজনা এড়াতে প্রশাসন সকাল থেকে নাজিরহাট বাজার বন্ধ করে দেয়৷ মাদ্রাসার আশপাশের সড়কসমুহ বন্ধ করে দেয় উপাজেলা প্রশাসন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে  বাড়তি পুলিশ অবস্থান নেয় মাদ্রাসার গেটে।

বুধবার শুরা বৈঠকের সিদ্ধান্ত ঘোষনা করেন বাবু নগর মাদ্রাসার মুহতামিম  মাওলানা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী। শূরা বৈঠকের ফয়সালা অনুযায়ী নাজিরহাট বড়  মাদ্রাসার মুহতামিম হিসেবে  মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী দায়িত্ব পালন করবেন।  নায়েবে মুহতামিম  মৌলানা ইয়াহিয়া, মুঈনে মুহতামিম হিসেবে হাফেজ মোঃ ইসমাইল, নাজেমাত তালিমাত হিসেবে মৌলানা হাবিবুল্লাহ নদভী, নায়েবে নাজেমাত তালিমাত হিসেবে মুফতি রবিউল হোসেন, ছাত্র ভর্তি ও পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন মৌলানা আসাদ  ও মৌলানা জাফর সাহেব।

এছাড়া শুরা বৈঠকে মাওলানা সলিম উল্লাহসহ ১৩ শিক্ষককে বহিঃস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

 

হাটহাজারী বড় মাদ্রাসার পর দ্বিতীয় প্রাচীনতম দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফটিকছড়ির ‘নাজিরহাট বড় মাদ্রাসা’র মুহতামিম পদ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল গেল জুন মাসের শুরু থেকে । উদ্ভূদ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে গত বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইন শৃংখলা সভায় স্থানীয় এমপি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ‘ফটিকছড়িতে হাটহাজারী মার্কা কোন অবস্থা তৈরী হতে দেব না’ মর্মে হুঁসিয়ারী দেয়ার পর দু’পক্ষই রাতে উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমঝোতা বৈঠকে বসতে বাধ্য করে ।

জানা যায়, গত ২৮ মে আল-জামিয়াতুল আরবিয়া নছিরুল ইসলাম ‘নাজিরহাট বড় মাদ্রাসা’র মুহতামিম আল্লামা সাইয়্যেদ মুহাম্মদ ইদ্রিছ ইন্তিকাল করলে মুহতামিমের পদটি শুন্য হয়। তারই প্রেক্ষিতে একজন মুহতামিম নিয়োগ দেয়ার প্রয়োজনীয়তা হেতু দায়িত্বপ্রাপ্ত নায়েবে মুহতামিম মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমীকে মজলিশে শুরার সভা আহবান করার অনুরোধ জানান ওই মাদ্রাসার মুতাওয়াল্লী এবং সভাপতি আল্লামা শাহ আহমদ শফি। কিন্তু তিনি কোন উদ্যোগ নেননি বরং গড়িমসি করে সময়ক্ষেপণ করছিলেন বিধায় মাদ্রাসা শুরা কমিটির সভাপতি ও মুতাওয়াল্লীর ক্ষমতাবলে আল্লামা শফি গত ৭ জুন বার্ধক্যজনিত কারণে তাঁর নিজ কার্যালয়ে মজলিশে শুরার সভা আহবান করেন। উক্ত সভায় উপস্থিত শুরা সদস্যগণের সর্বসম্মতিক্রমে এবং করোনা পরিস্থিতির কারণে অনুপস্থিত সদস্যগণের সম্মতি নিয়ে নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার শিক্ষা বিভাগীয় প্রধান মাওলানা মুহাম্মদ ছলিম উল্লাহকে ওই মাদ্রাসার মুহতামিম নিযুক্ত করা হয়। পরে নবনিযুক্ত মুহতামিম মাওলানা ছলিম উল্লাহ ‘মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, ৭৮ মাসের বাসা ভাড়া বকেয়াসহ নানা অভিযোগে নায়েবে মুহতামিম মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমীকে মাদ্রাসা থেকে অব্যাহতি দিয়ে দেন’। এর পূর্বাপর অবস্থা থেকেই মাওলানা ছলিম উল্লাহ এবং হাবিবুর রহমান কাসেমীর পক্ষে এলাকাবাসী বিভক্ত হয়ে পাল্টা-পাল্টি প্রচার-অপপ্রচার প্রতিযোগিতা শুরু করে। তাই সরকার মাদ্রাসার নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরা বসিয়েছে। এরমধ্যে মাওলানা ছলিম উল্লাহকে মুহতামিম নিয়োগ বৈধ নয় বলে অব্যাহতিপ্রাপ্ত নায়েবে মুহতামিম মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী আদালতের আশ্রয় নেন। কিন্তু আদালত দু’পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়। ইত্যবসরে হাটহাজারী বড় মাদ্রাসায় ছাত্র অসন্তোষে আল্লামা আহমদ শফী পুত্র আনাস মাদানীর পতন এবং মুহতামিম পদ থেকে আল্লামা শফীর পদত্যাগ পরবর্তী চিরবিদায়ে মূল কর্তৃত্বে অলংকৃত হয় দীর্ঘদিন নিগৃহীত হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। এতে করে আরব বসন্তের ন্যায় পুরো কওমী অঙ্গনেও পরিবর্তন হাওয়া শুরু হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আল্লামা শফীর অনুসারী খ্যাত নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা ছলিম উল্লাহকে সরিয়ে জুনায়েদ বাবুনগরীর অনুসারী খ্যাত মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমীকে ওই পদে বসাতে ২৫ অক্টোবর কতিপয় এলাকাবাসী এবং বহিরাগত লোকজন মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে জমায়েত কর্মসূচী ঘোষণা করেছিল। পাল্টা হিসেবে মাওলানা ছলিম উল্লাহ’র লোকজনও ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়। এমনতর পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ফটিকছড়ি উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায় স্থানীয় এমপি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ঘোষণা দিতে বাধ্য হন; আল্লামা শফীকে শ্রদ্ধা করতাম। ওনি মারা গেছেন। ওখানে জুনায়েদ বাবুনগরী আছেন; ওনাকেও শ্রদ্ধা করি। মুরুব্বী হিসেবে আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীকেও শ্রদ্ধা করি। হাটহাজারী মাদ্রাসায় কোন গন্ডগোল হোক- আমরা চাইনি; সরকারও চায়নি। এখন দেখছি- আমার ফটিকছড়িতে হাত দিচ্ছে! সোজা কথা- আমার ফটিকছড়িতে আমি কোন কিছু করতে দেব না।