ভূমির মু্ল্য প্রায় আট কোটি
একবার উচ্ছেদের পরও মুনসুরাবাদে সওজ’র জায়গা পুনরায় বেদখল

বাংলাদেশ মেইল ::

সরকারি নজরদারির অভাবে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানাধীন মুনসুরাবাদ এলাকায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রায় ৮ কোটি টাকা মূল্যের জমি পুনরায় দখলে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। চলতি বছরের ৮ ই অক্টোবর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ এবিষয়ে ডবলমুরিং থানাকে অভিযোগ করেন । সওজ’র উপসচিব মনোয়ারা বেগমের নেতৃত্বে দখল হওয়া জায়গাটিতে তৈরি করা স্থাপনা উচ্ছেদও করা হয়েছিল ১৯ ই অক্টোবর  । কিন্তু শুক্রবার (৪টা ডিসেম্বর ) জায়গাটি পুনরায় দখলে নেয় একই চক্র ।

সওজ সুত্র জানায় , দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি দখল করার পায়তারা করে আসছিল একটি চক্র । অথচ জায়গাটি ১১ ফেব্রয়ারি ১৯৫৪ সালে সরকারি গেজেট ভুক্ত হয়। ৪নং খতিয়ানভুক্ত বিএস দাগের ৭১৯৬ জমিটিতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মচারীদের বাসা বাড়ি ও স্টেক ইয়ার্ড রয়েছে । জায়গাটিতে নিজের মালিকানা দাবি করে জনৈক ইউসুফ ও শফিকুল ইসলাম ২০১২ সালের ২১ অক্টোবর একটি মামলা রুজু করেন। মালিকানা দাবি করা দুই ব্যক্তি স্থানীয় খাদেমুল ইসলাম বাড়ির নিবাসী ।

আজ শুক্রবার সকাল থেকে দখলকৃত জায়গায় দেয়াল নির্মাণ করতে দেখা যায়। স্থানীয়রা জানান,গত ৫ অক্টোবর সকালেও স্টেক ইয়ার্ডের গেইটের তালা ভেঙ্গে প্রবেশ  সংঘবদ্ধ দলটি। এসময় তাদের সড়ক ও জনপথের স্টেক ইয়ার্ডের সাইনবোর্ড ভেঙ্গে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর উপসচিব ও আইন কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম জানান , এই জায়গায় বিষয়ে সহকারী জজ চট্টগ্রাম দ্বিতীয় আদালত থেকে কৌশলে একতরফা রায় নেন মোহাম্মদ ইউসুফ ও শফিকুল ইসলাম। তারা স্থানীয় একটি মাজারের খাদেম । বিষয়টি সড়ক ও জনপথের কর্মকর্তাদের নজরে আসলে চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতে আপিল মামলা (মামলা নং-২৭/২০২০) দায়ের করে সওজ অধিদপ্তর।ফলে মামলার বাদীরা এ জমিটিতে নামজারি খতিয়ান সৃজন করতে ব্যর্থ হয়।কিন্তু মামলার বাদী ইউসুফ ও শফিক জায়গাটির আমমোক্তারনামা প্রদান করেন হাক্কানী এন্টারপ্রাইজের জনৈক সিরাজকে।সিরাজ দলবল নিয়ে জায়গাটিতে দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। আমি নিজে উপস্থিত থেকে এই জায়গা দখলমুক্ত করেছিলাম ১৯ অক্টোবর।কিন্তু তাদের উচ্চ আদালতের স্থিতিআদেশ নেন এ জায়গার উপর। স্থিতি আদেশ নিয়ে তারাই আবার সেটা ভেঙেছে পুনরায় দখল নেবার মধ্য দিয়ে। এ বিষয়ে আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো। ‘

(৪ ডিসেম্বর ) বিকাল চারটায় সিরাজের সাথে আলাপকালে সে প্রতিবেদককে জানায় , সড়ক ম্যাজিস্ট্রেটের দিয়ে জায়গাটি নিজেদের দখলে নিয়েছিল ১৯ অক্টোবর । কিন্তু আদালতে আপিল করার পর আদালত জায়গার উপর স্থিতিআদেশ দিয়েছে ।

আদালতের স্থিতিআদেশ নিয়ে কোন জায়গায় স্থাপনা তৈরি বা কোন জায়গা দখলে নেয়া যায় কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান , এ বিষয়ে ডবলমুরিং থানাকে অবহিত করা হয়েছে ।

জানতে চাইলে সিরাজ জানায়,পাওয়ারমূলে জায়গাটির মালিক তিনি। ভুলক্রমে বিএস জরিপে জায়গাটি সড়ক ও জনপথের নামে তালিকা ভুক্ত হয়েছে । আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে কাজ করার কথাও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ জানান,আরএস দাগের ৭১৭৭ নং ভূমিটি এলএ মামলা মামলা নং ১৭-৫২/৫৩ মূলে ১৯৫৪ সালে অধিগ্রহণ করা হয়েছিল । আর এস জরিপ অনুযায়ী ভূমিটির মালিক সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। একতরফা মামলার রায় সংগ্রহ করে সরকারী ভূমিটি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার(৮ অক্টোবর) নগরীর ডবলমুরিং থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করার কথাও জানান তিনি। কিন্তু বিবাদী পক্ষ উচ্চ আদালত থেকে স্থিতিআদেশ সংগ্রহ করে । আদালতের স্থিতি আদেশ নিয়ে কোন জায়গা দখল করার এখতেয়ার কারো নেই ।

এদিকে চট্টগ্রামের মুনসুরাবাদস্থ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ভূমি দখলের বিষয়ে বার বার ডবলমুরিং থানাকে অবহিত করা হলেও পুলিশ কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানিয়েছেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ । গত ৮ই অক্টোবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুদীপ কুমার দাশকে এ বিষয়ে টেলিফোন করা হলে তিনি লিখিত অভিযোগ দেবার কথা জানান । শুক্রবারে সওজ কার্যালয় বন্ধ থাকার কারণে ১০ অক্টোবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ । এ সুযোগকে কাজে দখলকারী চক্রটি এ ভূমিতে দেয়াল নির্মান করে ফেলে । একই ঘটনা ঘটেছে আজও (৪টা ডিসেম্বর ) ।জায়গাটি পুনরায় দখলে নেবার বিষয়ে থানাকে অবহিত করা হলে থানার ওসি আদালতের অজুহাত দেখিয়ে কোন ব্যবস্থা নেননি বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী । শুক্রবার ছুটির দিনকে কাজে লাগিয়ে জায়গাটি পুনরায় দখলে নেয় চক্রটি ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের এক কর্মকর্তা জানান,বেদখল হওয়া ভূমির আনুমানিক বর্তমান বাজারমূল্য  ৮ থেকে সাড়ে ৮ কোটি টাকা।