শিল্পী কুমার বিশ্বজিতের আত্নীয়ের পরিবারকে পুলিশী হয়রানীর অভিযোগ

বাংলাদেশ মেইল ::

দেশের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী কুমার বিশ্বজিতের নাম ব্যবহার করে তারই এক আত্নীয়ের পরিবারকে পুলিশ  হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা । এমনকি তুচ্ছ ঘটনায় ৫জনকে আটক করে অকথ্য ভাষা ব্যবহার করে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত আমিরাবাদ গ্রামের ভুক্তভোগি দিলীপ কুমার দে জানান, তিনি তার নিজস্ব জায়গায় পুরোনো বিল্ডিং সংস্কার ও সেফটি ট্যাংকি নির্মাণের কাজ শুরু করার পর পার্শ্ববর্তী মৃত সন্তোষ কুমার দে’র স্ত্রী তাপসী রানী দে নির্মাণ কাজ বন্ধ ও হয়রানির উদ্দেশ্যে একের পর এক মিথ্যা মামলা ও অভিযোগ দায়ের করতে থাকেন।  এর মধ্যে আদালত দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা খারিজ করে এবং পৌরসভায় দায়েরকৃত অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে পৌরসভা পুনরায় ঘর নির্মাণের অনুমতি দেয়। কিন্তু তাপসী রানী আবারো আদালতে মিস মামলা (নং ৫২৬/২০২০ইং) দায়ের করেন।

এ মামলায় এসিল্যান্ড তিনবার শুনানীর তারিখ দিলেও বিভিন্ন অযুহাতে বাদীপক্ষই অনুপস্থিত থাকছেন। ফলে এসি ল্যান্ড কোন রায় দিতে পারেননি।

এদিকে অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে গত ১লা ডিসেম্বর সীতাকুণ্ড থানার এস.আই মোঃ সাইফুল হটাৎ এসে বিবাদমান জায়গায় কাজ করার অভিযোগ তুলে দিলীপ কুমার দে (৭৫), প্রদীপ রঞ্জন দে (৬৮)সহ আরো তিন কর্মচারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এসময় থানার ওসি মোঃ ফিরোজ হোসেন মোল্লা অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শুধু তাই নয়, এসময় ভুক্তভোগিরা তাদের সাথে এমন ব্যবহারের কারণ জানতে চাইলে পুলিশ জানায়, লন্ডন থেকে চাপ আছে এছাড়া শিল্পী কুমার বিশ্বজিতও এ ঘটনার ব্যাপারে চাপ দিচ্ছেন। তাই তাদেরকে চালান দিতে হবে। শেষে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হলেও আদালত এ মামলায় আসামি আটক করায় সংশ্লিষ্ট এস আইকে তিরস্কারও করেন।  শেষে তাদেরকে জামিন মঞ্জুর করেন। এভাবে বারবার হয়রানির অভিযোগ তুলে এর প্রতিকারে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন ভুক্তভোগি দিলীপ কুমার দে।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন দিলীপ কুমার দে’র ছেলে রাজু দে ও ভাই প্রদীপ রঞ্জন দে।

এদিকে পুলিশ কুমার বিশ্বজিতের নাম ব্যবহার করলেও এ ঘটনার সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন দেশ বরেণ্য সঙ্গীত শিল্পী কুমার বিশ্বজিত। তিনি বলেন, দিলীপ কুমার দে ও তাপসী রানী দে দুই পক্ষই আমার আত্নীয়। আমি কোন পক্ষের না। দুই পক্ষই আমার কাছে সমান। কিন্তু পুলিশ বা কেউ আমার নাম ব্যবহার করে আমারই আত্নীয়কে কেন হয়রানি করছে আমি বুঝতে পারছি না। এ ধরণের বিষয়ে তার নাম ব্যবহার করে কেউ স্বার্থ সিদ্ধির চেষ্টা করলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মোঃ ফিরোজ হোসেন মোল্লা পাঠক  বলেন, আমরা দুই পক্ষের বিরোধে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য তাদেরকে আটক করেছি। সব আইন মোতাবেক হয়েছে। তিনি কুমার বিশ্বজিতের নাম ব্যবহারের কথা এবং আটককৃদের সাথে কোনরুপ দুর্ব্যবহারের কথাও অস্বীকার করেন।