১৩ নং পাহাড়তলীতে এবারের নির্বাচনে জটিল সমীকরণ

বাংলাদেশ মেইল ::

প্রার্থীদের গণসংযোগ আর প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠছে আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন  নির্বাচন। প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নিয়ে প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারের দ্বারে দ্বারে। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন পরিছন্ন আধুনিক নগর গড়ার। প্রত্যেকেই নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি। আর ভোটাররা বলছেন, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নেবেন তারা

১৩ নং পাহাড়তলী ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট, অলিগলি ও পাড়া-মহল্লা এখন মিছিল আর স্লোগানমুখর। ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বসতবাড়িতেও এখন আলোচনার বিষয় শুধু নির্বাচন। প্রার্থীরা ভোট চেয়ে চষে বেড়াচ্ছেন তাদের নির্বাচনী এলাকা।

এই ওয়ার্ডে মোট ভোটার ৫৫৭৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৮৬২৬ জন, নারী ভোটার ২৭১৭০। এবাবের নির্বাচনে চারজন প্রার্থী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনে আ লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী তরুন ও সাবেক ছাত্রনেতা ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী। একই পদে  বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর দুলাল,আ. লীগ ঘরোনার বিদ্রোহী প্রার্থী  মাহমুদুর রহমান,  অতুন বিশ্বাস । সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন হিরন এবার দলের মনোনয়ন লাভে ব্যর্থ হওয়ায় তার লোকজন মাহমুদুর রহমানের পক্ষে কাজ করছেন। আ. লীগের একটি পক্ষ মনোনয়নে পরিবর্তন আনতে কেন্দ্রে চিঠিও দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী।

আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী  ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী  ব্যাপক গণসংযোগ করে বেড়াচ্ছেন। তিনি জানান, কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাহাড়তলি ওয়ার্ডের সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি খুলশী-ঝাউতলা-ওয়ায়েরলেস কলোনী-ফয়েজ লেগ এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং যানজট নিরসনসহ মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানের মাধ্যমে আধুনিক ওয়ার্ড গঠনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত
নৌকা (মেয়র) ও নিজের প্রতীক লাটিম মার্কার প্রচারণায় রবিবার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেছেন ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী। আনুুষ্ঠানিক প্রচারনার  ৩য় দিনে রবিবার এক্স.ই.এন কলোনি,হাসপাতাল কলোনি,লোক কলোনিতে গণসংযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে সমানভাবে প্রতিটি ঘরে ঘরে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম দুলাল। যদিও তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগকর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় তার ব্যানার ও পোস্টার ছিড়ে ফেলেছে। এছাড়া তিনি ইভিএম ভোটিং পদ্ধতির ত্রুটি নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন। যদিও প্রত্যেক ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রধানের আহ্বান জানান তিনি।

১৩ নং পাহাড়তলী ওয়ার্ডে রেডিও মার্কায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়েছেন কাউন্সিলর প্রার্থী মো. মাহামুদুর রহমান। ৯ জানুয়ারি সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত ১৩ নং পাহাড়তলী ওয়ার্ডস্থ পশ্চিম খুলশী, বিএডিসি গেইট, জালালাবাদ, মুক্তিযোদ্ধা আবাসিক, লোহাগাড়া হাউজিং এলাকায় তিনি নির্বাচনী গণসংযোগ পরিচালনা করেন। তার গণসংযোগে সাবেক কাউন্সিলর হিরনের ঘনিষ্ঠ লোকজনকে অংশ নিতে দেখা যায়।

কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে ব্যাক্তি ইমেজে ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত হিরনের ভােট ব্যাংকের কারনে লাটিমের বিজয় নিয়ে শংকা থেকেই যায়। নগরীর এমইএস কলেজের ভিপি হিসেবে তরুন ভোটারদের কাছে ওয়াসিমের গ্রহনযোগ্যতা রয়েছে। কিন্তু সাবেক কাউন্সিলরের স্নায়ু দ্বন্দ শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠ জটিল জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারনা স্থানীয়দের।

এলাকার বেশ কয়েকজন ভোটারের সাথে আলাপ করে জানা যায়, এই ওয়ার্ডের পাহাড় ও সরকারী জায়গা দখলের সিন্ডিকেট ওয়াসিম উদ্দিনের বিপরীতে অর্থলগ্নি করছেন নিজেদের স্বার্থে। দলীয় বিবেচনার চেয়ে দীর্ঘদিনের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এই ওয়ার্ডে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জামাত ঠেকাও শ্লোগানে মোহাম্মদ হোসেন হিরন নির্বাচিত হলেও এবার মাঠের পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। সাবেক জামায়াত সমর্থিত কাউন্সিলর মাহফুজ বিভিন্ন মামলা মাথায় নিয়ে দেশত্যাগ করেছেন গত নির্বাচনের পর। এবারের নির্বাচনে মাহফুজ মাঠে না থাকায় জামায়াতের সমর্থন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিপরীতে যেতে পারে।

একইভাবে নিজ নিজ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে পাড়া-মহল্লা চষে বেড়াচ্ছেন নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। সবাই নিজ নিজ প্রতীকে ভোট দিতে ভোটারদের কাছে অনুরোধ জানান।

পিছিয়ে নেই মহিলা প্রার্থীরা। তারাও মা-বোনদের ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী তসলিমা বেগম বলেন, আমি মানুষের জন্য সবসময় কাজ করি। মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়াই। আশা করছি, ভোটাররা আমাকে বঞ্চিত করবেন না।

গত ২৭ জানুয়ারী করোনার কারনে স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন  নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে । এ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রায় ৬ বছর পর  নগরবাসী পেতে যাচ্ছেন নতুন অভিভাবক।

আগামী ২৭ জাাাানুয়া ইলেকট্রনিক  ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৭ জানুয়ারির নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতিতে ৭৩৫ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৪ হাজার ৮৮৬ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ৯ হাজার ৭৭২ জন পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। ইভিএমের মাধ্যমেই ভোটগ্রহণ হবে।

চসিক নির্বাচনে ৪১টি ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৯২ হাজার ৩৩ জন ও নারী ভোটার ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৩ জন।