চমেক চিকিৎসকসহ ৪ জনকে দুদকে তলব

বাংলাদেশ মেইলঃঃ  

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং ব্লাড ব্যাংকের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে জানতে তিন কর্মচারী ও এক চিকিৎসককে তলব করেছে দুদক। ইতোমধ্যে দুদকের পক্ষ থেকে এ চারজনকে পৃথক চিঠি দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে তিনজনকে আগামী ২৬ নভেম্বর ও একজনকে ২৫ নভেম্বর দুদক কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য প্রদান করতেও বলা হয়।

দুদক সূত্রে জানা যায়, এ চারজনের বিরুদ্ধে একটি সিন্ডিকেটকে কাজ পাইয়ে দেয়াসহ নানান অভিযোগ আছে। একই সাথে টেন্ডার ও নিয়োগ বাণিজ্যসহ অভিযোগ ওঠা বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরীর সাথেও সখ্যতা আছে তাদের। মূলত সখ্যতার সুযোগে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে তারা। এরমধ্যে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ব্লাড ব্যাংক থেকে নিজেদের প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ব্লাড ব্যাংকে রোগী বাগিয়ে নেয়াসহ নানা অভিযোগও আছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব বিষয় জানতেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদক সূত্র।

যাদের তলব করা হয়েছে : চমেক হাসপাতালের ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা. তানজিলা তাবিব চৌধুরী, রেকর্ড কিপার (বর্তমানে টেন্ডার ইনচার্জ) মঈনুদ্দীন আহমেদ ও তার স্ত্রী হাসপাতালের অফিস সহকারী কানিছ ফাতেমা ও মো. তাকবির হোসেন। এরমধ্যে তাকবির হোসনকে আগামী ২৫ নভেম্বর এবং বাকি তিনজনকে ২৬ নভেম্বর দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়।

দুদক সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ নভেম্বর পৃথক পৃথক ভাবে এ চারজনকে বক্তব্য প্রদান করতে চিঠি দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন। স্বাক্ষাতের ওই চিঠিতে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট এর মূল ও ফটোকপিসহ বিদেশ গমনের তথ্যও নিয়ে হাজির হতে নির্দেশনা দেয়া হয়। এছাড়া মঈনুদ্দিনের কাছে রেকর্ড কিপার থেকে টেন্ডার শাখার ইনচার্জ হিসেবে পদায়নের বিপরীতের সংশ্লিষ্ট তথ্যও তলব করা হয়।

দুদকের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টেন্ডার শাখার প্রধান হিসেবে কর্মরত মঈনুদ্দিন হাসপাতালের সকল টেন্ডার প্রক্রিয়া দেখভাল করেন। মূলত চিকিৎসক নেতার নির্দেশনায় নির্দিষ্ট ওই সিন্ডিকেটকে কাজ বাগিয়ে দেয় মঈনুদ্দিন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যখাতের নানান অনিয়মের বিষয়ে অনুসন্ধানে নামে দুদক। এরমধ্যে সবচেয়ে অভিযোগ জমা পড়ে বৃহত্তর চট্টগ্রামের সরকারি এ হাসপাতালের বিরুদ্ধে। যেখানে চিকিৎসক নেতার গড়া সিন্ডিকেটই বছরের পর বছর সরবরাহ থেকে শুরু করে নিয়োগ দিয়ে আসছেন। যার সাথে খোদ হাসপাতালের কর্মচারীদের সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ রয়েছে