পম্পেও কেন ইহুদী বসতিতে গেলেন

বাংলাদেশ মেইল ::

প্রথম উচ্চপদস্থ কোনো মার্কিন কূটনীতিক হিসেবে দখলকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইহুদী বসতি পরিদর্শন করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। ট্রাম্প প্রশাসনের আগে মার্কিন প্রশাসন এসব ইহুদী বসতিকে স্বীকৃতি দিতো না। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এই বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্য ‘মেড ইন ইসরাইল’ বা ইসরাইলে তৈরি লেবেলযুক্ত করা যাবে বলে ঘোষণা দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার এ সফর করেন তিনি। ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ইসরাইলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচনা করে। এমতাবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপগুলো, ইসরাইলি বসতিগুলোকে ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের স্বীকৃতিদান হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।

সফরকালে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পম্পেও ঘোষণা দেন যে, ফিলিস্তিনি নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক বর্জন, বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা (বিডিএস) আন্দোলনকে ‘ইহুদি-বিদ্বেষী’ হিসেবে ঘোষণা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের সরকারি সহায়তাদানও বন্ধ করা হবে।
বিডিএস আন্দোলনকারীদের ভাষ্যমতে, এটি ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইলের নীতিমালার বিরুদ্ধে অসহিংস প্রতিবাদ।

আন্দোলনটি ইসরাইলের অর্থনীতির ওপর তেমন চাপ ফেলতে পারেনি। কিন্তু ইসরাইল আন্দোলনটিকে তাদের অস্তিত্বের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করে ও এটিকে ইহুদি-বিরোধী হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

গত বছর বিডিএস আন্দোলন সমর্থন করার অভিযোগে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) গবেষকদের ইসরাইল থেকে বের করে দেওয়া হয়। সংগঠনটি অবশ্য ইসরাইলকে বর্জন করার আহ্বান জানায়নি, তবে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য না করার আহ্বান জানিয়েছে।

এইচআরডব্লিউ’র মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এরিক গোল্ডস্টেইন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন শান্তিপূর্ণভাবে বর্জন সমর্থন করাকে ইহুদি-বিরোধী হিসেবে আখ্যা দিয়ে, ইহুদি-বিদ্বেষের বিরুদ্ধে সাধারণ লড়াইগুলোকে হেয় করছে।

প্রসঙ্গত, বিডিএস আন্দোলন সমর্থনকারীদের ইসরাইলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে ২০১৭ সালে একটি আইন পাস করেছে দেশটি। গত বছর মার্কিন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদও বিডিএস-বিরোধী বিল পাস করেছে। এছাড়া, কিছু মার্কিন রাজ্যে বিডিএস-বিরোধী আইনও চালু রয়েছে।

নেতানিয়াহুর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পম্পেও আরো বলেন, দীর্ঘদীন ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরাইলি বসতিগুলোকে ভুল চোখে দেখে এসেছে। কিন্তু এখন তারা স্বীকৃতি দিচ্ছে যে, বসতিগুলো বৈধ, যথাযথ ও সঠিক পদ্ধতিতে স্থাপন করা সম্ভব।

এদিকে, নেতানিয়াহু বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরাইলের মিত্রতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর, গোলান উপত্যকা অধিগ্রহণকে স্বীকৃতিদান ও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানান।

বসতিগুলো পরিদর্শনের আগে পম্পেও জানিয়েছিলেন, তিনি গোলান উপত্যকাও পরিদর্শন করবেন। উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যুদ্ধে জেরুজালেম, পশ্চিম তীর ও গোলান উপত্যকা দখল করে ইসরাইল। পরবর্তীতে গোলান উপত্যকা অধিগ্রহণ করে তারা। যদিও তাদের অধিগ্রহণ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পায়নি। ফিলিস্তিনিরা জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরকে তাদের ভবিষ্যত রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।