প্রেমিক যুগলকে ধরতে গিয়ে গণপিটুনিতে আহত ৩ পুলিশ

বাংলাদেশ মেইলঃঃ

কুমিল্লায় পালিয়ে যাওয়া প্রেমিক যুগলকে উদ্ধার করতে গিয়ে গণপিটুনিতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরে ৯৯৯-এ ফোন করলে বুড়িচং ও দেবিদ্বার থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই তিন পুলিশ সদস্যকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। পাশাপাশি ওই যুগলকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পোস্ট অফিস রাম্পুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের বিহারমন্ডল গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের মেয়ে মোহনপুর পাবলিক কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী আখী আক্তারের সঙ্গে প্রতিবেশী সামসুল হকের ছেলে মো. ইউছুফের সাথে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এক মাস পূর্বে তারা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। পরিবারের আশ্বাসে বিয়ের ১০ দিন পর তারা ফিরে আসেন। ২৩ ডিসেম্বর পুনরায় আখীকে তার পরিবার পার্শ্ববর্তী এলাহাবাদ ইউনিয়নের সিঙ্গারী খোলা গ্রামে বিয়ে দেন। বিয়ের দুই দিন পর রোববার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নতুন দম্পতি কনের বাড়িতে আসলে আখী প্রেমিক স্বামী ইউছুফকে নিয়ে পালিয়ে যান। ওই ঘটনায় সোমবার আখীর মা নূরজাহান বেগম বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় একটি অপহরণের অভিযোগ দাখিল করেন।

পুলিশ বাড়িতে গিয়ে ইউছুফকে না পেয়ে তার বড় ভাই ইব্রাহিমকে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ ইউছুফকে জানায় ফিরে না আসলে আটক ভাইকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেবে। ইউছুফ তার প্রেমিকাকে নিয়ে বুড়িচং উপজেলার পোস্ট অফিস রাম্পুর এলাকা থেকে বাসযোগে থানায় আসতে চাইলে প্রেমিকা অস্বীকৃতি জানান। এ সময় তারা মেয়ের আত্মীয়দের কাছে আটক হয়।
খবর পেয়ে দেবিদ্বার থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক ইকরামুল হক দুইজন কনস্টেবলসহ সিভিল পোশাকে হাজির হয়ে ইউছুফকে আটক করে। পুলিশ প্রেমিক ইউছুফকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তার তলপেটে সজোরে লাথি মারলে ব্যথায় সে অচেতন অবস্থায় মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা এ নিয়ে পুলিশের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা পুলিশকে গণপিটুনি দেয়। স্থানীয়দের নিকট পুলিশ সদস্যরা প্রাণ ভিক্ষা চান। এ সময় আব্দুল গফুর নামে এক যুবক তিন পুলিশকে উদ্ধার করে একটি ঘরে নিয়ে ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে দেবিদ্বার ও বুড়িচং থানার দুই ওসিসহ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা এসে আহত তিন পুলিশ ও প্রেমিক যুগলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

দেবীদ্বার থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক ইকরামুল হক জানান, ঘটনাস্থলে দুইটি গ্রুপ সৃষ্টি হওয়ায় আমাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।

বুড়িচং থানার ওসি মোজাম্মেল হক জানান, আমাদের অবহিত না করে আমাদের থানা থেকে আসামি ধরতে আসলেও যেহেতু অভিযোগটি দেবিদ্বার থানার সেহেতু ওই থানায় মামলা হতে বাধা নেই। আহত ইউছুফ আমাদের জানিয়েছেন, পুলিশের লাথি নয়, মৃগী রোগ থাকায় তিনি অচেতন হয়ে পড়েছিলেন।

দেবীদ্বার ও ব্রাক্ষণপাড়া থানার সার্কেল এএসপি আমিরুল্লাহ জানান, দেবিদ্বার থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক ইকরামুল হকসহ তিন পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।