পেকুয়ায় অবাধে পাহাড় নিধন, নিরব প্রশাসন

বাংলাদেশ মেইলঃঃ  

পেকুয়া স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে নির্বিচারে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে বেশ কয়েকটি চক্র। দীর্ঘদিন ধরে দিনদুপুরে এ অবৈধ কর্মকাণ্ড চলে আসলেও তা থামানোর কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এতে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। পরিবেশ বিপর্যয়ের শংকা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, পেকুয়া উপজেলার টইটং এলাকার মধুখালি, গর্জনিয়া ও জালিয়াচং এলাকার তিনটি পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। স্কেভেটর (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে এসব পাহাড় কেটে সমতল ভূমি বানানো হচ্ছে। এমতাবস্থায় প্রশাসনের নির্বিকার ভূমিকা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে স্থানীয়দের মনে।
স্থানীয় অনেকে অভিযোগ করে জানান, বনকানন এলাকার কবির আহমেদের ছেলে জাকের হোসেনের নেতৃত্বে টইটং এলাকায় গড়ে উঠেছে এক পাহাড় খেকো সিণ্ডিকেট। এ সিণ্ডিকেটের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে কাজ করছে গর্জনিয়া পাড়ার কলিম উল্লাহর ছেলে মো. বাচ্চু। তাছাড়া মধুখালির বদিউল আলমের ছেলে মোশাররফ আলী, একই এলাকার ফরিদুল ইসলামের ছেলে আনোয়ার হোসেন, মনির উদ্দিনের ছেলে ইমরান হোসেন, মাঝের পাড়া এলাকার আব্দু রহমানের ছেলে মৌলভী হারুন, হাজ্বীর পাড়ার আবু ছৈয়দের ছেলে আবু ছালেক, রমিজ পাড়ার খলিলুর রহমানের ছেলে ফরহাদ ও গর্জনিয়া পাড়ার মো. ইদ্রিসের ছেলে এম সবুজ রয়েছে শক্তিশালী এ চক্রে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরো জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ১৫ টি মিনি ট্রাক (ডাম্পার) দিয়ে পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের মাটি বিক্রি করে চক্রটি। প্রতি ট্রাক পাহাড়ি মাটি এক হাজার টাকা করে বিক্রি করা হয়। চক্রটি গত দুই বছরে টইটং ইউনিয়নের ১০টি পাহাড় কেটে সাবাড় করেছে। ৫০-৬০ ফুট উচ্চতার এসব পাহাড় এখন সমতল ভূমি।
স্থানীয় সমাজকর্মী মোঃ শওকত বলেন, জাকের ও বাচ্চুর নেতৃত্বে গড়ে উঠা চক্র প্রতিনিয়ত পাহাড় কাটার কারনে ইতোমধ্যে এই অঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চল গুলো প্রায় সমতল ভূমিতে রুপান্তর হয়েছে। যা পরিবেশের জন্য এক বড় শঙ্কা। পাহাড় খেকো চক্রটিকে এখনি থামানো উচিৎ।
এব্যাপারে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল গফুর মোল্লা বলেন, পাহাড়ের জমিটি কালেক্টেড জমি। যা ব্যক্তিমালিকানাধীন। এটি আমার এখতিয়ার বর্হিভূত।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোতাছেম বিল্লাহ বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়টি আমি খোঁজ নেব। জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সংযুক্তা দাশ গুপ্তা বলেন, আমরা সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে পাহাড় কাটায় জড়িতদের চিহ্নিত করবো। এরপর তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।