নগর ছাত্রদলের কমিটি-ক্ষোভের আগুনে পুড়েছে বিএনপি কার্যালয়

বাংলাদেশ মেইলঃঃ  

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, চট্টগ্রাম মহানগরের ২৭২ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ আট বছর পর পূর্নাঙ্গ কমিটি করা হলো চট্টগ্রাম মহানগরে৷

সোমবার (৩০ নভেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল এই পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়।

জানা গেছে অনুমোদন পাওয়া কমিটির অধিকাংশের ছাত্রত্ব নেই। সিংহভাগই বিবাহিত। যদিও ২০০০ সালের আগে এসএসসি পাস করা ছাত্রদের নতুন কমিটিতে না রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে। কিন্তু নগর ছাত্রদলের নতুন সভাপতির এসএসসি ১৯৮৯ সালে। সাধারণ সম্পাদক পাস করেছেন ১৯৯৪ সালে।

অন্যদিকে, পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা আসার পর ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নগর বিএনপির কার্যালয় নাসিমন ভবনে আগুন দিয়েছে ছাত্রদলের নেতাকর্মিরা ।
জানতে চাইলে বিক্ষোভে উপস্থিত কয়েকজন জানান, নতুন কমিটিতে বিবাহিত যেমন রয়েছে, রয়েছে মাদক ব্যবসায় অভিযুক্তরা। এছাড়া সিনিয়র জুনিয়রিটি মানা হয়নি কমিটির ক্রমবিন্যাসে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শাহনেওয়াজ জানান, কমিটি একমাসের কম সময়ের জন্য দেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের কমিটি জট কমানোর জন্য৷ শিগগিরই নতুন করে আহবায়ক কমিটি দেয়া হবে৷ কেউ বন্চিত হলে তাকে মুল্যায়ন করার সুযোগ রয়েছে। ‘
জানা যায়, দীর্ঘ সাত বছর ধরে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের কার্যক্রম চলছিলো ১১ সদস্যের কমিটি দিয়ে। অবশেষে সাত বছর পর এই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার ঘোষণা আসে আজ। এক বছরের বেশি সময় ধরে নগর ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন করা নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়। কিন্তু নগর বিএনপির কোন্দলের কারনে নতুন কমিটি না করে পুরোনা কমিটিকে পূর্নাঙ্গ করার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা।

২০১৩ সালের ২১ জুলাই গাজী মো. সিরাজউল্লাহকে সভাপতি এবং বেলায়েত হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটি ঘোষণার পর থেকে নগর ছাত্রদলের মধ্যে বিক্ষোভ শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত পূর্নাঙ্গ কমিটি করতে ব্যর্থ হয় সে কমিটি।

কমিটিকে এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে কেন্দ্রতে জমা দিতে সময় বেঁধে দেয়া হলেও ৭ বছরে পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি। বরং ১১ সদস্যদের মধ্যে ৯ জনই মূল দলসহ সহযোগী সংগঠনের পদ নিয়ে চলে গেছেন এবং মারা গেছেন একজন।

একসময় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম আইন কলেজ, পাহাড়তলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, গভর্নমেন্ট কমার্শিয়াল কলেজ, বাকলিয়া শহীদ এন এম জে কলেজ (নোমান কলেজ) ও ব্যারিস্টার সুলতান আহমেদ কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বেশ তৎপরতা ছিল। কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফলও ছিল উল্লেখ করার মতো। কিন্তু সাংগঠনিক স্থবিরতায় এখন কলেজগুলোতে ছাত্রদলে অস্তিত্ব নেই। বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দীর্ঘদিন যাবৎ কমিটি না থাকায় একই অবস্থা।

এদিকে ৫২ বছর বয়সী কাউকে ছাত্রদলের সভাপতি করা নিয়ে হাস্যরসের সৃস্টি হয়েছে নগরীতে।