২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের দাবি হেফাজতের

বাংলাদেশ মেইল ::

ফ্রান্সে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনীর প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন, রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার ও দূতাবাস বন্ধ করে দেয়ার দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির ডাক দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। বিক্ষোভ সমাবেশে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোর কুশপুত্তলিকা পুড়ানো হয়।

বায়তুল মোকাররম থেকে মালিবাগ-মৌচাক পর্যন্ত পুলিশি বাধা ডিঙ্গিয়ে মিছিল করেছে হেফাজতে ইসলাম। একপর্যায়ে পুলিশের অনুরোধে সাড়া দিয়ে মিছিলের মধ্যস্থানে পিকআপ ভ্যানে থাকা হেফাজতের নেতৃবৃন্দ শান্তিনগর মোড়ে সমাবেশ করে গতকালের কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করেন।
হেফাজতে ইসলামের ডাকে ঢাকাস্থ ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও করতে গতকাল সকাল থেকেই বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর প্লাজায় জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এসময় বিভিন্ন ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, কলেমা লেখা ব্যানার নিয়ে দলে দলে তারা অংশ নেন। সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যেই বায়তুল মোকাররম থেকে পুরানা পল্টন, জিরো পয়েন্ট ও নয়াপল্টনের নাইটেঙ্গেল মোড় পর্যন্ত বিপুল মানুষের সমাবেশ ঘটে।

হেফাজতের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মসজিদ এলাকার আশপাশসহ ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় সড়ক নিয়ন্ত্রণ করা হয়। যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। মালিবাগ মোড়, কাকরাইল, পল্টন, গুলিস্তান, মতিঝিল, ফকিরাপুল, মৎস্য ভবন এলাকায় বিপুল পুলিশ মোতায়েন ছিল। এরমধ্যেই দলে দলে আসতে শুরু করেন মুসল্লিরা। বায়তুল মোকাররম থেকে পল্টন মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন তারা। আর বায়তুল মোকারমের দক্ষিণ প্লাজায় বক্তব্য রাখছিলেন হেফাজতের শীর্ষ নেতারা। নয়াপল্টন মোড় পর্যন্ত মাইকে শোনা যাচ্ছিলো তা। আর কর্মী-সমর্থকরা দলে দলে শৃঙ্খলভাবে সমাবেশের স্থানে দাঁড়িয়ে থাকেন। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন।

অল্প সময়ের মধ্যেই ওই এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। দৃষ্টিসীমাজুড়ে শুধুই সাদা পাঞ্জাবি ও টুপি। সেই সঙ্গে দেখা যাচ্ছিলো ফ্রান্সবিরোধী স্লোগান সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড। এসব ব্যানার-প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘রাসুলের অপমানে যদি কাঁদে না তোর মন, মুসলিম নয়, মুনাফিক তুই রাসুলের দুশমন’, ‘আই লাভ মোহাম্মদ’, বয়কট ফ্রান্স ইত্যাদি। বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদ থেকে নেতৃবৃন্দ বক্তব্য শেষ করে ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি শুরু করেন। যাত্রা শুরু করার আগে ঘোষণা দেয়া হয়, আমাদের এই স্রোত নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নেই। তাই আমাদের নিজেদেরই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এসময় হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, ঢাকা মহানগর হেফাজতের সভাপতি আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীসহ নেতৃবৃন্দকে বহনকারী পিকআপটি বায়তুল মোকাররম থেকে ধীরগতিতে জনসমাবেশের মধ্যে দিয়ে আসতে থাকে। এ সময় রাস্তা থেকে লোকজনকে সরিয়ে দিচ্ছিলেন কর্মীরা।

এসময় সড়কের দুই লেন থেকেই মিছিল শুরু হয়। বেশ কয়েকটি পিকআপ ও রিকশা থেকে মাইকে স্লোগান দেয়া হচ্ছিলো। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা। বিক্ষোভ মিছিলটি কয়েক দফা পুলিশি বাধার শিকার হয়। পল্টন থেকে কাকরাইল মোড়ে গেলে পুলিশ বাধা দিয়ে ব্যর্থ হয়। মিছিলটি শান্তিনগর মোড় এলাকায় পৌঁছলে পুলিশের আরেক দফা ব্যারিকেডের মুখে পড়ে। সেখানে পুলিশ, র‌্যাব ও ডিবি পুলিশ অবস্থান নিয়েছিলো। এসময় মুসল্লিদের ফিরে যেতে অনুরোধ করে পুলিশ। এসময় পুলিশের ব্যারিকেড ডিঙ্গিয়ে মিছিলটি এগিয়ে যায় মালিবাগের মৌচাকের দিকে। তখনও হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দকে বহনকারী পিকআপটি পৌঁছে যায় শান্তিনগর মোড়ে। কয়েক দফা পুলিশ সেখানে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তারা নেতৃবৃন্দকে বিক্ষোভ মিছিলটি সেখানে শেষ করতে অনুরোধ করলে সাড়া দেন নেতৃবৃন্দ। পুলিশের অনুরোধে তারা শান্তিনগর মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।

সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করুন। বাংলার মাটিতে ওই দূতাবাস বন্ধ করুন। ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করুন। নতুবা আরো কঠোর থেকে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। সেদিন আর এখানে থামবো না। সেদিন ফ্রান্স দূতাবাস টুকরো টুকরো করা হবে।