চট্টগ্রামে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে মাটি বাহারের সিন্ডিকেট

বাংলাদেশ মেইল

নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানা এলাকায় পাহাড় কাটা, চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্য, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে মাটি বাহারের একটি সিন্ডিকেট।

বায়েজিদ বোস্তামি থানাধীন চৌধুরী নগর এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাহারের বাবা লাল মিয়া ছিলেন চৌধুরী নগর হাসান সাহেবের খামারবাড়ি সহ দুটি পাহাড়ের দারোয়ান। বাবা মারা যাওয়ার পরে পৈতৃকসূত্রে ওই দায়িত্বটি পেয়েছিলেন বাহার, দারোয়ানের পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন পাহাড় কাটার চুক্তি করতেন বাহার। চার-পাঁচটি পাহাড় কাটার পরে এলাকায় বড় বড় পাহাড় কাটার কন্টাক্ট পেয়েছেন বাহার, কয়েক বছরে অন্তত চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ টি বড় বড় পাহাড় কেটে হয়ে গেছেন কোটি টাকার মালিক, বর্তমানে চন্দ্রনগর কিষোয়ান কারখানার পিছনে রয়েছে একটি বহুতল ভবন বেশ কয়েকটি প্লট পাহাড়ের কোলে ছোট ছোট ভাড়া ঘর। একপর্যায়ে চৌধুরী নগর চন্দ্রনগর শ্যামল ছায়া সহ আশপাশ এলাকায় অসংখ্য পাহাড় কেটে কোটি টাকার মালিক এখন বাহার, রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি ও একাধিক প্লট, এলাকায় ঐতিহ্য বাহী পাহাড় গুলো এখন বিলীন হয়ে গেছে এলাকাটি একসময় পাহাড়ি এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল বর্তমানে এলাকার পাহাড় শূন্যতা হয়ে পড়েছে।

মাটি বাহারের সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি নগরীর নগরীর বায়েজিদ এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছে একাধিক মামলার আসামি বাহার উদ্দিন ওরফে মাটি বাহার।

অভিযোগ রয়েছে, যে কোনো ঘর বাড়ি নির্মাণ কাজে তাদের চাঁদা দিতে হয়। সরকারি পাহাড় দখল করে প্লট বানিয়ে বেচাকেনা, শিল্প কারখানায় চাঁদাবাজি করে বিপুল অর্থের মালিক হয়ে গেছে সিন্ডিকেটের সদস্যরা। সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়েছে কে কোন এলাকায় চাঁদাবাজি জুয়া মাদক ব্যবসা ও পাহাড় কেটে টিন দিয়ে ঘেরাও করে ফ্লাট তৈরি করা।

মোঃ আনোয়ারের দায়িত্ব হচ্ছে নাগিনী পাহাড় সহ আশ পাশের এলাকা নিয়ন্ত্রণ করা, মোঃ নাসির এর দায়িত্ব হচ্ছে চৌধুরী নগর মাঠ ও হাসান সাহেবের খামারবাড়ি সহ আশপাশের এলাকায় নিয়ন্ত্রণ করা, মোঃ শাহাজাহান দায়িত্ব হচ্ছে সেগুন বাগান সহ আশপাশের এলাকায়, মোঃ হানিফ দায়িত্ব হচ্ছে শ্যামল ছায়া মোজাফফরনগর মেরিন সিটি আশপাশের এলাকা, এসব এলাকায় অধিকাংশ বাড়ি বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ চলিতেছে এখানে হানিফের থেকে ইট বালু কিনতে বাধ্য হচ্ছেন বাড়ি নির্মাণ কারিরা, না হলে নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন রাতের বেলায় ইট বালি চুরি করে নেয় ওরা, যার কারণে অসহায় হয়ে প্রত্যেকটি ইট তিন থেকে চারটা করে বাড়তি দামে কিনতে হয় ওদের থেকে, প্রতি গাড়ি বালু ওদের থেকে কিনতে হয় পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা করে বেশি দামে কিনতে হয় হানিফ থেকে। এদেরকে এলাকায় চার খলিফা নামে পরিচিত এর নেতৃত্বে রয়েছেন কয়েকটি কিশোর গ্যাং। বাহার প্রাকাশ মাটি বাহার আনোয়ার, নাসির, শাহাজাহান,হানিফ সহ এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে রয়েছে চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা।

পাহাড়কাটা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি আর জুয়ার আসরের অবৈধ অর্থে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে জানা গেছে। তাদের ভয়ে রীতিমত তটস্থ বায়েজিদ চন্দ্রনগর, শহীদ নগর, চৌধুরী নগর, গ্রিনভ্যালি, নীলাচল, ডেবার পাড় ও বলবিথীসহ জেড আবাসিক ও এলাকার বাসিন্দারা। চারজনই সেখানকার হর্তাকর্তা। দিনের আলো কিংবা রাতের আঁধারে এস্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কাটা, সরকারি-বেসরকারি ভূমি দখল, আর জুয়ার আসর সবই চলে বাহারের নির্দেশে।

পুলিশের সুত্রমতে দেখা যায়, বাহার উদ্দিন ওরফে মাটি বাহারের নামে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তার পিতার নাম মৃত লাল মিয়া দারোয়ান। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে। বায়েজিদ এলাকায় পাহাড় কাটার কারণে তার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তা তাহাজ্জুত আলী বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলার ১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি বাহার। একই ভাবে সোর্স আনোয়ার বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক মামলা। আনোয়ারের পিতার নাম আবদুর রব। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীন নগরে। বর্তমানে আনোয়ার হোসেন একটি ধর্ষণ মামলায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

পেটকাটা বাবর র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর বাহার সহ এই চারজনই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলে বাহার ভোর পাল্টে যুবদল থেকে যুবলীগে যোগ দেয়। সরকারি-বেসরকারি পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি এবং পাহাড় কেটে অন্যকে জায়গা খালি করে দেয়ার কারণে সে মাটি বাহার নামে পরিচিতি লাভ করে। বায়েজিদের যেখানেই পাহাড় কাটা হয় সেখানেই বাহার সিন্ডিকেট। তাদের অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণে যেসব সন্ত্রাসীরা কাজ করে তারা হল মোঃ আনোয়ার, মোঃ নাসির, মোঃ শাহাজাহান, মোঃ হানিফ।

চন্দনগর চৌধুরী নগর সহ আশপাশের এলাকায় একাধিক পাহাড়-কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাহমুদুল হক বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ আসলে আমরা আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করি, গত ১৭,১২,২০০তারিখ চৌধুরী নগর এলাকায় পাহাড় কাটার দায়ে বাহার নামে এক ব্যক্তিকে দশ হাজার টাকা জরিমানা করা হচ্ছে, পরিবেশ অধিদপ্তর বাদী হয়ে বাহার সহ কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে বিজ্ঞ আদালতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় বাহারের নামে একাধিক বার পাহাড় কাটার দায়ে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে বেশ কয়েকবার জরিমানা ও মামলা দেয়া হয়েছে তাতেও থামেনাই পাহাড় কাটার মিশন। আমাদের পুরো এলাকাটি বর্তমানে পাহাড় নেই বললেই চলে।

বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি প্রিট্ন সরকার বলেন, দুটি অভিযোগ হয়েছে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।