কর্ণফুলীতে শিশুকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

বাংলাদেশ মেইল

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটায় ইমতিয়াজ খাঁন (৮) নামক এক শিশুকে পিছন থেকে দৌঁড়ে এসে ধরে পাশবিক নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক মো. জকির (২৭) এখনো পুলিশের ধরা ছোয়ার বাহিরে রয়েছে।

গত বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার সময় উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের মোহছেন আউলিয়া পাড়ায় ঘটনাটি ঘটলেও জানাজানি হয় পরে। কিন্তু ঘটনার পরপরেই থানায় অভিযোগ করেছেন বলে ভুক্তভোগিরা জানান।

অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলী থানার ওসি মো. দুলাল মাহমুদ। কর্ণফুলী জোনের এসি ইয়াসির আরাফাত জানান, ‘ভুক্তভোগি শিশুর পিতা যেহেতু থানায় অভিযোগ করেছেন। অবশ্যই পুলিশ তদন্ত করে দ্রত ব্যবস্থা নেবেন।’

স্থানীয় লোকজন ও ঘটনা সুত্রে জানা যায়, ঘটনার ৮-১০ দিন আগে একই এলাকার মৃত নজির আহমদের ছেলে মো. জকিরের ভাতিজাসহ কয়েকজন শিশুরা মিলে মাঠে খেলতে যায়। খেলার মাঠে মো. সেলিম খানের ছেলে ইমতিয়াজের সাথে ঝগড়া লাগে। শিশুদের ঝগড়া খেলার মাঠেই শেষ হলেও কিন্তু এর ঘটনার জের ধরে ২৯ ডিসেম্বর সেলিম খানের বাসায় দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে বসে প্রতিপক্ষরা। এতে বাড়ির গৃহকর্ত্রী ইয়াছমিন আক্তারসহ উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হয়। থানায় অভিযোগ করে দুপক্ষই।
পরের দিন আবার রাস্তা দিয়ে খেলতে যাওয়ার সময় ছোট শিশু ইমতিয়াজকে ধরে মো. জকির মাথার উপরে তুলে রাস্তায় আছাড় মারেন। এমনিক ঘটনাস্থলের অদুরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে এ দৃশ্যে দেখা যায়, উপর্যুপরি কিল-ঘুষি-লাথি মারার ভয়ানক দৃশ্য। যা দেখলে গাঁ শিউরে ওঠে। শিশুটিকে মারধরের ফলে তার নাকে মুখে রক্ত ও বমি আসে। একজন শিশুর উপর এ কেমন পাষন্ড নির্যাতন। জানা যায়, আহত শিশু স্থানীয় এক মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।

এদিকে, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা মো. সেলিম খান বলেন, আমার স্ত্রী ও ছেলে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি কিন্তু কোন কপি দেয়নি আমাকে। এমনকি কোন ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি সদস্য মো. ফরিদ জুয়েল বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৮ বছরের এক শিশুকে মারধর করা হয়েছে। মারধরের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে এলাকায়। আমার কাছে জানানোর সাথে সাথে থানায় পাঠিয়ে দিয়েছি।
ঘটনার অভিযোগ তদন্ত কর্মকর্তা কর্ণফুলী থানার এএসআই মোস্তফা সরোয়ার বলেন, ভুক্তভোগীদের পরিবারের সাথে কথা হয়েছে। তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।