বাঁশখালীতে ১১ টি বাহিনীর ৩৪ জন ডাকাতের আত্নসমর্পণ

বাংলাদেশ মেইলঃঃ 

র‍্যাবের তত্ত্বাবধানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের উপস্থিতিতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে অস্ত্র ও গুলিসহ ৩৪ জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছে। বৃহস্পতিবার বেলা বারোটায় আত্নসমর্পণের অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়।

বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে বারোটায় বাঁশখালীতে এসে পৌছান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি চাম্বল উচ্চবিদ্যালয়ে হেলিকাপ্টার যোগে অবতরণ করে পরে বাঁশখালী আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে জলদস্যুদের আত্বসমর্পন অনুষ্ঠানে যোগ দেন ।শুরুতে আব্দুল হাকিম প্রকাশ বাইশশ্যা ডাকাত আত্নসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণ করতে আসা মো. শাপদ্দিনের স্ত্রী জানোয়ারা জানান, স্থানীয় একটি মারামারির ঘটনার পর তার স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়। মামলার পর তার স্বামী ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে জলদস্যু বাহিনীতে যোগ দেয়। এরপর দীর্ঘ আট বছর সে বাড়ি আসেনি। তার সঙ্গে কোনও প্রকারের যোগাযোগও ছিল না। সে বেঁচে আছে কি-না তাও চার বছর আগে জানতেন না।

কিভাবে জলদস্যু শাপদ্দিন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘র‍্যাব বাহিনীকে অনেক ধন্যবাদ। তাদের মাধ্যমে আমি আমার স্বামী ও আমার সন্তানেরা তার বাবাকে ফিরে পেতে যাচ্ছে। প্রথমে র‍্যাব আমার স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করে জলদস্যু বাহিনীর জীবন থেকে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে।’

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, সুন্দরবনের মতো চট্রগ্রামের বাঁশখালী, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া এলাকাও জলদস্যু মুক্ত হতে যাচ্ছে। আত্নসমর্পণ করা এই ৩৪ জলদস্যুদের হত্যা ও ধর্ষণ মামলা ছাড়া অনান্য মামলা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রত্যাহার করা হবে।

র‍্যাব জানিয়েছে, চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকার ৩৪ জন জলদস্যু অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেছে । তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার যে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, এরই ধারাবাহিকতায় নগরীর বাঁশখালী, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া এলাকার এই জলদস্যুরা আত্মসমর্পণ করলো। আত্মসমর্পণ করতে যাওয়া এসব সদস্যের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণলয়ে তালিকাভুক্ত ছয় থেকে সাত জন আছেন। যারা বিভিন্ন সময়ে ডাকাতি, অস্ত্র কারবারি, ছিনতাই ও জলদস্যুতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছুদিন ধরেই মাঠপর্যায়ে কাজ করে র‌্যাব। এসব জলদস্যুদের বিরুদ্ধে হত্যা ও ধর্ষণ মামলা ছাড়াও তাদের অন্যান্য মামলা আইনি প্রক্রিয়ায় প্রত্যাহার করা হবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। জলদস্যুরা দেশি- বিদেশী  ৯০টি অবৈধ অস্ত্র জমা দেন। এছাড়া  গুলি কার্তুজ জমা দেন ২০৫৬টি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও র‌্যাব-পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ৯০টি অস্ত্র এবং ২০৫৬ রাউন্ড গুলি বুঝিয়ে দিয়ে তারা আত্মসমর্পণ করে । এর আগে ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর ৪৩ জন জলদস্যু র‌্যাবের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু, চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যগণ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজির আহমেদ, বিপিএম (বার) সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

 

চট্টগ্রাম র‌্যাব-৭ এর অতিরিক্ত এসপি সোহেল মাহমুদ বলেন, আত্মসমর্পণ করা এই সদস্যদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণলয়ে তালিকাভুক্ত ছয় থেকে সাত জন সদস্য আছেন। যারা বিভিন্ন সময়ে ডাকাতি, অস্ত্র কারবারি, ছিনতাই ও জলদস্যুতার সঙ্গে জড়িত।

র‍্যাব সদর দফতরের তথ্য বলছে, গত ২০১৬ সালের ৩১ মে থেকে ১ নভেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত সুন্দরবনের ৩২টি দস্যু বাহিনীর ৩২৮ জন সদস্য ৪৬২টি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেছেন। এখন তারা মাছের ঘের, কাঁকড়া চাষসহ নানা পেশায় নিয়োজিত আছেন। আবার কেউ অন্য কাজ করছেন। আত্মসমর্পণ পরবর্তীতে পুনর্বাসনে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের প্রত্যেককে নগদ এক লাখ টাকা ও আইনি সহায়তা দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর র‌্যাবের মাধ্যমে মহেশখালী-কুতুবদিয়ার ৪৩ জলদস্যু আত্মসমর্পণ করে। সেই সময় অনেকেই নাগালের বাইরে ছিল। তাই সম্প্রতি বিভিন্ন পাহাড় ও সাগর উপকূলে অভিযান বৃদ্ধি করে র‍্যাব। অভিযানের মুখে আত্মসমর্পণ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এই জলদস্যুরা।