পরিবারের অভিযোগ
সাইফুল আলম লিমনকে তুলে নিয়ে গেছে গোয়েন্দা পুলিশ

বাংলাদেশ মেইল ::

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক সাইফুল আলম লিমনকে সাদা পোষাকের গোয়েন্দা পুলিশ মেহেদীবাগের বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে লিমনের পরিবার। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তাকে মেহেদীবাগের ইকুইটির ৪ র্থ তলার একটি ফ্ল্যাট উঠিয়ে নেয়ার কথা জানান লিমনের ভাই ইমন৷

তবে গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোন কিছু জানানো হয়নি। লিমনের বড় ভাই ইমন জানান,  লিমনের বিরুদ্ধে সব মামলায় সে জামিনে রয়েছে। কোন প্রকার অভিযোগ বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই তাকে তুলে নেয়া হয়েছে।

সিআরবি এলাকার স্থানীয় একটি সুত্র বলছে,  পুলিশের দুটি ভ্যান রাত দুইটার পর লিমনকে নিয়ে সিআরবি’র সাত রাস্তার মুখে আসে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একটি সুত্র জানায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের মধ্যে মেধাবী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন সাইফুল আলম লিমন। দীর্ঘসময় বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি না থাকায় সেখানে কোন পদে অধিষ্ঠিত হতে পারেননি ঠিকই, তবে কেন্দ্রে জায়গা করে নিয়েছিলেন। সাংগঠনিক দক্ষতাবলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য থেকে সহ সম্পাদক পর্যন্ত হয়েছিলেন।

কিন্তু টেন্ডারবাজিতে জড়িয়ে সব সম্ভাবনা খুইয়েছেন সাইফুল আলম লিমন। জোড়া খুনের পর কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বহিস্কৃত হয়ে রাজনীতিতে এগিয়ে যাবার উজ্জ্বল সম্ভাবনা নষ্ট করেছেন। আধিপত্য বজায় রাখতে যুক্ত হয়েছেন সন্ত্রাসের পথে।

একসময়ের মেধাবী ছাত্রনেতা লিমন পুলিশ ও র‌্যাবের তালিকাভুক্ত টেন্ডারবাজ হিসেবে পরিণত হন।  সাইফুল আলম লিমনকে ২০১৫ সালের ২৫ নভেম্বর গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩-২০০৪ শিক্ষাবর্ষে সাইফুল আলম লিমন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন। শুরুতেই ছাত্রলীগের সামনের সারিতে চলে আসেন। শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক গ্রুপ ‘একাকার’ কিছুদিন চলে লিমনের নেতৃত্বে। এরপর সেটা ভেঙে ‘সিক্সটি নাইন’ গড়ে তুলেন লিমন। সেই সিক্সটি নাইনের অঘোষিত নেতৃত্ব এখনও লিমন এবং তার অনুসারীদের হাতেই।

২০০৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যে কমিটি গঠিত হয় সেটি কার্যকর ছিল ২০১১ সাল পর্যন্ত। এর ফলে লিমন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটিতে কোন পদ পায়নি। লেখাপড়া শেষ হয়ে যাওয়ায় ২০১১ সালে গঠিত ছাত্রলীগের মামুন-খালেদ কমিটিতেও তার জায়গা হয়নি।

তবে রিপন-রোটনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সদস্য হিসেবে জায়গা করে নিতে পেরেছিলেন সাইফুল আলম লিমন। এরপর সোহাগ-নাজমুলের কমিটিতে সহ সম্পাদক পদ পান লিমন।

২০১৩ সালের ২৪ জুন সিআরবিতে কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ে রক্তক্ষয়ী একটি সংঘাতের নেতৃত্বদাতা হিসেবে লিমনের নাম চলে আসে। এরপর তাকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক পদ থেকে বহিস্কার করা হয়। সেই বহিস্কারাদেশ আর প্রত্যাহার হয়নি।

লিমন চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি থানার শ্রীপুর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে। তার বাবা রেলওয়ের কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে তাদের বসবাস চট্টগ্রামে।

সূত্রমতে, রেল কর্মকর্তার ছেলে হওয়ার সুবাদে সিআরবি, টাইগারপাস, লালখান বাজারসহ আশপাশের এলাকায় ছাত্রাবস্থা থেকে ভাল অবস্থান ছিল লিমনের। এসব এলাকায় নিজের অনুসারী ছাত্রলীগের একটি গ্রুপও গড়ে তুলেন লিমন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে এলাকার আধিপত্য থেকে রেলওয়ের দরপত্র নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন লিমন। এতে তার শক্ত প্রতিপক্ষ দাঁড়িয়ে যায়। প্রতিপক্ষকে দমাতে টাইগারপাস, জামতলা বস্তি, বয়লার কলোনি, তুলাতলী বস্তির অপরাধী-মাদকসেবীদের নিজের দলে নিয়ে নেয় লিমন।