চট্টগ্রামের রাউজানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হকের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

বাংলাদেশ মেইল ::

 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, রাউজান থানা আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, ১১নং পশ্চিম গুজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং যুদ্ধকালীন মুজিব বাহিনী প্রধান, রাউজানে সমবায় আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মুক্তিযোদ্ধা এ.কে ফজলুল হক চেয়ারম্যান-এর তেত্রিশতম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

 

এ উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন আয়োজনে বক্তারা বলেছেন, দেশ মাতৃকার তরে যুদ্ধ করে জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন ‘মুক্তিযোদ্ধা’ অভিধায় অভিধিত হয়ে তিনি ক্ষান্ত হননি, যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বদেশ বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে নিরলসভাবে কাজ করে প্রান্তিক জনপদের জননায়কে পরিণত করেছেন নিজেকে।

যেখানে অন্যায়, অসাধুতা, ভন্ডামি, নোংরামি সর্বোপরি সব খারাপের বিরুদ্ধে তিনি সততার খড়গ হাতে দাঁড়িয়েছেন। বিপ্লবতীর্থ রাউজানের সূর্য সন্তান হিসেবে যুগ যুগ ধরে তিনি বেঁচে থাকবেন।

বিভিন্ন সংগঠন উদ্যোগে বছরব্যাপী নানা কর্মসূচির প্রথম ধাপে সদ্য জয় বাংলা অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত সংগঠন সেন্ট্রাল বয়েজ অব রাউজান-এর উদ্যোগে এবং সমাজ, সংস্কৃতি, উন্নয়ন, মানবাধিকার, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তচিন্তার জবাবদিহিমূলক সংগঠন আমরা করবো জয়-এর সার্বিক সহযোগিতায় গতকাল (৯ জানুয়ারি) মরহুমের নিজ গ্রামে (হযরত আলহাজ¦ ওচমান আলী মাস্টার (রহঃ)-এর বাড়ি) অনুষ্ঠিত আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন রাউজান পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও রাউজান থানা যুবলীগের সভাপতি জননেতা জমির উদ্দিন পারভেজ।

বিশিষ্ট সমাজসেবক, সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মো. এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি সাইদুল ইসলাম। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট উত্তর জেলা সভাপতি শিক্ষাবিদ মঈনুদ্দিন কাদের লাভলু ও সেন্ট্রাল বয়েজ অব রাউজানের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ জামাল নকিবের যৌথ সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লায়ন মো. সাহাব উদ্দিন আরিফ বি.এ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন দেশ টেলিভিশনের বিভাগীয় প্রতিনিধি সাংবাদিক নেতা সৈয়দ আলমগীর সবুজ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি চট্টগ্রাম জেলার আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা ওসমান গণি সোহাগ এবং প্রচার ও গণমাধ্যম সম্পাদক, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা সনেট চক্রবর্তী।
অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন-উত্তর জেলা শ্রমিক লীগের অর্থ সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিন, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, উপজেলা যুবলীগ নেতা মো. সাবের হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মো. আবু তৈয়ব, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোলাইমান মেম্বার, রাউজান পৌরসভা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আসিফ, স্থানীয় ইউপি সদস্য বোরহান উদ্দিন রুবেল, মিজবাহ উদ্দিন রাসেল, ওয়েল গ্রুপের জিএম শওকত নোমান বাবু, তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা শওকত হাসান, উন্নয়ন সংগঠন ইপসা’র কর্মকর্তা শওকত হাফেজ রুবেল, মো. মফিজ মেম্বার, মো. আরিফুল ইসলাম, মো. মাসুক হোসেন প্রমুখ।

পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন মরহুমের কনিষ্ঠ পুত্র চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যানবিদ আলহাজ¦ শওকত আল-আমিন ওসমানী টিটু।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ‘মুক্তিযোদ্ধা’কে আশ্চর্য অভিধা অভিহিত করে জমির উদ্দিন পারভেজ বলেন, যত দিন বাংলাদেশ থাকবে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এ.কে ফজলুল হকের আকৃত্রিম অর্জন অম্লান ও অজেয় থাকবে। কেউ চাইলেই কোন কিছুর বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধা হতে পারবেন না। এটি অমূল্য অর্জন। জীবদ্দশায় জনাব ফজলুল হক মানুষের তরে ভালো কর্মযজ্ঞের যে সূচনা করে গেছেন দীর্ঘ তেত্রিশ বছর পরও তাঁর পরবর্তী প্রজন্ম সেটি অক্ষুণ্ণ রেখেছেন। এখানেই তিনি স্বার্থক এবং সফল।

প্রধান বক্তা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন আরিফ বলেন, ইউনিয়নের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তাঁর অবদান ইউনিয়নবাসী যুগ যুগ ধরে স্মরণ করবেন।
সভার আগে নেতৃবৃন্দ মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং শেষে স্থানীয় দুঃস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।