হাটহাজারীতে রেলওয়ের জায়গা উদ্ধার

বাংলাদেশ মেইলঃঃ

 

চট্টগ্রাম হাটহাজারী উপজেলার নাজিরহাট রেল লাইনের পার্শ্বে বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন ২নং খতিয়ানের পূর্ব মন্দাকিনী মৌজায় ১৮২৭ দাগের ৫২ শতক জমি ভূমিদস্যু থেকে উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার (২০ও ২১ জানুয়ারি) উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শরীফ উল্যাহ’র দু দফা অভিযানে সরকারি খালটি দখলমুক্ত করা হয়।
জানা যায় রেলওয়ে থেকে এক বছরের জন্য লীজ নেয়া জমিতে কৃষি কাজ করবেন বলে ওই ভূমিতে গড়ে তুলেছেন স্থায়ী স্থাপনা, ভাড়া ঘর, পোল্ট্রি খামার। পাশাপাশি দখলে নিয়েছেন নিজের পাশের খালটি। গড়ে তুলেছেন বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট। স্থানীয় জনৈক সিরাজুল ইসলাম প্রকাশ ইসলাম কোম্পানি লীজের নামে নজিরবিহীন এসব অবৈধ দখলে মেতে উঠে।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুহুল আমিন জানান, সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায় দখলকারী ১৮২৭ দাগের ৯৩৯২.৫বর্গফুট বা ২১ শতক জমিতে ১৭টি সেমিপাকা ঘর এবং ২টি দোকান নির্মাণ করে প্রতিটি ঘর ৩-৪ হাজার টাকা করে প্রতিমাসে ভাড়া দিয়েছেন। একই দাগের ১১৬০২.৫ বর্গফুট বা ২৬ শতক জমিতে স্থায়ী ভিত দিয়ে দোতলা পাকা ভবন নির্মাণ করে স্থাপন করেছেন মুরগীর খামার।
এছাড়াও ৩.৮৩ শতক জমিতে নির্মাণ করেছেন বায়োগ্যাস প্লান্ট। ওই জমি তিনি শুধু দখলই করেননি একপাশে সুউচ্চ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছেন, দিয়েছেন বিশাল গেইট। খালের মধ্যে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহে বাধাঁর সৃষ্টি হবে।
অবৈধ দখলদারকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, রেলওয়ে থেকে লীজ নিয়েছেন। লীজের কাগজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি ১৪২৬ বাংলা সন পর্যন্ত কৃষি কাজের জন্য লীজ নিয়েছেন।
রেলওয়ের ভূমি উদ্ধারে তৎপর উপজেলা প্রশাসন বাংলাদেশ রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি ব্যস্থাপনা নীতিমালা-২০২০ এর ৩০ ধারায় বলা আছে, চাষযোগ্য কৃষি ভূমি ২ বছরের জন্য লাইসেন্স প্রদান করা যাবে। লীজ গ্রহীতা কৃষি কাজের জন্য ৩০ শতক জমি লীজ নিলেও বাস্তবে তা কৃষি জমি নয়। আর ৩০ শতক লীজ নিয়ে দখল করেছেন ৫১ শতক।
নীতিমালায় আবাসিক ঘর নির্মাণ নিষেধ থাকলেও ১৭টি ঘর ও দুইটি দোকান নির্মাণ করেছেন। দোতলা ফাউন্ডেশন দিয়ে স্থায়ী স্থাপনা অর্থাৎ দোতলা ভবন নির্মাণ করেছেন, এক সনা লীজে এরকম স্থাপনা নির্মাণ বিস্ময়কর। সুউচ্চ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছেন। খাল দখল করে বায়োগ্যাস প্লান্ট নির্মাণ করেছেন। আমরা সরকারি খাল দখলমুক্ত করলেও বাকি দখলের বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে বলেও জানান তিনি।