শত প্রলোভনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাজনীতি করেছেন আক্তারুজ্জামান বাবু : হানিফ

বাংলাদেশ মেইল ::

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, শত প্রলোভনকে পায়ে ঠেলে রাজনীতি করেছেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। এভাবেই তিনি নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি সকল পরিচিতি ছাপিয়ে রাজনীতিবিদ পরিচয়েই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। সামরিক স্বৈরশাসকের মন্ত্রী হবার প্রলোভন তাকে টলাতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বাবু ভাইকে শ্রদ্ধা করতেন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব বঙ্গবন্ধু হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সাংসদ মোছলেম উদ্দিন আহমদ।

মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সোনার বাংলা গড়তে পারলেই বাবু ভাইয়ের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে। আওয়ামী লীগের রাজনীতির উজ্জ্বল নাম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্মৃতি অম্লান হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, খন্দকার মোশতাকের বেঈমানির কারণে জাতীয় চার নেতা জীবন দিয়েছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর রক্তের সাথে বেঈমানি করেননি। শত প্রলোভনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জাতীয় চার নেতা শহীদ হয়েছেন। তাঁদের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে তরুণ প্রজন্ম এগিয়ে যাবে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন এমপি বলেন, নেতা আর জননেতা এক নয়। আখতারুজ্জামান বাবু ছিলেন জননেতা। গণমানুষের নেতা। বাবু ভাই কথা ও কাজে এক থাকতেন। তিনি বলেন, নেতৃত্বের প্রতি অটুট আস্থা রেখে দলকে ঐক্য রাখার শিক্ষা দিয়ে গেছেন তিনি। আমরা তা অনুসরণ করলে আমাদের রাজনীতি সুন্দর হবে। মন্ত্রী না হয়েও তিনি দলের জন্য কাজ করেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে মোছলেম উদ্দিন আহমদ এমপি বলেন, বাবু ভাই একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি হলেও তার বাড়িতে সর্বসাধারণের অবাধ যাতায়াত ছিল। সকলের প্রতি সৌজন্যতা দেখাতেন। গণমানুষের নেতা ছিলেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ভাই। দলের ঐক্যের প্রতীক আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু সর্বক্ষেত্রে সফল মানুষ ছিলেন।

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, আমার বাবা আজ দুনিয়াতে নেই, মাঝে মাঝে কষ্ট হয়। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছেই বেঁচে আছেন আমার শ্রদ্ধেয় বাবা আখতারুজ্জামান চৌধুরী। তিনি সকল প্রলোভনকে উপেক্ষা করে নির্যাতনের মুখেও আওয়ামী লীগ করেছেন। তিনি আমাদের ত্যাগের শিক্ষা দিয়েছেন।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ওয়ান ইলেভেনের পর দুঃসময়ে যখন অনেক বড় বড় নেতা আস্থার সংকটে ভুগেছিলেন, তখন তিনি আস্থা হারাননি। পঁচাত্তর পরবর্তী অনেকে ক্ষমতার লোভে পড়েছিলেন। দলের দুঃসময়েও আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু দল ছেড়ে যাননি। নিজের সর্বস্ব ঢেলে দিয়ে দলের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন।

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম বলেন, বাবু ভাই বিত্তশালী ছিলেন, কিন্তু সাধারণ মানুষকে আপন করে টেনে নিতেন। আজ বিত্তবানরা দলকে নিজের বাবার সম্পত্তিতে পরিণত করতে চান।

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় আরো বক্তব্য রাখেন, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, আবুল কালাম চৌধুরী, এডভোকেট এ কে এম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক এমপি চেমন আরা তৈয়ব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাদা মো. মহিউদ্দিন, আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মির্জা কছির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট জহির উদ্দিন, প্রদীপ দাশ, খোরশেদ আলম, আবু জাফর, বোরহান উদ্দিন এমরান, তিমির বরণ চৌধুরী, গোলাম ফারুক ডলার, এডভোকেট আবদুল হান্নান চৌধুরী মঞ্জু, আবদুল কাদের সুজন, নুরুল আবছার চৌধুরী, এডভোকেট আবদুর রশিদ, এডভোকেট মুজিবুল হক, বিজয় কুমার বড়ুয়া, মোস্তাক আহমদ আঙ্গুর, সৈয়দুল মোস্তফা চৌধুরী রাজু, ছিদ্দিক আহমদ, মাহবুবুল আলম সিবলী, নাছির আহমদ চেয়ারম্যান, সেলিম নবী, বিজন চক্রবর্তী, এ কে আজাদ, আনোয়ারার সভাপতি অধ্যাপক আবদুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক এম এ মালেক, বোয়ালখালীর সভাপতি নুরুল আমিন চৌধুরী, কর্ণফুলী উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রনি, দক্ষিণ জেলা যুবলীগ সভাপতি আ ম ম টিপু সুলতান চৌধুরী, অধ্যাপক পার্থ সারথী চৌধুরী, সাতকানিয়া পৌরসভা মেয়র মো. জোবায়ের, বাঁশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান চৌধুরী গালিব, দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শামীমা হারুন লুবনা, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এস এম বোরহান, সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের প্রমুখ।