নগরীতে বহুমুখী পরিচয় দানকারী প্রতারক আটক

বাংলাদেশ মেইলঃঃ

একাধারে তিনি একজন সাংবাদিক,পত্রিকার সম্পাদক,ব্যারিষ্টার কিংবা মানবাধিকার কর্মী,ও আইনজীবি। এইভাবেই নানামুখি প্রতারনায় সাধারণ মানুষের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আসছিলেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি খুলনা জেলার কামরুল ইসলাম হৃদয়ের।

মঙ্গলবার(১৯ জানুয়ারী) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের কোর্ট পাড়ার শাপলা ভবন থেকে তাকে আটক করেছে জেলা আইনজীবী সমিতির টাউট উচ্ছেদ কমিটি।

অভিযুক্ত ব্যক্তি নগরীর কলসি দিঘীর পাড় এলাকায় থাকেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

পরবর্তীতে তার কাছ থেকে ভূয়া ভিজিটিং কার্ড ও আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এসব কার্ডে সে নিজেকে ওয়ার্ড ব্যাংকের কর্পোরেট কনসালটেন্ট ও সাউথ এশিয়ান ল’ইয়ার্স ফোরামের আন্তর্জাতিক সম্পাদক বলে দাবি করেন। এছাড়াও লন্ডন ও ইউকে থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন বলেও সে তার কার্ডে উল্লেখ করেন। কার্ডে সে সুপ্রীম কোর্ট এলাকার নিজের দু’টি ঠিকানা ব্যবহার করেছেন।

মূলত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংক্রান্ত একজন ভুক্তভোগীর সাথে প্রতারণা করার সময় তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানান জেলা আইনজীবী সমিতির পাঠাগার সম্পাদক সানজিক আকবর।

তিনি বলেন, প্রতারক এ ব্যক্তিতে প্রায় ১ বছর ধরে আমরা খুঁজছিলাম। কিন্তু তাকে পাচ্ছিলাম না। অবশেষে আজ (মঙ্গলবার) সে ধরা দিয়েছে। এ জন্য আমাদের কৌশল প্রয়োগ করতে হয়েছে। সে এখন আমাদের হেফাজতে রয়েছে। তাকে কোতোয়ালী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সে সাথে তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলাও দেয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতারক কামরুল ইসলাম হৃদয় আইনজীবী-ব্যারিস্টার, সাংবাদিক ও সম্পাদকের পাশাপাশি নিজেকে মানবাধিকার কর্মী ও লেখক ও পরিচয় দেন। প্রকৃত পক্ষে এসবের কোনোটির সাথে তার সম্পৃক্ততা নেই। মূলত সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করতেই সে এসব পরিচয় দেন।

আইনজীবী সমিতি জানায়, কামরুল ইসলাম দীর্ঘ দিন ধরে নিজেকে দ্য ব্যারিস্টার নামে একটি বুলেটিনের সম্পাদক ও বাংলাবাজার পত্রিকা নামের একটি পত্রিকার সম্পাদক পরিচয় দিয়ে আসছেন।

আইনজীবী নেতা সানজিক আকবর বলেন, আটক প্রতারক সম্পর্কে জানতে ঢাকার সুপ্রীম কোর্ট সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, এ নামের কোনো আইনজীবী বা ব্যারিস্টারকে তারা চিনেন না। বরং তারাও এ কামরুলকে একজন প্রতারক হিসেবে চিনেন।