পদোন্নতিতে দূর্নীতি
কেজিডিসিএল’র চার কর্মকর্তাকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

বাংলাদেশ মেইল ::

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) ৫৭ জন কর্মকর্তার পদোন্নতির অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে সংশ্লিষ্ট চার কর্মকর্তাকে পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গল ও বুধবার এ চার কর্মকর্তাকে পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্মকর্তারা।

গতকাল দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন। তিনি বলেন, ৫৭ জনের পদোন্নতির সময় মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস) প্রকৌশলী মো. সারোয়ার হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একইভাবে কেজিডিসিএলের ব্যবস্থাপক সুলতান আহমেদকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

বুধবার (২৫ নভেম্বর) সকাল দশটা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ডিভিশন) মো. ফিরোজ খান ও উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. লুৎফুল করিম চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় দুদকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানা যায় , কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে (কেজিডিসিএল)পদোন্নতিতে নজিরবিহীন দূর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে । পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের বিষয়ে নেওয়া হয়নি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ছাড়পত্র। পদোন্নতির জন্য প্রস্তাবিত তালিকা বা রেটিং শিটও মানা হয়নি । প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) থেকে অনুমতি ও স্বাক্ষর ছাড়াই দেয়া হয়েছে পদোন্নতি । কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) পদোন্নতি সংক্রান্ত বিধির তোয়াক্কা না করেই একতরফাভাবে পদোন্নতির পরিপত্র জারি করেন জিএম মার্কেটিং প্রকৌশলী সারোয়ার হোসেন।

অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তদের পদোন্নতি দিতে অসম্মতি জানানোয় বেশ কয়েকবার নিজ দফতরে লাঞ্ছিত হয়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী খায়েজ আহমদ মজুমদার। মূলত কেজিডিসিএলের শীর্ষ তিন কর্মকর্তা জোর ও প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করেন। গত ২০ আগস্ট রাত ১২টায় দুদকের তদন্ত শেষ না হওয়ার আগেই ২০১১ সালের কথিত ৩৮ জন সহ ৬২ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয় কেজিডিসিএল কর্তৃপক্ষ।

পদোন্নতির নেপথ্যে ভূমিকা রাখা এই তিন কর্মকর্তা হলেন— পেট্রোবাংলা পরিকল্পনা ও পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক মো. আইয়ুব খান চৌধুরী, কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফিরোজ খান এবং কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (বিপণন দক্ষিণ) প্রকৌশলী আমিনুর রহমান। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপুর্ন তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সুত্র বলছে, ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি এমডি কেজিডিসিএলে কর্মরত প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতি প্রদানের লক্ষ্যে ও যোগ্যতা মূল্যায়নের অংশ হিসেবে দুদকের ছাড়পত্র গ্রহণের জন্য অনুমতি চেয়ে চিঠি দেন পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক প্রশাসন বরাবরে। ওই চিঠিতে ২০১১ সালের নিয়োগপ্রাপ্ত ৩৮ জনসহ মোট ১২৮ জন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার একটি তালিকা চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়।চিঠির উত্তরে দুদকের কাছে কোনো তথ্য চাওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি সরকারের এসব বিভাগ ও দফতর।