সরকারের নতজানু নীতির কারণে সীমান্ত সবচেয়ে বেশি রক্তাক্ত

বাংলাদেশ মেইল ::

বর্তমান সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতিতে বাংলাদেশের সীমান্ত সবচেয়ে বেশি রক্তাক্ত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। আজ রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে- এই সরকারের গত ১২ বছরে প্রায় সাড়ে ৫ শত বাংলাদেশিকে সীমান্তে হত্যা করেছে বিএসএফ। এই করোনার মধ্যেও গত প্রায় এক বছরে প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে খুন হয়েছে ৪৫ জন বাংলাদেশি। এছাড়াও সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ড ও নদীতে প্রায়ই বাংলাদেশির রহস্যজনক লাশ পাওয়ার ঘটনা খবরে আসে।

তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বর্ডার গার্ডের তরফ থেকে পতাকা বৈঠক করে লাশ গ্রহণ ছাড়া ভরসা রাখার মতো কোন তৎপরতাই এখন চোখে পড়ে না। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদা ও সমঅধিকারের ভিত্তিতে সুসম্পর্ক থাকতে পারে। কিন্তু সীমান্তে বাংলাদেশিদেরকে পাইকারি হারে খুন করে যাবে, অথচ শুধু চুপচাপ নয়, বাংলাদেশ সরকার বরং বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি হত্যার বৈধতা দিচ্ছে।

ভোটারবিহীন সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে পৃথিবীর মধ্যে সবচাইতে রক্তাক্ত সীমান্ত এখন বাংলাদেশের সীমান্ত। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকা এখন দক্ষিণ এশিয়ার একটি ভয়ঙ্কর বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, তামাম দুনিয়ায় এই ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যার নজির নেই। পৃথিবীর কোনো আইনেই এর সমর্থন নেই। সীমান্ত হত্যা বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ যারা এসব ঘটাচ্ছে, তারা রেহাই পেয়ে যাচ্ছে। বিএসএফ আত্মরক্ষার কথা বললেও অস্ত্র হাতে কোনো বাংলাদেশি মারা যাওয়ার নজির নেই। অথবা এ বিষয়ে ভারত কখনোই অভিযোগ করেনি বাংলাদেশের নিকট। কেউ সীমান্ত অতিক্রম করে থাকলে তাকে আইনের আওতায় নেয়া হোক।

বিএনপির এই নেতা বলেন, গুলি করে মারার এখতিয়ার কারও নেই। বিএসএফের বিতর্কিত শ্যুট-অন-সাইট (দেখামাত্র গুলি) নীতি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বহাল আছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে বিএসএফ বিনা কারণে বাংলাদেশি নাগরিককে গুলি করতে পারে। কারণ সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা বন্ধে বর্তমানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা নেই।

তিনি আরও বলেন, ১৯৬৮ সালে আইয়ুব-মোনেমের ছাত্র সংগঠন এনএসএফে’র নেতা আবদুল মোমেন এখন নিজের মন্ত্রিত্ব রক্ষায় সরকারকে খুশি করতে বাংলাদেশের মর্যাদা নিয়েই টান দিয়েছেন। নিশিরাতে বিনা ভোটে এমপি হওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে প্রথমেই বিশ্বে এক নতুন ধরনের কূটনীতির ঘোষণা দিয়েছিলেন আবদুল মোমেন। বলেছেন, বাংলাদেশ ভারত নাকি ‘স্বামী-স্ত্রীর কূটনীতি’। আবার বলেছেন ‘রক্তের সম্পর্ক’। এসব আবার কোন ধরনের কূটনীতি? বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন এমন আজগুবি ও মেরুদণ্ডহীন কূটনীতির জন্ম দিয়ে আবদুল মোমেন লজ্জিত না হলেও দেশের জনগণ লজ্জিত। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল মোমেন এমন কূটনীতি চালু করেছেন তা শুধু উজাড় করে দেয়ার, নেয়ার নয়। সীমান্ত হত্যা বন্ধ হয়নি। পদ্মা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা এখনো পাওয়া যায়নি।

সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে দলটির কর্মসূচি জানাতে গিয়ে রিজভী বলেন, সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে আগামীকাল সোমবার দেশব্যাপী জেলা ও মহানগরে দলীয় কার্যালয়গুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন এবং নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ/কালো পোশাক পরিধান করবে। এই কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের জন্য বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে অনুরোধ করছি।