চকরিয়ায় চলন্তবাসে ডাকাতি: গুলিবিদ্ধসহ আহত-৯, আটক-৩

বাংলাদেশ মেইলঃঃ  

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের চকরিয়ায় যাত্রী বেশে উঠে সৌদিয়া পরিবহনের বাসে ডাকাতির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ২ জনসহ ৯ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) ভোর রাত সাড়ে তিনটা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ঘন্টাব্যাপী চলন্ত বাসে ডাকাতি হয়। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ আবদুল্লাহ আল মামুন (২৭) কে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ অপরজনসহ মারধর ও ছুরিকাঘাতে আহতরা কক্সবাজারের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে চলে যাওয়ায় নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।

আহত মামুন টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি গ্রামের এজাহার আহমদের ছেলে।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে থানায় আনা হয়েছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রামের সিনেমা প্যালেস থেকে ৩৩ যাত্রী নিয়ে টেকনাফগামী সৌদিয়া পরিবহনের একটি বাস কর্ণফুলি নতুন ব্রীজ এলাকায় আসলে লুঙ্গি পরিহিত ব্যাগ নিয়ে ৮ যাত্রী বাসে উঠে।
বাসটি রাত সাড়ে তিনটার দিকে মহাসড়কের চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী ঢালায় পৌঁছলে ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে চালককে জিম্মি করে চালকের আসনে বসে এক ডাকাত গাড়ি চালাতে থাকে। অপর ডাকাত দল চলন্তবাসে দেশীয় তৈরী কাটা বন্দুক, চাপাতি, ছুরি ধরে জিম্মি করে সকল যাত্রীর মোবাইল ও নগদ টাকা কেড়ে নেয়। প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের খুটাখালী ইউনিয়নের বহলতলী এলাকায় পৌঁছে বাসটি দাঁড় করিয়ে ডাকাত দল পালিয়ে যায়।
পরে বাসটির চালক গাড়ি চালিয়ে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আহতদের ভর্তি করেন। গুলিবিদ্ধ দুইজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়।

চট্টগ্রামের বিল্লাল হোসেন জনি নামের এক যাত্রী বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার উদ্দেশে ৬ বন্ধু মিলে চট্টগ্রামের সিনেমা প্যালেস থেকে টেকনাফগামী সৌদিয়া পরিবহণের একটি বাসে উঠি। রাত সাড়ে তিনটার দিকে মহাসড়কের চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী এলাকায় পৌছলে যাত্রীবেশে ডাকাত দল আমাদের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মোবাইল ও নগদ টাকা কেড়ে নেয়। এসময় বাধা দেয়ায় দুই যাত্রীকে গুলি করে ডাকাত দল। সবাইকে কম বেশী মারধরও করে তারা। এসময় ডাকাত দল নগদ টাকা মোবাইলসহ আনুমানিক ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

মুঠোফোনে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জের সরকারী ফোন রিসিভ করে থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) মো.আশফাক হোসেন বলেন, ওই বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রী থানায় এসে ঘটনাটি জানিয়েছে। যাত্রীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনা শুনে পুলিশের একাদিক টিমকে মাঠে নামিয়েছি অভিযুক্তদের আটক করতে। শুক্রবার দুপুরের আগেই সন্দেহজনক তিন জনকে আটক করে ঘটনার বিস্তারিত জানতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।